গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খায়রুল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করে না। যারা বিক্ষোভ করছে, তারা বিনিয়োগকারী না। তারা এখানে ফটকাবাজি করতে এসেছে। কেন তারা আশা করছে, প্রতিদিন শেয়ারের দাম বাড়বে। বাজার থেকে এরা বেড়িয়ে গেলেই ভালো।’
ফটকাবাজ বলতে বেগুন, মুলা বিক্রেতা নয় তো? ফটকাবাজ বলতে ফুটপাতের ঔষধ বিক্রেতা নয় তো? ফটকাবাজ বলতে হালকা মেজাজের টুনকো ব্যবসায়ী নয় তো? আই ওয়াস করে জলদী যারা টু পাইস কামায়, তারা নয় তো? এ সবের একটাও যদি হয়ে থাকে তাহলে আমরা বড় অপমানিত বোধ করছি। আর যদি ফটকাবাজ বলতে সম্মানিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বুঝিয়ে থাকেন তাহলে মাননীয় মন্ত্রী আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শক্তিতে কুলিয়ে উঠতে পারছি না বলে আপনাকে ইফতারে দাওয়াত করতে পারছিনা। কঠিন সময়ে বাজারটা ধরে রেখেছে ফটকাবাজরা। রাস্তায় যারা বিক্ষোভ করেছে তাদের মধ্যে ৫০/ ৬০ লাখ বা কোঠি টাকা বিনিয়োগ করেছেন এরকম অনেক ফটকাবাজ আছেন। পাঠকদের মধ্যে ও ৯০ শতাংশ ফটকাবাজ । কারন মাত্র ১০ শতাংশ হয়তঃ মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে সমর্থন করে। কারন এমন অনেক আছেন যারা আওয়ামী লীগকে অন্ধ পেয়ার করেন। তারা অর্থমন্ত্রীর উপর প্রসন্ন থাকলে ও থাকতে পারেন। দল হাদিস ও বেদ নয় যে একে ত্যাগ করা যাবে না। আমরা দুর্ভাগা জাতি। আমরা মরতে রাজী কিন্তু দল ছাড়তে রাজী নয়। যতই অপরাধ করুক, সে আমার দল। মনিকা সেইলসের সাথে যৌন কেলেংকারীতে ডেমোক্রেট ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা যদি শতকরা ৫৬ থেকে শতকরা ২৬ এ নেমে আসতে পারে। আর অপরাধ করলে আমাদের নেতাদের কেন জনপ্রিয়তা কমে না? হাসিনা খালেদা আর নেজামীর আবর্তে আমরা ঘুরপাক খেতে ভালবাসি কেন? এ বছর হাসিনাকে সমর্থন করলে আগামী বছর খালেদাকে সমর্থন করতে বাধা কোথায়? আমার দল অন্যায় করলে আমি অন্যায়ে থাকব কেন? অন্ধ দলবাজি আমাদের জন্য বড় অভিসাপ। অনেকে আবার আমার এ লেখায় রাজনীতির গন্ধ খুজতে চাইবেন। দুঃখিত। খালেদা নিজামী ও তথৈবচ। যাক শেয়ার বাজারের কথায় আসি। এখন থেকে শেয়ার বাজারের নামটা ফটকাবাজার দিলে আমরা ফটকাবাজরা খুব খুশী হতাম। কারন যে বাজারে নব্বই শতাংশ ফটকাবাজ আছে সে বাজারের নাম ফটকাবাজার হলে দোষের কি? ১৯৯৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কেউ ফটকাবাজ ছিল না। এখন এমন কি গুণ প্রকাশ পেল যে বিনিয়োগকারীরা ফটকাবাজ হল। তবে ফটকা শব্দের বিশ্লেষন প্রয়োজন। কারন ফটকাবাজ নামটা শুনে আমি মনে মনে খুশী হয়ে আছি। সম্মানের বড় কোন বিশেষণ হবে হয়তঃ। কেউ এর ব্যাখ্যাটা দিলে খুশী হব। আই কতদিন শেয়ারবাজার লা ওয়ারিশ কুত্তার মত এ ঘা ও ঘা খাবে। কে এর অবিভাবক? এস ই সি? মনে তো হয় না। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, "শেয়ারবাজার পতনে সরকার দায় এড়াতে পারে না। সরকারকে এই দায় নিতে হবে"।
প্রাতিষ্টানিক বিনিয়োগকারী পুঁজি বাজারে না এসে বাংলাদেশ ফান্ড এসেছে। বরের পিঁড়িতে ঘঠক বসেছে। তাইতো বিয়ে পন্ড হবার উপক্রম হচ্ছে ।
সন্দেহ হয়, শিকেটি পাহারা দেওয়ার জন্য বিড়ালকে নিয়োগ করা হল কিনা। যেখানে তারল্য সংকট, অব্যাহত দরপতন, সেখানে কেন আই পি ও চালু করা হল? নতুন আই পি ও ধরতে শেয়ার বিক্রয় আরো বেড়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পয়সা কই? প্রাথমিক শেয়ারগুলো তো আর মুপ্ত মেলে না। এই বুদ্ধি এস এ সি এর মাথায় আসল কিভাবে? প্রাথমিক শেয়ারের জন্য বাজারে বিক্রয়ের চাপ বেড়ে যায়, শুরু হয় নতুন দরপতন। আর এ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য বিগ প্লেয়ারেরা ওঁত পেতে আছে। সালমান এফ রহমান এর মত আলোচিত ব্যক্তিরা এখন নতুন ফর্মুলা দেয়। তারা তাদের নিজস্ব কোম্পানীর শেয়ার কিনবে। বাজার স্থিতিশীল করবে। মাছের মার পুত্রশোক। এস ই সি যেন বোকা দর্শক। অমনি রাজী হয়ে যায়। কিনার অনুমতি দেয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে ঘোষণা আসে সালমান এফ রহমান বেক্সিমকোর পাঁচ লাখ শেয়ার কিনবে। অনেকে খশী হল, এবার তাহলে দাম বাড়বে। এবার বিগ প্লেয়ার নতুন শর্ত জুড়ে দেয়। এস ই সি শেয়ারের সর্ব নিম্ন দাম নির্ধারণ করে দেবে, ঐ দামে আসা মাত্রই কোম্পানির ডাইরেক্টর / স্পন্সরেরা শেয়ার কিনতে শুরু করবে। অর্থটা কি দাড়ায়। অর্থাৎ ঐ দামের নিচে আর আসতে পারবে না। বিগ প্লেয়ার এর নিশ্চিত লাভ। কুকুরের বাচ্চাকে শৃগালের স্কুলে পড়তে দেয়ার মত।
এস ই সি অব্যাহত দরপতনের জন্য, কারো না কারো স্বার্থ রক্ষার জন্য আরো একধাপ এগিয়ে গেছে। মামলা টুকিয়ে দিল চার জনের বিরুদ্ধে। শুরু হল বড় বিনিয়োগকারীদের মাঝে চরম আতংক। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ হল। এইভাবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিয়ে শুরু হল বিড়াল ইঁদুর নিষ্ঠুর খেলা। আমরা বলছি না যে মামলা করা যাবে না। বাজারের অবস্থা বুঝে রয়ে সয়ে করলে হত না? এত তড়িঘড়ি কেন? আগে বাজার উঠুক, তারপর মামলা করা যেত। গোঠা ব্যাপারটা যেন একটা ফাঁদা ছকের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ৯৬ সালের দরপতনে সন্দেহভাজনদের মধ্যে সালমান এফ রহমান একজন। অবশ্য আরো অনেকে আছে। ২০১১ এর ধস আইলায় ও অনেকে দরবেশ বাবা বলে তাকে কটাক্ষ করেন ও সন্দেহ করেন অনেকে। এমনকি সংসদে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও এ বিশেষণটি ব্যবহার করেছেন। সেই আলোচিত ব্যক্তিটিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পরিষদে রাখা হল। তাহলে এই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও কি এস ই সির শিষ্য? একই পথে যাত্রা তাদের? সবার মনজিল মকসুদ কি এক? ...... ...... খালাত ভাই। লজ্জা লাগল বলে শূন্যস্থানটা লিখলাম না। যে শাকিল রিজভির নিজস্ব ব্রোকারেজ হাউস আছে তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাইভেসিটা ব্যবহার করবে না তো কে করবে? এরকম বিতর্কিত ব্যক্তিকে এখনো বহাল তবিয়তে রাখা হল কার ইশারায়? বিশাল এক নেটওয়ার্ক খাদকদের। বেচারা বিক্ষোভকারীরা অনেক চেয়েছে, "শাকিল রিজভীর পদত্যাগ চাই"। কে পদত্যাগ করাবে? রাজনীতিবিদরা পরস্পরকে গালমন্দ করেন। সংসদে একজন অপরজনকে যেভাবে গালাগালি করেন, তাতে ডোম চামারেরা ও লজ্জিত হয়। শুনেছি বেশ্যালয়ে পতিতারা শ্রেষ্ঠ গালমন্দ করতে জানে। শুনি নাই। লোকের কওয়া। সংসদে অনেক শিক্ষিত সাংসদরা যেভাবে একজন অপরজনের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করেন তা না জানি পতিতাদের ছাড়িয়ে যায় কিনা। দুর্জনেরা বলে, মেথরের মত। কিন্তু আশ্চর্য লাগে, যখন দেখি তারা এক জায়গায় এসে মিলে যায়। তা হল ব্যবসায়ে। ওখানে কেউ কাউকে গালাগাল করে নে। দহরম মহরম চোখে পড়বার মত। ওখানে আর রাজনৈতিক পরিচয় থাকে না। স্বার্থের প্রশ্নে বাঘে মোষে একঘাঠে পানি খায়। আমরা আম জনতা বুঝতেই পারি না যে এরা মাসতুতো ভাই। আমাদের শেয়ার বাজারে ও এই মাসতুতো ভাইদের পদচারনা দেখবার মত। যাকগে বলছিলাম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর কথা। আই পি ও তে উচ্চ মূল্যে শেয়ার ছাড়ার রহস্য কী? তদন্তের আগে এসব দেদার হয়েছে। তখন হিসেব কোথায় ছিল? এন এ ভি এবং ই পি এস এর সোজা অংকটি তখন মাথায় আসে নাই কেন? তদন্তের পরে অবশ্য তেমনটি হচ্ছে না। তার মানে শোধরেছে তা নয়, দুর্নীতির পরবর্তী দৌড়ঝাঁপ দেয়ার জন্য একটু ঝিরিয়ে নেয়া। রপ্ত অভিনয়ের ভালটা একটু রিহারসেল দেয়া। মোবিল যমুনার ৩৫ টাকা ফেরত ও দিয়েছে স্টেক হোল্ডারদেরকে। কোর্ট কাচারির মত শেয়ার বাজারে ও এখন খাই খাই মানুষেরা গিজ গিজ করছে। পিঁপড়ের দল এখন মিঠার উপর উপচে পড়েছে।
Warren Buffet বলেন, "পুঁজি বাজারে যদি Aljebra বেশী দরকার হত, তাহলে আমাকে এই ব্যবসা ছেড়ে পুরোনো পেশা – সংবাদপত্র বিক্রির কাজে ফিরে যেতে হত"। অনেকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অজ্ঞতাকে দোষেন। চেষ্টা করলে কম শিক্ষিত ব্যক্তিও শেয়ার ব্যবসা বুঝতে পারেন। এর পেছনে সময় দিতে হবে। একুশে টিভি ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত শেয়ার বাজারের উপর আলোচনা দেখুন। ডি এস ই নিউজ পড়ুন। লিষ্টেড কোম্পানীর অতীত ইতিহাস দেখুন। কোম্পানীর আয়ের রিপোর্ট দেখুন - ৩ মাসের, ৬ মাসের, ৯ মাসের, পুরা বছরের। এন এ ভি এবং ই পি এস দেখুন। পি ই অনুপাত অবশ্যই দেখবেন। এবার একটু একটু অগ্রসর হোন।
শেয়ারবাজারে সবকিছু ঠিকঠাক এর পরেও অপ্রত্যাশিত বাজারদর পরিলক্ষিত হয়। মার্কেট manipulation হলে পুজিবাজারকে কোন ফর্মুলায় ফেলা রীতিমত কঠিন। রাজনৈতিক অবস্থা ও অনেক ঘঠনাপ্রবাহ শেয়ারবাজারের উপর প্রভাব ফেলে। গুজবও শেয়ারবাজারকে অনেক নিয়ন্ত্রন করে। তাই বিনিয়োগকারীর উচিৎ এসবদিকেও একটু খেয়াল রাখা। ব্যবসায়ীদের চরিত্র কি? খদ্দের ও বিক্রেতা কি চায় এটা বুঝতে পারাটাও পুজিবাজারের অনুকুলে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে শেয়ার বাজারে আসা ভাল। সব উপদেশ দাতাদের সব উপদেশ নিজের বেলায় সফল নাও হতে পারে। সব উপদেশ দাতাদের সব উপদেশ যদি ফলপ্রসূ হত, সবাই অয়ারেন বাফেট হত। দেখেশুনে ভাল উপদেশ দাতার উপদেশ নিবেন। প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে নিজেই সমস্যার সমাধান করা সবচেয়ে উত্তম। তবে নিজের সংশয়গুলোর উত্তর কারো কাছ থেকে জেনে নেয়া ভাল। পৃথিবী বিখ্যাত বিনিয়োগকারী Waren Buffet বলেন, "অন্যের কথা ভালভাবে শুনবে, কিন্তু কাজ করবে নিজের বুদ্ধি দিয়ে"। তথাকথিত শেয়ারবাজার বিশ্লেকদের কথায় পরিপূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। উপদেশ থেকে সামান্য কিছু নেয়া যেতে পারে, যদে অভিজ্ঞ উপদেশদাতা হয়। অভিজ্ঞ উপদেশদাতা চিনতে নিজেকে পড়াশুনা করতে হবে। শেয়ার বাজার একটা বড় সাবজেক্ট। এটা কারো ছক অনুযায়ী চলে না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, Gambler এর দুষ্ট খেলা শেয়ারবাজারের গতিপথ নিয়ন্ত্রন করে আমাদের দেশে। সেজন্য নতুন বিনিয়োগকারীরা মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার কিনে সাধারনভাবে বছর শেষে Dividend নেয়া ভাল। এতে আর কোন ক্যালকুলেশন ও এলজেবরার দরকার নেই। তবে মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার চিনার জন্য আপনাকে প্ড়তে হবে পরে বিশদ আলোচনা হতে পারে ইনশাল্লাহ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


