somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রবাসী শ্রমিক

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭৬ সালে মুসা বিন শামসের হাত ধরে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক বিদেশে যাওয়া শুরু হয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে ২০১৬ সালে অর্থনীতিতে বাংলাদেশ পঞ্চম। বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশের শ্রমিক। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বেশি। ২০১৬ সালের তথ্য মতে আয় এর দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে দশম আর দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়। জিডিপি ১১% বিদেশি মুদ্রার রিজাভের্র ৬০% বর্তমানে এক কোটি শ্রমিক।

বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছে, অর্থনীতির জন্য খুব একটা ভালো দিক। বর্তমানে আমরা এখন গরীবের সর্দার। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি হচ্ছে প্রবাসী ভাইদের টাকায় কিন্তু কিভাবে এই টাকা গুলো আসে একবার কি ভেবে দেখেছি আমরা?

কতো ঘাম, রোদ, বৃষ্টি, শীতের সঙ্গে মোকাবেলা করে টিকে আছেন তারা। জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে দিয়ে অজানা এক গন্তব্যে পাড়ি দেয়। “ যৌবনের সর্বোত্তম সময় যখন মনে ও শরীরে সতেজতা থাকে তখনি কিছু করার শেষ সময়” এই বাক্যটি তাঁদের সম্বল। শুধু মাত্র একটু ভালো থাকা আর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পাওয়া এই আর কি। কিন্তু এর জন্য সেই প্রবাসী ভাইকে কতো কিছু হারাতে হচ্ছে আমরা কি একবার ভেবে দেখেছি?

হারাতে হচ্ছে মা বাবার ভালোবাসা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, বড় বোনের ভাই ডাকটি,ছোট বোনের চুলের খোপা খুলে দেওয়া খুনসুটি, অভাবের তাড়নায় নিজের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে পরিবারের হাল ধরা। আর ছেলেটি যদি বিয়ে করে আর একটি মেয়ে থাকে তাহলে সেই আদর মাখা আব্বু ডাকটি, একমাত্র মেয়েটিকে কোলে নিয়ে আদর করা হয় না, বুকের মধ্যে নিয়ে আর ঘুম দেওয়া হয়না কলিজার কন্যাটিকে, তার কোলে আজ আর প্রসাব করে না। আজ পকেটে টাকা সত্ত্বেও মেয়েটির জন্য চিপস কিনতে পারেনা এই বাবা। কিভাবে কিনবে এই বাবা এখন যে প্রবাসী। শুধু অন্যদের মাঝে নিজে মেয়েকে নিয়ে সমালোচনা ছাড়া কোন উপায় থাকে না।

এই প্রবাসী জীবনে হারাতে হচ্ছে পরিবারের মায়া, মমতা, ভালোবাসা। টাকার অভাবে বড় বোনটির বিয়ে হয়নি আজ সেই বোনের বিয়ে, এই বিয়ে নিয়ে কতো পরিকল্পনা ছিল, সব দায়িত্ব কাধে নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকবে ছেলেটি কিন্তু তা আর হলো না। দেখা হলো না মেহেদী রাঙা বোনের হাতটি, লাল টুকটুকে শাড়ীতে বুবুকে কেমন লাগছে দেখা হলো না প্রবাসী ভাইয়ের।

এক বছরের মধ্যে মা, বাবা মারা গেল কিন্তু তাঁদের শেষ মুখটি দেখতে পেলনা ছেলেটি। মায়ের হাত ধরে বেঁড়ে ওঠা, মুখে খাবার তুলে দেওয়া, সেই কবরে মাটি দিতে পারলো না প্রবাসী ভাইটি। কিভাবে দিবে সে এখন প্রবাসী। পারলো না বাবাকে ফিরিয়ে দিতে জমি, পারলো না মায়ের ফিরিয়ে দিতে গহনা, পারলো না বাড়ি বন্ধকের টাকা পরিশোধ করতে। প্রিয়তমা স্ত্রীর কথা না আর বললাম।

আমরা মানুষ চাই শুধু আনন্দ, সুখ, উপভোগ করতে আর নিজেকে পরিপূর্ণ রাখতে। আর সুখের স্মৃতি তিল তিল করে স্মৃতির জাদুঘরে জমা রেখে দুঃখের কন্টকিত দিনগুলোকে ভুলে থাকতে। দুঃখের মতো দুঃখের স্মৃতিচারণের আপাতচক্ষে বর কষ্টের, বড় যন্ত্রণার কথা পাশ কেটে যাতে চাই এই নারী।

আসার সময় বলেছিল “আমাকে ছেড়ে না গেলে হয় না”? এই কথাটি অনুভব করার ক্ষমতা আমাদের আছে হয়তো কিন্তু বোঝার ক্ষমতা আমাদের নাই। এই হতভাগি কত রাত নিরবে কেঁদে বালিশ ভিজিয়েছে, আমরা কি তার কেউ হিসেব রেখেছি? রাখিনি, গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে ডান পাশে হাতটি বাড়ায় তখন দেখে দুঃখিনীর প্রিয় মানুষটি নাই। আমরা কি কেউ জানতে চেয়েছি কতবার এমন হয়েছে?

আজকে খুব ইচ্ছা করছে বাজারের গরম জিলাপী খেতে কিন্তু কাকে বলবে এই কথা? পাশের বাড়ির ভাবীদের দেখে মনটা চাই পুতুলের মতো করে সাজতে কিন্তু এই রমনী কার জন্য সাজবে তার প্রিয়তম যে প্রবাসী।

মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়ে যুদ্ধ করেছে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে তাদেরকে আমরা দিয়েছি সন্মান, দিয়েছি উপাধি কিন্তু আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য এই প্রবাসী ভাই ও তার অর্ধাঙ্গী তাঁদের দুজনের জীবন এবং যৌবনকে উৎসর্গ দিয়ে আমাদের মুখে হাসি দিয়ে যাচ্ছে আমরা কি কখনো এদের ঋণ শোধ করতে পারবো? দিতে পারবো কখনো সন্মান উপাধি?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:১৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×