somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি.........

১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সন্ধ্যামালতী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : সন্ধ্যামনি, সন্ধ্যারাগ, সকাল সন্ধ্যা, কৃষ্ণকলি, ত্রিসন্ধ্যা, ।
Common Name : Marvel of Peru, Four o'clock Flower
Scientific Name : Mirabilis jalapa

সন্ধ্যামালতী যবে ফুলবনে ঝুরে
কে আসি বাজালে বাঁশি ভৈরবী সুরে।।
সাঁঝের পূর্ণ চাঁদে অরুণ ভাবিয়া
পাপিয়া প্রভাতী সুরে উঠিল গাহিয়া
ভোরের কমল ভেবে সাঁঝের শাপলা ফুলে
গুঞ্জরে ভ্রমর ঘুরে ঘুরে।।

----- কাজী নজরুল ইসলাম -----



সন্ধ্যামালতী গাছের বৈশিষ্ট্য
সন্ধ্যামালতী আমাদের অতিপরিচিত একটি ফুল গাছ। এটি একটি বহুবর্ষজীবী ভেষজ ঔষধি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। গাছটি সাধারণত ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার হয় এবং ঝোপালো আকৃতির হয়ে থাকে। এর কাণ্ড নরম ও শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট। রোদযুক্ত ও হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে এটি খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। সারা বছর ফুল ফুটলেও বর্ষা ও শরৎকালে ফুল ফোটার আধিক্য চোখে পড়ে।


নিবাস
সন্ধ্যামালতীর আদিনিবাস পেরু। পুরুর এই বাহারী রূপসী পৃথিবীর অনেক দেশেই ছড়িয়ে পরেছে এবং নিজের অবস্থান বেশ ভালো ভাবেই প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। আমাদের গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপের সাথে সন্ধ্যামালতী ফুলটি যেন অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। গ্রামের অনেক বাড়ির আঙিনায়, বারান্দার কোণে কিংবা উঠানের একপাশে এই গাছটি বিনা যত্নে বেড়ে ওঠে। তাছাড়া রাস্তার ধারে বা বাড়ির প্রবেশ পথের পাশে সন্ধ্যামালতী গাছ খুব সুন্দরভাবেই বেড়ে উঠতে দেখা যায়।


সন্ধ্যামালতীর নামকরণ
সন্ধ্যামালতী ফুলটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ফোটার সময়। সাধারণত বিকেলে বা গোধূলি বেলায় এই ফুল ফোটে এবং সারা রাত ফুটে থাকে। পরদিন সকালে রোদ বাড়ার সাথে সাথে ফুলগুলো চুপসে যায়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই একে "সন্ধ্যামালতী" বলা হয়। ইংরেজিতে একে "Four O'clock flower" বলা হয়, কারণ বিকেল ৪টার দিকেই সাধারণত এই ফুল ফুটতে শুরু করে।




কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি,
কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক।
মেঘলা দিনে দেখেছিলেম মাঠে
কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ।
ঘোমটা মাথায় ছিল না তার মোটে,
মুক্তবেণী পিঠের পরে লোটে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক
দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

----- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -----


সন্ধ্যামালতী ফুলের রঙের বৈচিত্র্য ও রূপ
সন্ধ্যামালতীর ফুলগুলো দেখতে অনেকটা ছোট চোঙা বা ট্রাম্পেটের মতো।
সন্ধ্যামালতী ফুলগুলো দেখতে অনেকটা ছোট চোঙা বা ট্রাম্পেটের মত। এই ফুলগুলি নানান রঙের হয়। একেক গাছে একেক রঙের ফুল হয়, যেমন- হালকা হলুদ, লাল, ম্যজেন্ডা, গোলাপী, সাদা ইত্যাদি। তবে মজার বিষয় হয়ে সন্ধ্যামালতীর একই গাছে একাধিক রঙের ফুল ফুটতে দেখা যায়। আরো মজার বিষয় হচ্ছে মাঝে মাঝেই দেখা যায় একই ফুলে একাধিক রঙের মিশ্রন রয়েছে। কখনো কখনো কিছু কিছু ফুলে বিভিন্ন রঙের ছোট ছোট তিল বা রেখা দেখা যায়। কিছু কিছু সন্ধ্যামালতী বাতাসে ছড়িয়ে দেয় হালকা মিষ্টি সুগন্ধ।



সাজাও আমারে সাজাও।
যে সাজে সাজালে ধরার ধূলিরে
সেই সাজে মোরে সাজাও।
সন্ধ্যামালতী সাজে যে ছন্দে
শুধু আপনারি গোপন গন্ধে,
যে সাজ নিজেরে ভোলে আনন্দে
সেই সাজে মোরে সাজাও।

----- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -----


সহজ বংশবিস্তার
সন্ধ্যামালতীর বীজ গুলি গোলাকার ও কুঁচকানো, অনেকটা ছোট কালো গোলমরিচের মতো। প্রথমে হলুদে সবুজ থাকে কিছুদিন পরে পরিপক্ক হওয়ার পরে কালো রঙের হয়। বীজ শুকিয়ে গেলে নিজে থেকে ঝরে পড়ে ও বাগানে ছড়িয়ে যায় এবং প্রাকৃতিক ভাবেই বিস্তার লাভ করে। এই বীজগুলো মাটিতে পড়লে খুব সহজেই নতুন চারা জন্মায়। এদের বিশেষ কোনো যত্ন নিতে হয় না। বলা চলে বিনা যত্নেই সন্ধামালতী তার রূপের পরসা সাজিয়ে বসে বিকেল বেলা। সন্ধ্যামালতী ফুল মৌমাছি এবং মথ জাতীয় পতঙ্গদের খুব আকৃষ্ট করে।



ঔষধি গুন ও ব্যবহার
- সন্ধ্যামালতী ফুল খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে রঙের কাজে ব্যবহার হতে পারে।
- কেক, জেলী ইত্যাদির রং হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- পাতা প্রদাহ কমাতে এবং ফোড়ার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- পাতার রস ক্ষতের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
- বীজের চূর্ণ প্রসাধনী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তবে এর বীজগুলি কিছুটা বিষাক্ত।
- মাথা ব্যথা নিরাময়ে, ক্ষত ধুতে শুকনো ফুলের গুঁড়ো ব্যবহার করে।
- কুষ্ঠেরর মতো ত্বকের চিকিৎসার জন্য মূল ব্যবহার হয়।
- ফুলের রস ক্ষত এবং কানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- মূলের রস কানের ব্যথা, ডায়রিয়া, আমাশয়, সিফিলিস এবং লিভারের সংক্রমণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
- মৌমাছি ও বিচ্ছুর কামড়ে ব্যথা নাশ করতে এর ডাল ব্যবহার করা হয়।
- পাতার রস খেলে দ্রুত কাশি কমে যায়।
- গাছের পাতার রস আগুনে পোড়া জায়গায় লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
- শিকড় সিদ্ধ করে খেলে পেটের ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।



জাগো কৃষ্ণকলি, জাগো কৃষ্ণকলি।
মধুকরের মিনতি মানো, ডাকে জাগো বলি’,
বিহগ-কাকলি।।
তব দ্বারে বারে বারে মন-উদাসী
ভোরের হাওয়া এসে বাজায় বাঁশি,
ফিরে গেল ভ্রমরা মউ-পিয়াসি —
অযথা বিতানে কানে কথা বলি।।
হের হাতের তার ফুলঝুরি ফেলে’ ধূলায়
উদাসী বসন্ত মাগে বিদায়,
দীরঘ-শ্বাস ফেলি ঝরা পাতায়।
চাহে রঙিন ঊষা তব রঙের আভাস
তব লাল আভায় লজ্জা পায় হিঙুল পলাশ।
এলো কোকিল তোমার রঙে খেলতে হোলি।।

----- কাজী নজরুল ইসলাম -----



তথ্য সূত্র : বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, অন্তর্জাল।
ছবি ও বর্ণনা : মরুভূমির জলদস্যু।
ছবি তোলার স্থান : উত্তর বাড্ডা, ঢাকা, বাংলাদেশ।
ছবি তোলার তারিখ : ১৫/০৮/২০২০ ইং
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×