somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গানের অনুষ্ঠানরে উপর নিষেধাজ্ঞা এক জাতিকে সাংস্কৃতিক দাসত্বে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত।

০৪ ঠা মে, ২০২৫ সকাল ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গানের অনুষ্ঠানরে উপর নিষেধাজ্ঞা এক জাতিকে সাংস্কৃতিক দাসত্বে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত।
একটি জাতির সভ্যতা মাপা হয় তার সংস্কৃতির গভীরতায়। আমরা যে গান গাই, যে কবিতা পড়ি, যে সুরে আনন্দ ও বেদনার ব্যাখ্যা করি তাই আমাদের পরিচয়, আমাদের আত্মা। কিন্তু আজ এক ভয়ানক বিপদ আমাদের দরজায়। ধর্মের নামে, হাদীসের অপব্যাখ্যায়, আমাদের গান-সংগীত-সাহিত্যকে হারাম বলে ঘোষণা করে একদল উগ্র মৌলবাদী আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতিকে পদদলিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
তারা রাষ্ট্রীয় মদদে গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করছে, রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করছে, নজরুলের বিদ্রোহী সুরকে ‘নাস্তিকতা’ বলে গাল দিচ্ছে, আর লালন যিনি প্রেম, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের গান গেয়েছেন তাকে সরাসরি কুফর বলে অপমান করছে।
মৌলবাদীদের আসল এজেন্ডা: সাংস্কৃতিক শূন্যতা সৃষ্টি
এসব গোষ্ঠীর আসল উদ্দেশ্য ইসলামের নামে একটা সাংস্কৃতিক শূন্যতা তৈরি করা যেখানে প্রশ্ন নেই, সুর নেই, স্বাধীন চিন্তা নেই। একবার যখন গান, কবিতা, শিল্প, সাহিত্য মুছে দেওয়া হবে, তখন চিন্তাশক্তিহীন, প্রশ্নহীন এক ‘ভেড়ার সমাজ’ গড়ে উঠবে যাকে সহজে চালানো যায়, ভয় দেখানো যায়, শাসন করা যায়। তারা ঠিক এ কাজটাই করেছে আফগানিস্তানে, ইরানে, পাকিস্তানে।
আজ যখন বাংলাদেশে স্কুল-কলেজে গানের শিক্ষক পদ বাতিল হয়, কণ্ঠশিল্পীকে তলব করা হয়, মঞ্চে নজরুলগীতি ঠেকিয়ে দেওয়া হয় তখন এটা শুধু একটি গানের অনুষ্ঠান বন্ধ হওয়া নয়, এটা হলো একটি জাতির আত্মার গলা চেপে ধরা।
আমরা কারা? আমরা লালনের জাতি, নজরুলের বিদ্রোহ, রবীন্দ্রনাথের বাঙালিয়ানা!
আমরা সেই জাতি যারা ----
মরমী সাধক লালনের মুখে শুনেছি, “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”;
নজরুলের কণ্ঠে শুনেছি, “আমি চির বিদ্রোহী বীর”;
রবীন্দ্রনাথের কলমে পেয়েছি মানবতার সবচেয়ে গভীর দর্শন।
এই কণ্ঠ রোধ করতে চাইছে একদল আত্মশত্রু, যারা নিজের সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে, আর পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে কথা বলে আফগানি তকমা পরে। তারা চায় এই দেশ তালেবানি আফগানিস্তান হোক, পাকিস্তানের ধর্মান্ধতা আনুক, ইরানের মত নারীদের, শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করুক।
কিন্তু আমরা জানি যেখানে গান নেই, সেখানে স্বাধীনতা নেই। যেখানে সুর নেই, সেখানে স্বপ্ন নেই। আর যেখানে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল নেই, সেখানে বাংলাদেশ নেই।
সালাউদ্দিন রাব্বী

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০২৫ সকাল ৮:৩৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×