somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘রাজিব ভাই নির্দোষ ছিলেন’

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ৩১ মার্চ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনার পর সবগুলো পত্রপত্রিকায় একযোগে এসেছে একজন ছাত্রনেতার কুকীর্তির ইতিহাস। মাদক ব্যবসা, নারী ব্যবসা, ছিনতাইসহ এমন কোনো খারাপ বিশেষণ নেই, যা এই ছাত্রনেতার নামে বলা হয়নি। মেডিক্যাল কলেজের একজন ছাত্র হয়েও মানুষ এতটা খারাপ হতে পারে, তা হয়তো জাতি ধারণা করতে পারেনি।

ছাত্রনেতা নামক এই কলঙ্কের ওপর মানুষ যখন ধিক্কার জানাতে ব্যস্ত, তখন আমার মতো একজন মানুষ যদি বলে,
রাজিব ভাই নির্দোষ ছিলেন। তিনি এমন ছিলেন না।’ তাহলে তা সবার চিন্তার উদ্রেক করবে বৈকি।

হ্যাঁ, আমি বুঝেশুনেই বলছি­ আসলে রাজিব ভাইয়ের তেমন দোষ ছিল না। তবে সেই রাজিবের কথা বলছি না যে রাজিব ঢামেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমি তার কথা বলছি যিনি স্কুলজীবনে ছিলেন দারুণ মেধার অধিকারী। যিনি ২০০০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডের একজন স্ট্যান্ড করা ছাত্র ছিলেন। যিনি ২০০২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়ও একই বোর্ডে স্ট্যান্ড করেছিলেন।

২০০২ সালের রাজিব কোন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না। ছিলেন না দখলের রাজনীতিতে। কেন তবু তাকে দোষী বলা হচ্ছে? আসলে রাজিবের ভুল ছিল একটাই­ সে রাজনীতি নামক একটি ধান ভাঙার মেশিনে প্রবেশ করেছিল। এই মেশিনে একপাশ দিয়ে ধান ঢুকানো হয়, অন্য পাশ দিয়ে চাল বের হয়ে আসে।


আমাদের দেশের ছাত্ররাজনীতি নামক মেশিনেও এখন একপাশ দিয়ে ঢুকছে বোর্ডস্ট্যান্ড করা মেধাবী তরুণরা, অন্যপাশ দিয়ে বের হচ্ছে টেন্ডারবাজ, দখলবাজ, মাদক ব্যবসায়ীরা। হয়তো অনেকে চিৎকার করে বলে উঠবে, ‘নিজে ঠিক থাকলেই তো দুনিয়া ঠিক, এটা রাজিবেরই দোষ।

সে কেন খারাপ রাজনীতিতে গা ভাসিয়ে দিলো?’ উত্তরে এতটুকু বলব, আমাদের এমন একটি বড় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় দেখান যেখানে ছাত্ররাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি, দখলবাজি হয় না। কে পরিবর্তন করবে এ দু:খজনক অবস্খার? যারা বড় বড় পদ নিয়ে বসে আছেন, যারা মাঝে মধ্যে বড় বড় কথা বলছেন, তারা নিজেরাই তো এই রোগে আক্রান্ত। প্রতিকার চাইব কার কাছে?

জানি, প্রতিকার পাবো না। এরপরও আপনাদের বিবেকের দরজায় দু’টি আকুল আবেদন­

১. রাজিবের নামের সাথে কয়েকটি খারাপ খারাপ বিশেষণ ব্যবহার করে এ হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা এবং খুনিদের প্রশ্রয় দেবেন না। আপনার কোনো আপনজনকে যে আগামীকাল সকালে খুন হতে হবে না, তার নিশ্চয়তা দেবে কে?

২. শুধু রাজিব হত্যার বিচার করে আর ছাত্ররাজনীতি কয়েক মাসের জন্য স্খগিত রেখেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবেন না। আমরা এর স্খায়ী সমাধান চাই। ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তন আসুক যাতে আমরা এই রাজনীতি নিয়ে গর্ব করতে পারি, যেমন গর্ব করি স্বাধীনতা সংগ্রামে কিংবা ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের অবদান নিয়ে।

অথবা এই বিষফোঁড়াটি আমরা অশ্রুসজল চোখে কেটে ফেলে দিতে চাই। এরপরও স্বপ্ন দেখি এমন ছাত্ররাজনীতির যা হবে মেধাবী ও দেশপ্রেমিক ছাত্রছাত্রীদের প্রধান আশ্রয়স্খল।

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:০২
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×