রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মানবিক বিপর্যয়: প্রতিকার কোথায়?
– একজন সচেতন নাগরিকের কলমে
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে রাজনীতির নামে যে দমন-পীড়ন চলছে, তা শুধু একটি দলের বিপর্যয়ের নয়, গোটা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আজ চরম নিপীড়নের শিকার। মামলা, হামলা, গ্রেফতার, পৃষ্ঠপোষক পুলিশি নির্যাতন এবং প্রশাসনিক হয়রানির মাধ্যমে তাদের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, পরিবারগুলো উদ্বাস্তু হয়ে পড়ছে, অনেকে গ্রামে ফিরতে পারছেন না। আদালতের পেছনে ব্যয়বহুল লড়াই করতে গিয়ে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন।
এই ভয়াবহ বাস্তবতায় অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে ভুগছে, ন্যূনতম চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করছেন অনেকে। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও এই সহিংস রাজনীতির শিকার। তাদের স্কুলজীবন থমকে গেছে, স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। গোটা সমাজেই এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিএনপি-জামাত জোটের সঙ্গে একটি চক্রবদ্ধ পুলিশি অংশের যোগসাজশে এই নির্যাতন চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে দলীয় নেতৃবৃন্দও এই কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। প্রশাসনের কাছ থেকেও তারা পাচ্ছেন না ন্যূনতম মানবিক সহায়তা। ফলে রাজনৈতিকভাবে নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত একটি বিপুল জনগোষ্ঠী এক গভীর সঙ্কটে পড়েছে।
এই অবস্থায় প্রশ্ন জাগে একটি রাষ্ট্র কি এভাবে চলতে পারে? যদি নিরীহ নাগরিকদের ওপর এমন দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকে, তবে রাষ্ট্রের ভিত একদিন ধসে পড়বে। গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতা যখন দমন নীতির মাধ্যমে রুদ্ধ করা হয়, তখন সমাজে উগ্রতা, হতাশা ও অনিশ্চয়তা জন্ম নেয়।
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন:
১. রাজনৈতিক নিপীড়নের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
২. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদান।
৩. রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, কর্মীদের পাশে থেকে নৈতিক দায়িত্ব পালন করা।
৪. প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া।
৫. মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে সুশাসন ফিরিয়ে আনা।
রাজনীতিকে প্রতিহিংসার হাতিয়ার না বানিয়ে গণমানুষের কল্যাণে ব্যবহার করলেই আমরা একটি স্থিতিশীল, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারি।
আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট দৈনিক বা অনলাইন পোর্টালে পাঠানোর পরিকল্পনা থাকে, আমি চাইলে সেটির ভাষাভঙ্গি অনুসারে লেখাটি আরেকবার সংশোধন করে দিতে পারি। আপনি কোন মাধ্যমে পাঠাতে চাচ্ছেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২৫ সকাল ৮:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


