somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন পুড়লে লাভ হয় কারখানার মালিকদের, ক্ষতি হয় পুরো পৃথিবীর।

১৬ ই নভেম্বর, ২০২৫ ভোর ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন পুড়লে লাভ হয় কারখানার মালিকদের, ক্ষতি হয় পুরো পৃথিবীর।
-----------------------------------------------------------------------
আমাজন হোক বা সুন্দরবন বন উজাড়ের মূল্য শেষ পর্যন্ত মানুষ ও পৃথিবীকেই দিতে হয়
বিশ্বের উন্নয়ন যখন ক্রমশ শিল্প ও অবকাঠামননির্ভর হয়ে উঠছে, তখন সেই উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস বন। আমাজন, কঙ্গো, বোর্নিও, কিংবা বাংলাদেশের সুন্দরবন সবাই একই হুমকির মুখোমুখি: বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, প্রজাতির বিলুপ্তি এবং ভয়াবহ জলবায়ু পরিবর্তন। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই ধ্বংস থেকে লাভবান হচ্ছে কারা?
উত্তরটি স্পষ্ট: বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর মালিক, নির্মাণ ব্যবসায়ীরা, কৃষি সম্প্রসারণ ও খনিজ আহরণে যুক্ত করপোরেট নেটওয়ার্ক। আর এর মূল মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং পৃথিবীর সমগ্র প্রতিবেশব্যবস্থা।

বৈশ্বিক বন উজাড়: কিছু কঠিন বাস্তবতা
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবী প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি হেক্টরের বেশি বন হারাচ্ছে যা প্রায় দক্ষিণ কোরিয়ার সমান আয়তন।
আমাজন রেইনফরেস্ট, যাকে বলা হয় পৃথিবীর “অক্সিজেন ফ্যাক্টরি”, ইতোমধ্যে ২০% এর বেশি উজাড় হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ম্যানগ্রোভ বন উজাড়ের হার বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বেশি; শুধু কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিপইয়ার্ড ও শিল্পায়নের চাপেই সুন্দরবন বারবার ঝুঁকিতে পড়ছে।
বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ১১% আসে বন উজাড় ও ভূমির অবক্ষয় থেকে যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে আরও দ্রুততর করছে।

কারখানা মালিকদের লাভ মানবজাতির লোকসান।
বন উজাড় করে গড়ে ওঠা কারখানাগুলো প্রথমদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতে কিছু সুফল বয়ে আনে কোম্পানির মুনাফা, জমির মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিক নিয়োগ ইত্যাদি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির পাল্লা এতই বড় যে তা কোনো স্বল্পমেয়াদি লাভের সঙ্গে তুলনাই চলে না।
ক্ষতির দিকগুলো--
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি
স্থানীয় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া
বর্ষার ধরন পরিবর্তন, বন্যা ও খরার প্রকোপ বাড়া
জীববৈচিত্র্যের ভয়াবহ ক্ষতি।
উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানি বিস্তার
মানুষের জীবিকা মৎস্য, কৃষি, বনজ পণ্য ঝুঁকির মুখে
অথচ যে শিল্পগোষ্ঠীগুলো এসব ক্ষতির সূচনা করে, তারা সংকট গভীর হলে কোনো দায় নেয় না; দায় নিতে হয় সাধারণ মানুষকেই।
সুন্দরবন ও আমাজন: দুই মহাদেশ, এক সংকট।
আমাজন ৯টি দেশের ওপর বিস্তৃত মহাবন, পৃথিবীর ২০% মিষ্টি পানি ও ১০% জীববৈচিত্র্যের ঘর। খনিজ উত্তোলন, গরুর খামার সম্প্রসারণ এবং কৃষি করপোরেশনের কারণে এটি দ্রুত বিলীন হচ্ছে।
সুন্দরবন বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূল রক্ষাকারী প্রাকৃতিক বর্ম। শিল্পায়ন, কয়লাভিত্তিক প্রকল্প, জাহাজ চলাচল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ম্যানগ্রোভ বিশ্ব ঐতিহ্য হুমকির মুখে।
দুই অঞ্চলের সমস্যা আলাদা মনে হলেও মূল চালিকা শক্তি একই ।অর্থলোভী শিল্পায়ন ও নিয়ন্ত্রণহীন বন উজাড়।
পৃথিবীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় করপোরেট দায়িত্ব জরুরি
বিশ্বব্যাপী শত শত পরিবেশবিদ, গবেষক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন বলছে। বন উজাড় বন্ধ ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলা অসম্ভব।
১. শিল্পকারখানাকে কঠোর পরিবেশনীতি মেনে চলতে হবে।
২. সরকারকে করপোরেট লবির চাপে নতি স্বীকার করা যাবে না।
৩. স্থানীয় সম্প্রদায়ের জমি, নদী ও বন রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শেষ কথা
বন ধ্বংস মানে শুধু কিছু গাছ কাটা নয় এটি মানুষের ভবিষ্যৎ কেটে ফেলা। কারখানার মালিকরা হয়তো স্বল্পমেয়াদে লাভবান হন, কিন্তু পৃথিবী হারায় তার ভারসাম্য, নিরাপত্তা ও টিকে থাকার ক্ষমতা।
আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, তা নির্ধারণ করবে আগামী প্রজন্ম কোন পৃথিবীতে জন্ম নেবে। সবুজ পৃথিবী, নাকি দগ্ধ এক ধ্বংসস্তূপে?
লেখক--
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ
১২৭ মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,৪র্থ তলা,
ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
ইমেইল- ‍sbabd2001@gmail,com
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০২৫ ভোর ৬:৪১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ তিনটি পলায়ন দৃশ্যঃ-

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:০৩

আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ তিনটি পলায়ন দৃশ্যঃ-



(১) ৫ আগস্ট ২০২৪, সেনা তত্বাবধানে শেখ হাসিনার চপ্পল পড়ে দৌড়ে হেলিকপ্টার যোগে পলায়ন দৃশ্য
"১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×