সরকার ও বিরোধী দলের কাছে দেশের জনগনের কোন দাম নেই। এরা ক্ষমতা চায়। এরা দেশের মানুষকে দ্বিধাবিভক্ত করেছে। বাঙ্গালীর ঐক্যে এরা ফাটল ধরিয়েছে। জাতির এ বিভক্তি কোনদিন উন্নতি বয়ে আনবে না। দাবা বোর্ডের আমরা এক একটা pawn বা ছক্কার গুটি বলতে পারেন। আমাদের নিয়ে যেভাবে খেলা হয়, সেভাবে খেলি। যেভাবে নাড়ায় সেভাবে নড়ি। বোর্ডের যে ঘরে বসিয়ে দেয়া হয় নিরুপোদ্রব বসে থাকি। আমাদের ইচ্ছা বা অনিচ্ছা বলতে কিছু নাই। খেলাড়ীর আদেশ তামিল করাই আমাদের মত গুটির ধর্ম। আমরা বন্দী হয়ে আছি খেলোয়ারের হুকুমী খাঁচায়। দেশের জনগন কি চায় আর হচ্ছেটা কি? রাজনীতিবিদরা হর হামেশা নৈতিকতার কথা শুনান আমাদের কিন্তু তাদের নীতিবান হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। একটা গল্প মনে পড়ে। এক কাঠমোল্লা ওয়াজে লাউডস্পীকারে ফুকার দিয়ে বলে, "ভাইবোনেরা! প্রতিবেশী গরীব থাকলে এবাদাত কবুল হবে না, অবশ্যই তাদের হক আছে আপনাদের উপর। দান খয়রাত প্রথমে তাদের করতে হবে। নয়ত জান্নাত হারাম হয়ে যায়"। মোল্লার বউ ঘর থেকে কান পেতে শুনেছে স্বামীর কথা। মোল্লার বউয়ের মন গলে যায় এক দরিদ্র প্রতিবেশীর উপর। সুতরাং যা করার তা করে ঘুমিয়ে পড়েছে। নিশীরাতের ওয়াজ শেষ করে মোল্লা ঘরে ফিরে এবং শুতে যায়। শীতে কাঁপুনি তার। কম্বল চাই। বউকে হাঁকে, "বউ কম্বল দাও"। বউ ছিঁড়া কাঁথাটি এনে দেয়। মোল্লা ভীষন রাগ করে। চিতকার করে মোল্লা, "কম্বল কই"। বউ শান্ত হয়ে জবাব দেয়, পাশের ছিন্ন কুঁড়েঘরে সোনাইর মাকে দিয়েছি। চালাবিহীন ঘরে কুয়াসা ঢুকছে। তোমার ওয়াজ শুনে বেচারীকে দিয়ে এসেছি"। মোল্লা রাগে গর গর করতে করতে বলে, "কুত্তি! এই ওয়াজ পরের জন্য, নিজের জন্য নয়"।
অবশ্য ইসলামের মহান সাধক এবং আল্লাহ্ ও রাসুলকে যারা পুরোপুরী মেনে চলে তারা এমনটি করে না। তাই আমার এই উদাহরণের জন্য কেউ যদি কষ্ট পায়, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বলতে চাচ্ছিলাম এটাই যে আমাদের রাজনীতিবিদরা যা বলেন তা তারা নিজে অনেকেই করেন না। অনেকের খাসলতে কাঠমোল্লার ধোঁকা আছে। তারা আমাদেরকে নীতির কথা শুনায়। সেবা ও দানের কথা বলে। বেশীর ভাগ রাজনীতিবিদ লোক দেখানোর জন্য পূন্য কাজে হাত দেন। রাজনীতিকে ব্যবসা মনে করেন। ব্যবসায়ে পুঁজি ও ঢালেন । এরকম কথা ও শুনেছি, কোন একজন সাংসদ নির্বাচিত হয়ে কাগজে স্বাক্ষরের জন্য ও ঘুস নিতে শুরু করে। আর বলে, "তোমরা আমাকে পয়সার বিনিময়ে ভোট দিয়েছ, আগে মুলধনটা তুলে নেই"। শুনা কথা, কেচ্ছা হলেও হতে পারে। তবে যা ইচ্ছা তা লোপাট করার অনেক কাহীনি আমাদের জানা আছে। এক ঝাঁক ওয়াদা করে তারা। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এমন কোন ওয়াদা নেই যে তারা করে না। হ্যাঁ, দুই একজন ব্যতিক্রম থাকলেও তাদের সংখ্যা এত কম তাদের কথা এখানে উল্লেখ করছি না।
খারাপ রাজনীতি ব্যবসায়ীরা দেশের মানুষকে দুইভাগে ভাগ করে ফেলেছে। লাঠি বৈঠা ও কাস্তের কথা আমাদের সবার জানা। হরতাল ও পালটা হরতালের দাঙ্গা আমাদের জানা। দেশে খুন জখমের আশি শতাংশ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
কনে বিয়ে দেবার সময় প্রশ্ন আসে, "বর কোন দল করে"? বরের বেলায় ও তাই। দুই দলে আত্মীয়তা হয় না। দল কি আমাদের ধর্ম, এটা ধরে না থাকলে বেহেশতে যেতে পারব না? আমাদের মেধা, বুদ্ধি, জ্ঞান রাজনৈতিক কোন্দলের কাছে মার খাচ্ছে। আফ্রিকার অনেক বর্বর জাতি গৃহযুদ্ধে লিপ্ত, যেমন সোমালিয়া, স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত সুদান ও ইথিওপিয়া। প্রশ্ন জাগে, আমরা তাদের থেকে এগিয়ে আছি তো? চলুন না আমরা এমন নোংরা রাজনীতিকে না বলি এবং ঐক্য ধরে রাখি। যে ঐক্যের বলে আমরা একদিন স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


