কারনে অকারনে মাকে ধমকায় শাবুল। মা দিলারা চোখ মুছে। অশ্রু মাটিতে পড়তে দেয় না তবু, কারন এতে সন্তানের অমঙ্গল হয়। একদিন শাবুল দুপুরের খররোদে ঘরের ছাউনি ঠিক করতে ঘরের চালায় উঠে। মায়ের ভীষণ কষ্ট হয়, ভয়ে ভয়ে বলে,
- শাবু, নেমে আয় বাবা। ভীষন রোদ, গা পুড়ে যাবে বাপ।
- শয়তানি! চুপ থাক। পুড়লে আমার চামড়া পুড়বে, তোর কি?
শাবুলের ধ্মক মায়ের কলজে ছেদ করে। শাবুলের দুই বছরের এক ছেলে আছে।নাম টোনা। মা টোনাকে কোলে করে এনে উঠোনে রোদে বসিয়ে দেয়। শাবুল চেঁচিয়ে উঠে,
- কি করিস দজ্জালিনি? আমার টোনার যে রোদ লাগে।
- কষ্ট হয়?
- কি কস হারামি। ছেলের কষ্ট কোন বলদে সহ্য করে।
- তুই ও যে আমার ছেলে বাবা, আমি ও তোর কষ্ট সহ্য করতে পারি না বাপ।
শাবুল চটজলদি নেমে আসে ঘরের চালা থেকে। টোনাকে আদর করে, ছায়ায় নিয়ে আসে। কিছুটা হলেও আঁচ করে, মায়ের কি নিবিড় টান সন্তানের প্রতি। খোকার গায়ে রোদের ঘা দিলারা ও শাবুল বুঝে নেয় সমানভাবে। শাবুল মাকে জড়িয়ে ধরে জনমের কাঁদা কাঁদে। কিন্তু তখন সময় অনেক বয়ে গেছে। কারন অশীতিপর দিলারার বয়স এখন একাশি। এক পা এখন কবরে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১২ রাত ২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


