somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেধা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ: বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তবমুখী পুনর্গঠন পরিকল্পনা।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেধা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ: বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তবমুখী পুনর্গঠন পরিকল্পনা।
---------------------------------------------------------------------
একটি জাতির পতন হঠাৎ করে ঘটে না; তা ধীরে ধীরে শুরু হয় মেধা, শিক্ষা ও মূল্যবোধের ভেতরে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে যখন কোনো দেশের চিন্তাশক্তি দুর্বল হয়, গবেষণা থেমে যায় এবং শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই জাতি অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানবিকতায় পিছিয়ে পড়ে।
আজ বাংলাদেশও এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অস্ত্র বা অর্থনৈতিক নয় বরং মেধার স্রোত ও শিক্ষার মান।
মেধা পাচার: নীরব সংকট
প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পড়তে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের একটি বড় অংশ আর দেশে ফিরছে না। এর কারণ শুধু বেশি বেতন বা উন্নত সুযোগ-সুবিধা নয়; বরং গবেষণার পরিবেশ, পেশাগত সম্মান, দক্ষতার মূল্যায়ন এবং সুশাসনের ঘাটতি।

যখন একটি দেশ তার সেরা মেধাকে ধরে রাখতে পারে না, তখন উন্নয়নের গতি স্বাভাবিকভাবেই ধীর হয়ে যায়। বিদেশে যাওয়া মেধাবীরা যদি দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে না পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য বড় ক্ষতি।

শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো মানের বড় বৈষম্য রয়েছে। একদিকে আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, অন্যদিকে অনেক ক্ষেত্রে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে যা বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তি ও সমসাময়িক জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ধর্মীয় শিক্ষা একটি সমাজের নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে কিন্তু তা যদি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভাষা ও সমসাময়িক জ্ঞানের সঙ্গে সমন্বিত না হয়, তবে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা যেখানে নৈতিকতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ একসঙ্গে বিকশিত হবে।

কেন এখনই পদক্ষেপ জরুরি
এক প্রজন্মের ভুল সিদ্ধান্ত অনেক সময় তিন প্রজন্মকে তার মূল্য দিতে বাধ্য করে। তাই এখনই সময় বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নেওয়ার যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি দক্ষ, উদ্ভাবনী ও মানবিক বাংলাদেশ পায়।

একটি আধুনিক ও টেকসই সমাজ গড়ার ৬ দফা কৌশল

১. শিক্ষা সংস্কার ও একীভূত মানদণ্ড
জাতীয় শিক্ষানীতিকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে সব ধারার শিক্ষায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত, ভাষা ও সমসাময়িক জ্ঞান বাধ্যতামূলক হয়। ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা যুক্ত করলে শিক্ষার্থীরা একইসঙ্গে নৈতিক ও দক্ষ নাগরিক হয়ে উঠবে।

২. গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ
বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। গবেষণায় সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগ বাড়ালে তরুণ মেধাবীরা দেশে থেকেই কাজ করার আগ্রহ পাবে।

৩. মেধা ধরে রাখার নীতি
বিদেশফেরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান, গবেষণা অনুদান ও উদ্যোক্তা সহায়তা দিতে হবে। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন তরুণদের জন্য “ট্যালেন্ট রিটার্ন প্রোগ্রাম” চালু করা যেতে পারে।
৪. প্রযুক্তি ও দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা
স্কুল পর্যায় থেকেই কোডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কারিগরি শিক্ষা ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে। শুধু সনদ নয় দক্ষতা ও উদ্ভাবনই হবে শিক্ষার মূল লক্ষ্য।
৫. সুশাসন ও যোগ্যতার মূল্যায়ন
যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করা না গেলে কোনো দেশেই মেধা টিকে থাকে না। দুর্নীতি ও পক্ষপাত কমিয়ে স্বচ্ছ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
৬. মানবিক ও সহনশীল সমাজ গঠন
একটি আধুনিক রাষ্ট্র কেবল প্রযুক্তিতে নয়, চিন্তা ও সহনশীলতায় এগিয়ে থাকে। ভিন্নমতকে সম্মান, যুক্তিবাদী চিন্তা ও মুক্ত আলোচনা এসবই একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তি।

উপসংহার
বাংলাদেশের সামনে এখনো বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ জনসংখ্যা, উদীয়মান অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক সংযোগ সবকিছুই এই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে। তবে তা সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন মেধা, শিক্ষা ও সুশাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
একটি জাতিকে রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তার মানুষকে দক্ষ, চিন্তাশীল ও মানবিক করে তোলা। সঠিক পরিকল্পনা, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে বাংলাদেশ শুধু সংকট কাটিয়ে উঠবে না বরং একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×