ধর্মের নামে নারী বিদ্বেষ ও মৌলবাদীদের মুখোশ উন্মোচণ
আজকের পৃথিবীতে ধর্ম মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধি ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যম হওয়া উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করছে এক ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের হাতিয়ার রূপে। বাংলাদেশেও এক শ্রেণির তথাকথিত ইসলামপন্থী মৌলবাদী আজ ইসলাম ফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা যেন ধর্ম নয়, বর্বরতা প্রচার করতে মঞ্চে উঠে আসে।
এই মৌলবাদীরা নারীদের নিয়ে যে ভাষায় কথা বলে, তা শুধু অশালীন নয়, চূড়ান্ত অপমানজনক। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয় যেন তারা কোনো নারী গর্ভে জন্ম নেয়নি। এরা ভুলে যায়, একজন নারী একজন মা এই সমাজের প্রতিটি পুরুষের প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয়। অথচ তারা নারীদের পোশাক, চুল, চলন-বলনকে কেন্দ্র করে ঘৃণা ছড়ায়, অপমান করে, হেয় করে। এ কোন ধর্ম শিক্ষা দেয় যে, একজন নারীকে তার শরীর দিয়ে মাপতে হবে? যে ধর্ম 'মা' কে বেহেশতের চাবির চেয়েও সম্মানজনক আসনে বসায়, সেই ধর্মের নাম ভাঙিয়ে নারীদের পায়ে শেকল পরাতে চায় এই মৌলবাদীরা?
তাদের ভণ্ডামি এখানেই শেষ নয়। তারা ক্ষমতায় এলে শরিয়া আইনের নামে মধ্যযুগীয় বর্বরতা কায়েম করার স্বপ্ন দেখে। তারা চায় মেয়েরা স্কুলে না যাক, রাস্তায় না বের হোক, ঘরে বন্দী থাকুক। তারা চায় ইরানের মতো নারীরা যদি চুল ঢাকতে ভুলে যায়, তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে, নির্যাতন করে মাথা নত করা হবে। অথচ ইসলাম শিক্ষা দেয় জ্ঞান অর্জন করা নারী-পুরুষ সবার জন্য ফরজ। ইসলাম কখনোই নারীকে দাসী বানায়নি; বানিয়েছে সম্মানিত সঙ্গী, জ্ঞান অন্বেষণকারী, সমাজগঠনের অন্যতম স্তম্ভ।
আমরা স্পষ্ট করে বলছি বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ, মানবিক, প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই রাষ্ট্রে নারীরা শুধু ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেন না, তারা দেশ চালান, যুদ্ধ করেন, চিকিৎসা দেন, শিক্ষা দেন তাদের বাদ দিয়ে সভ্যতা চলে না। কাজেই যারা নারীদের শেকলে বাঁধতে চায়, তারা রাষ্ট্রের শত্রু, মানবতার শত্রু। তারা ইসলাম নয়, বর্বরতা চায়। আর বর্বরতা এই দেশের মাটি কোনোদিন মেনে নেয়নি, আজও নেবে না।
আমরা এই মৌলবাদীদের স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই তোমাদের ধর্মের মুখোশ পরে নারীঘৃণার রাজনীতি আর চলবে না। যারা নারীকে হেয় করে, তারা ধর্ম নয়, বিকৃত মানসিকতার ধারক। এই বাংলার নারী শুধু ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না সে আকাশ ছোঁবে, রাষ্ট্র গড়বে, ইতিহাস লিখবে।
নারীর সম্মান মানেই সমাজের সম্মান। নারীকে অবজ্ঞা মানে নিজের জন্মকেই অবজ্ঞা করা। মৌলবাদীদের এই লজ্জাজনক, অসভ্য ও মিথ্যাচারে আমরা ক্ষুব্ধ, আমরা জেগে আছি আর আমরা দাতভাঙা জবাব দেব। কলম দিয়ে, যুক্তি দিয়ে, মানুষের ভালোবাসা দিয়ে।
নারী-মায়ের মর্যাদা:
এক সাহাবী রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, কার সঙ্গে সবচেয়ে উত্তম ব্যবহার করবো?
তিনি উত্তর দেন: “তোমার মা।”
দ্বিতীয়বারেও বললেন “তোমার মা।”
তৃতীয়বারেও বললেন “তোমার মা।”
চতুর্থবার বললেন: “তারপর তোমার বাবা।”
(সহীহ বুখারী)

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০২৫ সকাল ৭:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


