দেশ কি তবে নৈরাজ্যের দিকেই এগোচ্ছে?
সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজপথে যে দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে, তা এক স্বাধীন রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। সভ্য সমাজে গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে সেই মৌলিক অধিকারগুলো মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
একটি উদাহরণই অনেক কিছু স্পষ্ট করে দেয়। দেশের খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের উপর আদালতের প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে যা এক নজিরবিহীন বর্বরতার উদাহরণ। তিনি শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি একজন সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি, যিনি দেশের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মান বয়ে এনেছেন। তার ওপর এমন হামলা শুধু ব্যক্তিগত নয় এটি স্বাধীনতা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপর হামলা।
এখানেই শেষ নয়। মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, সাংবাদিক স্বাধীনতার পক্ষের যেকোনো কণ্ঠকে এখন রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে দমন করা হচ্ছে। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি বসতবাড়ি পর্যন্ত আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসবের সামনে পুলিশ ও র্যাব দাঁড়িয়ে থেকেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই নীরবতা কি কেবল পেশাগত ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে আছে কোনো সুপরিকল্পিত ছক?
এই ধরনের সহিংসতা শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নয়, পুরো জাতির জন্য হুমকি। মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার প্রতিকারে যদি আগুন, হামলা ও জেল-জুলুমই একমাত্র উপায় হয়ে ওঠে, তাহলে সেটা তো আর গণতন্ত্র নয় তা বরং বর্বর শাসনের ইঙ্গিত দেয়। যারা বলেন যে আওয়ামী লীগের শাসনামলে কথা বলতে পারেন নােই। তারা বলেন আওয়ামী লীগের সময় কোথায় কোন আদালতে এমন হামলা হয়েছিল? কোন নেতার বাড়ীতে আগুন দেয়া হয়েছিল? কোন জবাব দিতে পারবেন না।
আমরা মনে করি, এখনই সময় সকল শুভবোধসম্পন্ন মানুষকে এক কণ্ঠে বলতে হবে, "এই নৈরাজ্য আমরা মানি না, মানবো না।"
সরকারের উচিত অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। না হলে এই বর্বরতা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, যার দায় কেউই এড়াতে পারবে না।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০২৫ বিকাল ৩:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


