আমি রবির গ্রাহক। রবির শিকার যা ইংরেজীতে ভিক্টিম বলতে পারেন। এক সপ্তাহের একটি ইন্টারনেট পেকেজ আছে। দাম মাত্র বিশ টাকা। ভেট ৩ টাকা সহ সর্বমোট ২৩ টাকা। ইন্টারনেটে আমি শেয়ার কেনা বেচা করি বলে আমার এই পেকেজটি খুব দরকার। আমি শেয়ারবাজারে চিৎপটাং বিনিয়োগকারী। ছেলেমেয়েরা এই বলে দুষে যে শেয়ার বাজার নামক জুয়ার আড্ডায় আমি নাকি সব খুইয়েছি। দাঁতে দাঁত চিপে রাগকে হজম করি। কি করি? কথায় আছে "মরা হাতির উপর ব্যঙ ও ফাল মারে"। শেয়ার বাজার যে জুয়ার আড্ডা নয় বউ বাচ্চাদের কি করে বুঝাই? কথা শেয়ার বাজার নয়, কথা একটেল বা রবিকে নিয়ে। তাই সে কথাই বলছি।
মোবাইল কোম্পানীগুলো যে গ্রাহকদের ফাঁকি দেয় সে কথাই বলছি। উপরের ইন্টারনেট পেকেজটি পেতে *৮৪৪৪*২০# লিখে সেন্ড করতে হয়। সেন্ড করতে গিয়ে দেখা যায় মোবাইল চুপচাপ, খবর নাই। মোবাইল কোম্পানী থেকে কোন ম্যাসেজ আসে নাই। তাই আবার সেন্ড করি। এবার ও চুপচাপ। আবার সেন্ড আবার চুপচাপ। ৫ বার সেন্ড করে বিরক্ত হয়ে ফিরতি ম্যাসেজ না পেয়ে ক্ষান্ত হই। সেন্ড করে প্রতিবার চেক করে দেখি, পয়সা কাটে নি। সুতরাং নাখোস হবার কোন কারন নেই। কিন্তু না। তিন চার মিনিট পর পর শুরু হল মজার খেলা। সবগুলো একসাথে সেন্ড হয়ে ২৩*৫ = ১১৫ টাকা মোবাইল থেকে হাওয়া হয়ে গেল। আমার এক ফাজিল বন্ধু আছে, সে কাপড়ে চোপড়ে গালি দিয়ে মোবাইল কোম্পানীর শ্রাদ্ধ করে শান্তি পায়। সে আমার এ দশা দেখে এমন গালি শুরু করল, আমার চৌদ্দ গোষ্টি ও এমন গালির সাথে পরিচিত নই। ক্ষোভ নিভৃত করার জন্য এমন গালির বিকল্প নেই, সে আমাকে বুঝিয়ে দিল। নিতান্ত অনিচ্ছায় আমি ও সায় দিলাম।
আমি তো সর্বশান্ত বিনিয়োগকারী। ঠকতে ঠকতে ঠকাটা আমার গা সওয়া হয়ে গেছে। প্রতারিত হওয়াটা নিয়তি বলে ধরে নিয়েছি। এই আজব দেশে এমনটিই হয় এই থেকে পালাবার উপায় নেই। কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে অনেকের রক্তক্ষরণ হয় তা বুঝবে কে? এ দেশে নিরবে নিভৃতে যে মানুষ ঠকছে, তার প্রতিকার কোথায়?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


