somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২০২৪ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে গুম ও হত্যার ঘটনা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

২৮ শে এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ষড়যন্ত্রের জালে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও গণতন্ত্রের করুণ পরিণতি

২০২৪ সালের বাংলাদেশ ছিল গভীর ষড়যন্ত্রের এক নির্মম অধ্যায়। দেশি-বিদেশি চক্রান্তের দানবীয় থাবায় নিরীহ ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করে রক্তের নদী বইয়ে দেওয়া হলো। প্রতিশ্রুতি, প্ররোচনা আর মিথ্যা আশ্বাসের ফাঁদে ফেলে তরুণ প্রজন্মকে ঠেলে দেওয়া হলো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে। এই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটাই নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতার মঞ্চ দখল করা।

প্রশ্ন উঠছে, যারা এই ষড়যন্ত্রের ফসল ঘরে তুললো, তারা কি সত্যিই দেশের উন্নয়ন সাধন করেছে?
বাস্তবতা হলো:

উন্নয়ন: দেশব্যাপী অর্থনৈতিক স্থবিরতা, বিনিয়োগপতন এবং বৈদেশিক ঋণের লাগামছাড়া বৃদ্ধি স্পষ্ট করে দেয়, উন্নয়নের বদলে বাংলাদেশ আরও গভীর অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত হয়েছে।

দুর্নীতি: দুর্নীতির মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশ দুর্নীতির সূচকে আরও নিচে নেমেছে।

হত্যা-নির্যাতন: রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বেড়েছে ক্রসফায়ার, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে গুম ও হত্যার ঘটনা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এখন পেছনে ফিরে দেখা যাক ২০২৪ সালের আন্দোলন-পরবর্তী ভয়াবহ বাস্তবতা কেমন ছিল:

ছাত্র-ছাত্রী হত্যার সংখ্যা (২০২৪):
বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের সহিংস আন্দোলনে প্রায় ৫৫৮ জন সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী নির্মমভাবে নিহত হন।
তারা দেশের ভবিষ্যৎ ছিল, তারা বিশ্বাস করেছিল পরিবর্তনের নামে ছড়ানো প্রতারণায়।

পুলিশ হত্যার সংখ্যা (২০২৪):
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, ওই আন্দোলনের সময় প্রায় ৩,০০০ জন পুলিশ সদস্য নির্মম হত্যার শিকার হন। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর পরিকল্পিত নৃশংস আক্রমণ ছিল এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম ভয়ঙ্কর দিক।
এই ভয়াল পরিসংখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়
ষড়যন্ত্রের থাবা কতটা নির্মম ছিল।ছাত্রসমাজ, পুলিশ বাহিনী কেউই রেহাই পায়নি। বাংলাদেশের মেধা, সাহস এবং সুরক্ষা সবই ছিল নিশানা।
তবুও প্রশ্ন রয়ে যায়: যারা এই রক্তের স্রোত বইয়ে ক্ষমতা দখল করলো, তারা দেশের কি উন্নয়ন করলো? না। তারা শুধু নিজেদের ভাগ্য গড়েছে আর দেশের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
আজ ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না:
যারা ছাত্রদের রক্ত নিয়ে খেলা করে, যারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর লাশের ওপর দিয়ে মসনদে বসে তারা কখনো দেশের উন্নয়ন করতে পারে না।

এখন সময় এসেছে:
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর,
ইতিহাসের কলঙ্কমুক্তির,সত্য, ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্রের পতাকা নতুন করে উঁচিয়ে ধরার। কারণ বাংলাদেশ কারও দয়ার উপরে টিকে থাকা একটি দেশ নয় বাংলাদেশ রচিত হয়েছে ত্যাগ, রক্ত, সংগ্রাম আর বুকের ভেতর আগুন নিয়ে হাঁটার মানুষের দ্বারা।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৯:১৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×