somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাক ভারত যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২৫ ভোর ৬:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই
একটি বাস্তবভিত্তিক মননের আহ্বান
যুদ্ধ আর শান্তি এই দুইয়ের ব্যবধান আসলে হাজারো জীবন, কোটি কোটি ডলার আর মানবিকতা ধ্বংসের নামান্তর। পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা বারবার সীমান্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে রাজনীতি কথা বলে, কিন্তু রক্ত ঝরে সাধারণ মানুষের।
প্রতিটি যুদ্ধের মাশুল গুনতে হয় জনগণকে। ১৯৬৫, ১৯৭১, এবং কারগিল যুদ্ধের পরিসংখ্যান বলছে এই তিনটি সংঘাতে মিলিয়ে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, এবং উভয় দেশের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ নষ্ট হয়েছে। কারগিল যুদ্ধেই (১৯৯৯) ভারতের আনুমানিক ব্যয় ছিল ৫০০০ কোটি রুপি, আর পাকিস্তানেরও প্রায় ততটাই। অথচ, ২০২৩ সালে ভারতের প্রায় ১৯ কোটি মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বাস করেছে (NITI Aayog), এবং পাকিস্তানে ৪০% মানুষ নিরাপদ খাবার পায় না (World Bank, 2022)।
এই বিপুল অর্থ যুদ্ধে ব্যয় না করে যদি শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যয় করা হতো দুই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য বদলে যেত। একেকটি যুদ্ধবিমানের মূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে কয়েকটি হাসপাতাল, শতাধিক স্কুল, হাজারো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, উভয় দেশই পরমাণু শক্তিধর। নিউক্লিয়ার ওয়ার হবার সম্ভাবনা অল্প হলেও ভয়াবহ। নিউক্লিয়ার থিংক ট্যাংক SIPRI (2024) অনুসারে, ভারত ও পাকিস্তানের হাতে মিলে আছে প্রায় ৩০০ পরমাণু অস্ত্র। এর একটি মাত্র ব্যবহারে ধ্বংস হতে পারে পুরো অঞ্চল পরিবেশগত বিপর্যয়, খাদ্য সংকট এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে কয়েক দশকের জন্য।
সামরিক শক্তি দিয়ে হয়তো সাময়িক প্রতাপ দেখানো যায়, কিন্তু স্থায়ী শান্তি অর্জন করা যায় না। শান্তি আসে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আস্থা এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে। ইতিহাস বলে, যুদ্ধে কেউই প্রকৃত বিজয়ী হয় না হারে কেবল মানুষ।
ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশেই রয়েছে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত মিল। এই মিলকে ভিত্তি করে যদি সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাহলে এই অঞ্চল হতে পারে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দুটি দেশের বিবেকবান সিদ্ধান্তের উপর আমরা ঘৃণার রাজনীতি চাই না, চাই না রক্তের নদী। আমরা চাই আলোচনার পথ, চাই আস্থার সেতু।
আসুন, যুদ্ধবাজ রাজনীতির বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলি। যাদের হাতে আছে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা, তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।
আমরা যুদ্ধের বিপক্ষে, আমরা মানবতার পক্ষে। আমরা বলি যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৫ ভোর ৬:০১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতা ও সম্পদ বণ্টনের রাজনীতি এবং এলিট সমাজ - নির্বাচনের আগের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



ভোটের সময় এলেই একটি অতি পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে। নির্বাচনপ্রার্থী, যিনি অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি, সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়েছেন। গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×