somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মের নামে রাজনীতি: এক জাতির সম্ভাব্য ধ্বংসযাত্রা

২৯ শে মে, ২০২৫ সকাল ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্মের নামে রাজনীতি: এক জাতির সম্ভাব্য ধ্বংসযাত্রা
ধর্ম মানবজাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। কিন্তু ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যখন ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানো হয়, তখন তা জাতীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেনের মত দেশের করুণ পরিণতি আমাদের সামনে স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বাংলাদেশ আজ সেই একই আত্মঘাতী পথে পা ফেলেছে। ধর্মব্যবসায়ী ও উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাপ ও প্রভাবের কাছে নতজানু হয়ে একটি প্রজন্মকে পরিকল্পিতভাবে বিপথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বারবার সতর্ক করেছিল অনুমোদনহীন মাদ্রাসা, ধর্মীয় শিক্ষার নামে উগ্রবাদী চিন্তা ঢোকানো এবং রাষ্ট্রবিরোধী আদর্শে শিক্ষার্থীদের তৈরি করাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবু রাজনৈতিক আপস ও ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের লোভে কেউ এই সতর্কতা মানেনি।
ফলে দেশের আনাচে কানাচে, পাড়া-মহল্লায়, এমনকি শহরের কেন্দ্রস্থলেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য মাদ্রাসা, যেগুলোর বেশিরভাগই কোন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই চলছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হয়েছে এক নতুন প্রজন্ম, যাদের মধ্যে জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত, সংবিধান এমনকি বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়েও সন্দেহ-সংশয় তৈরি করা হয়েছে। তারা আজ শেখ হাসিনার সরকারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে, এবং দেশকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক ভয়াবহ অন্ধকারে।
বুদ্ধিজীবী, নাট্যকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক কেউ আর নিরাপদ নয়। সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরাও আজ প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। জননিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক কাঠামো আজ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মুখে। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া, মিথ্যা রটানো, গুজব ছড়ানো, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও হত্যা সবকিছু এখন "ধর্মের নামে" বৈধ হয়ে গেছে।
এখন কী করণীয়?
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কিছু তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন:
১. ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা: সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ ধারাগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
২.শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার: জাতীয় কারিকুলামকে একমাত্র বৈধ শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে সব অননুমোদিত মাদ্রাসা বন্ধ করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা থাকতে পারে, কিন্তু তা হতে হবে মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৩.আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর উপর রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করে, বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও কার্যকর করতে হবে।
৪. সুশীল সমাজের সক্রিয়তা: লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীদের রক্ষা করে তাদের আওয়াজকে রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৫. আন্তর্জাতিক সহায়তা ও চাপ: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের এই সংকট নিয়ে জোরালো অবস্থান নেওয়া উচিত।
ধর্ম মানুষের আত্মিক উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্র চালানোর জন্য নয়। একটি আধুনিক রাষ্ট্রকে পরিচালিত হতে হবে যুক্তিবাদ, মানবিকতা এবং বিজ্ঞানের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ যদি এই সত্য বুঝতে না পারে, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ হবে আফগানিস্তান কিংবা ইয়েমেনের মতো ধ্বংস, গৃহযুদ্ধ আর হতাশায় নিমজ্জিত।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০২৫ সকাল ৮:০৯
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×