বাংলাদেশে নির্বাচন মানেই শুধু ভোটগ্রহণের দিন নয়; এটি একটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নাগরিক সচেতনতার প্রতিফলন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের নির্বাচনী বাস্তবতায় একটি মৌলিক প্রশ্ন বারবার সামনে আসে এই নির্বাচনে আসলে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে? প্রকৃত রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতজন, আর কতজন শুধুই ক্ষমতা ও অর্থের খেলোয়াড়?
আজ পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান আমরা পাই না যে একটি নির্বাচনে কতজন প্রকৃত রাজনৈতিক নেতা অংশ নিচ্ছেন, যারা দীর্ঘদিন জনগণের পাশে থেকেছেন, আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে রাজনীতি করছেন। একইভাবে জানা যায় না কতজন বড় ব্যবসায়ী শুধুমাত্র ক্ষমতার সান্নিধ্য ও ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন। ধর্মকে পুঁজি করে যারা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চান এমন ধর্মব্যবসায়ীর সংখ্যাও অজানা। স্কুল-কলেজের শিক্ষক, যারা সমাজের বিবেক হিসেবে পরিচিত, তাদের মধ্যে কতজন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাও স্পষ্ট নয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো কতজন বিতর্কিত ব্যক্তি, দাগী আসামি, টাউট-বাটপার কিংবা কালো টাকার মালিক এই নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় রয়েছেন, তারও কোনো স্বচ্ছ তথ্য নেই। দেশের জনগণ জানে না কতজন প্রার্থী প্রকৃতপক্ষে সাধারণ ও গরিব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন, আর কতজন শুধুই বিত্তবান ও ক্ষমতাবান শ্রেণির প্রতিনিধি। এমনকি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রার্থীর সংখ্যাও সাধারণ ভোটারের কাছে অজানা।
গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। কিন্তু যখন সাংবাদিক সমাজ বা সরকারি কোনো মাধ্যম থেকেও এই ধরনের মৌলিক তথ্য প্রকাশ পায় না, তখন নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন জাগে এই নির্বাচন কাদের জন্য, কাদের প্রতিনিধিত্বে?
রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে কোনো একটি দল বিরোধীদলকে সাথে না নিয়ে নির্বাচন করলে সেটিকে অন্যায় বলা হয়েছে। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, সেই অন্যায়ের সমালোচক দলগুলোও একই পথে হাঁটছে। ফলে রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে আসে। যদি এক পক্ষের ভুলকে অন্য পক্ষ পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে পরিবর্তনের দাবি কোথায়? গণতন্ত্র কি শুধুই ক্ষমতার পালাবদল, নাকি নীতির পরিবর্তন?
বাংলাদেশের জনগণ এক আজব বাস্তবতার মুখোমুখি যেখানে নির্বাচন হয়, কিন্তু নির্বাচন সম্পর্কে মৌলিক তথ্য অস্বচ্ছ; দল আছে, কিন্তু পারস্পরিক আস্থার সংকট; নেতৃত্ব আছে, কিন্তু প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্বের উত্থান এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন।
একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে শুধু ভোটের আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী, জবাবদিহিমূলক রাজনীতি এবং জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। নইলে নির্বাচন থাকবে, কিন্তু গণতন্ত্রের আত্মা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যাবে।
--- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন
বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



