somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক বছরের শাসন: কোথায় সেই প্রতিশ্রুত পরিবর্তন?

০৬ ই জুলাই, ২০২৫ ভোর ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক বছরের শাসন: কোথায় সেই প্রতিশ্রুত পরিবর্তন?
প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হলো ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের। একটি "পরিবর্তনের সরকার" গঠনের যে প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশা নিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছিল, আজ তা শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ বলেই মনে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব কোনো পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি বরং নৈরাজ্য, নিরাপত্তাহীনতা ও শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত দুর্বলতা আজ সর্বত্র দৃশ্যমান।
এই এক বছরে এমন একটি দিনও কি গেছে, যেদিন গণমাধ্যমে হত্যা, ধর্ষণ বা সহিংসতার সংবাদ প্রকাশ হয়নি? রাস্তায় রাস্তায় খুন, গুম, ছিনতাই আর নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা যেন এক নির্মম স্বাভাবিকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোব জাস্টিস বা জনরোষের নামে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। আইনের শাসন যেন নিছক কল্পকাহিনি। একদিকে দুর্বল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, অন্যদিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এই দুই মিলে দেশে এক ভীতিকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
ড. ইউনূস সরকার কথায় কথায় ‘গণতন্ত্র’ আর ‘মানবিক রাষ্ট্র’ গড়ার কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই সরকার একটি কার্যকর প্রশাসন গড়তে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব বাড়ছে প্রতিদিন। শিক্ষাঙ্গনে সেশনজট, বেকারত্বে হতাশ তরুণ সমাজ, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, কৃষকের ন্যায্য দামের অভাব এই সবই বলছে যে জনজীবনের মৌলিক সমস্যাগুলোতে সরকারের মনোযোগ নেই।
উন্নয়নের নামে কিছু মেগা প্রজেক্টের কথা বলা হলেও সেগুলো কোথাও অপারগতা, কোথাও দুর্নীতি আর কোথাও অনিয়মের বলি হয়েছে। ড. ইউনূসের নামে বিদেশে যতই প্রশংসা থাকুক না কেন, দেশের মাটিতে তার সরকার আজ প্রশ্নবিদ্ধ এবং আস্থাহীন। মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে একটিই প্রশ্ন: এই পরিবর্তনের স্বপ্ন আমরা কী ভুল দেখেছিলাম?
একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনসমর্থন। আর সেই সমর্থন টিকে থাকে কাজের মাধ্যমে, প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখনই যদি সরকার বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে জনগণ তাদের যেভাবে ক্ষমতায় এনেছে, সেভাবেই ছুঁড়ে ফেলতেও দ্বিধা করবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০২৫ ভোর ৪:৩২
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুসা নবীর পাতা খেয়ে সুস্থ্য হওয়া সম্পর্কিত হাদিসটি ২৫টি হাদিসগ্রন্থে নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৭

আমি গতকাল হযরত মুসা (আ) গাছের পাতা খেয়ে সুস্থ্য হওয়া সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করেছিলাম। এটা ব্লগার নতুন চ্যালেঞ্জ করেন। আমি এরপরে সিহাহ সিত্তাহ-এঁর ৬টি হাদিসগ্রন্থ-সহ ২৫টি হাদিসগ্রন্থ থেকে 'কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×