অর্থ মন্ত্রী ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কেন এত অপছন্দ করেন, আল্লাহ্ মালুম। মনে হয় "ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী" শব্দটিতে "ক্ষুদ্র" আছে বলে। মিডিয়ার লোকেরা যদি লিমনের মত করে একসাথে বিনিয়োগকারীদের কথাটা তুলে ধরত! তাহলে হয়তঃ আমাদের মত হাজার লিমনের জীবন বাঁচত। আবার বলছি, আমরা আওয়ামী লীগ, বি এন পি বুঝি না। আমরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী, তাই এখানে ভুল বুঝার কারো অবকাশ নেই। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে শক্ত হাতে কলম ধরাই মূখ্য উদ্দেশ্য।
পুঁজি হারিয়ে রনি জামান মরে বেঁচে গেল। বাকীরা বেঁচেই মরে গেল। শেয়ার বাজারের প্রতি এই সরকার মোটেই আন্তরিক নয়। বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নরের ভাষায় এটা অনুৎপাদনশীল খাত। মাননীয় অর্থমন্ত্রী বললেন "এপ্রিল মাস থেকে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল আছে এবং স্থিতিশীল থাকবে" । শেয়ার বাজার মহা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে শুধু এই দুই ব্যক্তির ঔদাসিন্যের জন্য। শিক্ষিত মানুষ ও যে বড় তোষামুদে হয়, বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর তার প্রমান। প্রধান মন্ত্রীর মোসাহেবী বেশী করেন এই ব্যক্তিটি। শেয়ার বাজারে এই মহা ধস (ধস আইলা) মোসাহেবীপনার ফসল।
কি সেই মোসাহেবীপনা? এর বিশ্রী বিশেষণ চাটুকারীতা। শুনুন তাহলে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ঘরে ঘরে একজনকে চাকুরী দেয়া। এক দানবীয় স্বপ্ন। বায়বীয় প্রত্যাশা। নিয়োগের জায়গাটা কোথায়? যেখানে বিদেশী বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ, দেশীয় বিনিয়োগকে টুটি চেপে ধরা হয়েছে, সেখানে চাকুরীর লোভ দেখানো বাতুলতা ছাড়া আর কি? ভোটের জন্য ধোঁকা এটি।দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে চাকুরী দেয়া, তাও ঘরে ঘরে একজন, এমন ডাহা অসত্য ওয়াদা এ দেশের প্রধানমন্ত্রী করতে পারেন। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনই এমন বিশাল কাজটি করতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা যদি বলেন ,"আমি প্রশান্ত মহাসাগরে সেতু করব "আমিরিকানরা যেমন অবিশ্বাস করবে, ঠিক সেভাবে গরীব দেশের প্রধানমন্ত্রীর এ ওয়াদা ও আটলান্টিকে সেতু দেয়ার মত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও জানেন তিনি অসত্য বলেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর এই সুরটি রীতিমত সেধেছেন। প্রধান মন্ত্রীর কথা, তাই ইট সুড়কী নিয়ে সেতু করার কাজে লেগে গেছেন তিনি। পারি না পারি প্রধানমন্ত্রীর কথায় আগুয়ান হতে লজ্জা নেই। পরাজয়ে ডরে না বীর। চালু করলেন সিঙ্গেল এক্সপোজার লিমিট, বানিজ্যিক ব্যংকগুলোকে লাগাম দেয়া হল।ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানী, যেমন মারচেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকার হাউজকে আয়ের শতকরা ১৫ ভাগের বেশী ঋণ দেয়া যাবে না। দিলেও তা ডিসেম্বর ২০১০ এর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। মারচেন্ট ব্যংকগুলো শেয়ার বিক্রির প্রতিযোগিতায় নামল।সমন্বয় করতেই ধস ডেকে আনল। বলছিলাম অন্য কথা। ডঃ আতিয়ার চেয়েছিলেন শিল্প খাতে ঋণ দিয়ে দেশকে রাতারাতি শিল্পোন্নত দেশ করে প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ঠ হওয়া। সব শিল্পে চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি করে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করা। ডঃ সাহেব বলা শুরু করলেন শেয়ার বাজার নাকি অনুতপাদনশীল খাত। প্রধানমন্ত্রীর কটটুকু দোয়া তিনি পেয়েছেন জানি না, তবে দুই কোঠি মানুষের বদদোয়া নিয়েছেন এইটুকু নির্দ্বিধায় বলতে পারি। মানুষ তো সখে আত্বহত্যা করে না। কেউ সখ করে বলে না পুলিশকে, "আমাকে গুলি করে মেরে ফেল"। এর বড় একটা দায়ভার এই গভর্নরকে নিতে হবে। তা হোক দুনিয়ার এজলাসে বা আল্লাহর এজলাসে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১১ রাত ৯:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


