somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন রক্ষকই ভক্ষকে পরিণত হয়।

০৫ ই মে, ২০২৫ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যখন রক্ষকই ভক্ষকে পরিণত হয় ।
বাংলাদেশ আজ এক অন্ধকার সময়ে দাঁড়িয়ে আছে।
যেখানে আইনের শাসনের কথা বলা হয় মুখে, কিন্তু রাস্তায়-বাজারে, গ্রামে-শহরে যা চলছে তা এক নির্মম, নিষ্ঠুর, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাতের আঁধারে পুলিশের পোশাক, ভোরে রক্তাক্ত লাশ
পুলিশ যাদের কাজ মানুষকে রক্ষা করা, নিরাপত্তা দেওয়া, বিচার নিশ্চিত করা। আজ তাদেরই একাংশ রাতের অন্ধকারে পরিণত হয়েছে ছায়ামূর্তি। নিরীহ ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, বিরোধী দলীয় নেতা বা কর্মী কারো ঘর আজ নিরাপদ নয়। পুলিশের পোশাক পরে, পুলিশ পরিচয়ে রাতে দরজা ধাক্কানো মানেই আতঙ্ক “এবার হয়তো আমার পালা”।

এক শ্রেণির পুলিশ এবং শাসকদলের গুন্ডারা আজ একাকার হয়ে গেছে। যারা মানুষ ধরে নিয়ে যায়, মিথ্যা মামলা দেয়, নির্যাতন করে, অর্থ আদায় করে, এমনকি লুটতরাজ চালায়। ভুক্তভোগীরা যখন থানায় যায়, তখন সান্ত্বনার নামে মেলে চরম অবজ্ঞা: “দেখছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
তারা জানে না, যে ব্যবস্থা ‘নেওয়া’ হবে, সেটাই হয়তো পরেরদিন তাদের নিখোঁজ হওয়ার প্রস্তাবনা।

রাষ্ট্র এখন আতঙ্কের আরেক নাম
যে রাষ্ট্র মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছিল, সেই রাষ্ট্র এখন নাগরিকদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। ভিন্নমত মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ! সরকারকে প্রশ্ন করা মানেই জিজ্ঞাসাবাদ, গুম, বা মামলা। রাজনীতি করা আজ ভয়ংকর অপরাধে পরিণত হয়েছে, যদি না তা সরকারদলীয় হয়।

কর্মসংস্থানের কথা বললে মামলা,
ভোটের অধিকার চাইলে লাঠি,
দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ালে গুম।
এই যদি হয় রাষ্ট্রের চরিত্র, তবে এর নাম কি গণতন্ত্র? না কি আধুনিক লেবাসে পুরনো রাজতন্ত্র?

শক্তিমান রাষ্ট্র নয়, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র চাই
একটি রাষ্ট্র তার জনগণের সমর্থনে টিকে থাকে, ভয় বা হুমকির ওপর নয়। পুলিশ বা প্রশাসন যখন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে পড়ে, তখন বিচারব্যবস্থা মরে যায়, মানুষের ভরসা হারিয়ে যায়, এবং রাষ্ট্র নিজেই হয়ে ওঠে জুলুমের কারখানা।

বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিথ্যা মামলা, গুম, নির্যাতন এসব কোনো সভ্য রাষ্ট্রের চিহ্ন হতে পারে না। এসব বর্বরতার চিহ্ন, যা ইতিহাসে একদিন দায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। যারা আজ ক্ষমতায় আছে, তারা ভুলে যাচ্ছে—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু অন্যায়ের দায় ইতিহাসে চিরস্থায়ী।

গণমানুষের প্রশ্ন: কোথায় যাবে আমরা?
এই দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, ভোটাধিকার ছিনিয়ে এনেছে, একনায়কের পতন ঘটিয়েছে। তারা ভীত নয়, কিন্তু ক্লান্ত। তারা প্রতিবাদ করতে চায়, কিন্তু আজ এতটাই বন্দী যে তাদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে মিডিয়ার কণ্ঠ স্তব্ধ করে, সমাজের নেতাদের কেনাবেচার মাধ্যমে, বিচারালয়ের চেয়ারে ভীতি বসিয়ে।

কিন্তু মানুষের মনের কণ্ঠ থামানো যায় না।
লেখার কালি শেষ হলেও ক্ষোভের আগুন নিভে না।
আজ যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে, তা যদি এখনই বন্ধ না হয়, তবে সময় ইতিহাসকে চুপ থাকতে দেবে না।

শেষ কথা
যখন রক্ষকই ভক্ষকে পরিণত হয়, তখন একমাত্র ভরসা হয় জনগণ।
একটি জাতির বিবেক কখনো চিরকাল ঘুমিয়ে থাকে না।
যারা আজ রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাস চালায়, তারা ভুলে যায় ভোর নামবেই।
আর সেই ভোরের আলোয় বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে আজকের দানবেরা।

এখন সময়, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মনে প্রশ্ন তোলার
"এই কি ছিল আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন?"
"নিরাপত্তার নামে ভয়, ন্যায়ের নামে নিঃশ্বাসরোধএ কোন বাংলাদেশ?"
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০২৫ রাত ৯:৪৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতা ও সম্পদ বণ্টনের রাজনীতি এবং এলিট সমাজ - নির্বাচনের আগের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



ভোটের সময় এলেই একটি অতি পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে। নির্বাচনপ্রার্থী, যিনি অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি, সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়েছেন। গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×