somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশ কি তবে নৈরাজ্যের দিকেই এগোচ্ছে?

২২ শে মে, ২০২৫ বিকাল ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশ কি তবে নৈরাজ্যের দিকেই এগোচ্ছে?
সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজপথে যে দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে, তা এক স্বাধীন রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। সভ্য সমাজে গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে সেই মৌলিক অধিকারগুলো মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
একটি উদাহরণই অনেক কিছু স্পষ্ট করে দেয়। দেশের খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের উপর আদালতের প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে যা এক নজিরবিহীন বর্বরতার উদাহরণ। তিনি শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি একজন সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি, যিনি দেশের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মান বয়ে এনেছেন। তার ওপর এমন হামলা শুধু ব্যক্তিগত নয় এটি স্বাধীনতা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপর হামলা।
এখানেই শেষ নয়। মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, সাংবাদিক স্বাধীনতার পক্ষের যেকোনো কণ্ঠকে এখন রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে দমন করা হচ্ছে। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি বসতবাড়ি পর্যন্ত আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসবের সামনে পুলিশ ও র‍্যাব দাঁড়িয়ে থেকেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই নীরবতা কি কেবল পেশাগত ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে আছে কোনো সুপরিকল্পিত ছক?
এই ধরনের সহিংসতা শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নয়, পুরো জাতির জন্য হুমকি। মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার প্রতিকারে যদি আগুন, হামলা ও জেল-জুলুমই একমাত্র উপায় হয়ে ওঠে, তাহলে সেটা তো আর গণতন্ত্র নয় তা বরং বর্বর শাসনের ইঙ্গিত দেয়। যারা বলেন যে আওয়ামী লীগের শাসনামলে কথা বলতে পারেন নােই। তারা বলেন আওয়ামী লীগের সময় কোথায় কোন আদালতে এমন হামলা হয়েছিল? কোন নেতার বাড়ীতে আগুন দেয়া হয়েছিল? কোন জবাব দিতে পারবেন না।
আমরা মনে করি, এখনই সময় সকল শুভবোধসম্পন্ন মানুষকে এক কণ্ঠে বলতে হবে, "এই নৈরাজ্য আমরা মানি না, মানবো না।"
সরকারের উচিত অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। না হলে এই বর্বরতা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, যার দায় কেউই এড়াতে পারবে না।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০২৫ বিকাল ৩:৪৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরি - ১৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২



আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×