গানের অনুষ্ঠানরে উপর নিষেধাজ্ঞা এক জাতিকে সাংস্কৃতিক দাসত্বে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত।
একটি জাতির সভ্যতা মাপা হয় তার সংস্কৃতির গভীরতায়। আমরা যে গান গাই, যে কবিতা পড়ি, যে সুরে আনন্দ ও বেদনার ব্যাখ্যা করি তাই আমাদের পরিচয়, আমাদের আত্মা। কিন্তু আজ এক ভয়ানক বিপদ আমাদের দরজায়। ধর্মের নামে, হাদীসের অপব্যাখ্যায়, আমাদের গান-সংগীত-সাহিত্যকে হারাম বলে ঘোষণা করে একদল উগ্র মৌলবাদী আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতিকে পদদলিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
তারা রাষ্ট্রীয় মদদে গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করছে, রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করছে, নজরুলের বিদ্রোহী সুরকে ‘নাস্তিকতা’ বলে গাল দিচ্ছে, আর লালন যিনি প্রেম, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের গান গেয়েছেন তাকে সরাসরি কুফর বলে অপমান করছে।
মৌলবাদীদের আসল এজেন্ডা: সাংস্কৃতিক শূন্যতা সৃষ্টি
এসব গোষ্ঠীর আসল উদ্দেশ্য ইসলামের নামে একটা সাংস্কৃতিক শূন্যতা তৈরি করা যেখানে প্রশ্ন নেই, সুর নেই, স্বাধীন চিন্তা নেই। একবার যখন গান, কবিতা, শিল্প, সাহিত্য মুছে দেওয়া হবে, তখন চিন্তাশক্তিহীন, প্রশ্নহীন এক ‘ভেড়ার সমাজ’ গড়ে উঠবে যাকে সহজে চালানো যায়, ভয় দেখানো যায়, শাসন করা যায়। তারা ঠিক এ কাজটাই করেছে আফগানিস্তানে, ইরানে, পাকিস্তানে।
আজ যখন বাংলাদেশে স্কুল-কলেজে গানের শিক্ষক পদ বাতিল হয়, কণ্ঠশিল্পীকে তলব করা হয়, মঞ্চে নজরুলগীতি ঠেকিয়ে দেওয়া হয় তখন এটা শুধু একটি গানের অনুষ্ঠান বন্ধ হওয়া নয়, এটা হলো একটি জাতির আত্মার গলা চেপে ধরা।
আমরা কারা? আমরা লালনের জাতি, নজরুলের বিদ্রোহ, রবীন্দ্রনাথের বাঙালিয়ানা!
আমরা সেই জাতি যারা ----
মরমী সাধক লালনের মুখে শুনেছি, “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”;
নজরুলের কণ্ঠে শুনেছি, “আমি চির বিদ্রোহী বীর”;
রবীন্দ্রনাথের কলমে পেয়েছি মানবতার সবচেয়ে গভীর দর্শন।
এই কণ্ঠ রোধ করতে চাইছে একদল আত্মশত্রু, যারা নিজের সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে, আর পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে কথা বলে আফগানি তকমা পরে। তারা চায় এই দেশ তালেবানি আফগানিস্তান হোক, পাকিস্তানের ধর্মান্ধতা আনুক, ইরানের মত নারীদের, শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করুক।
কিন্তু আমরা জানি যেখানে গান নেই, সেখানে স্বাধীনতা নেই। যেখানে সুর নেই, সেখানে স্বপ্ন নেই। আর যেখানে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল নেই, সেখানে বাংলাদেশ নেই।
সালাউদ্দিন রাব্বী

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০২৫ সকাল ৮:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


