somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাষ্ট্র সংস্কারের নামে দায়মুক্তির ষড়যন্ত্র।

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাষ্ট্র সংস্কারের নামে দায়মুক্তির ষড়যন্ত্র।
========================
আজ বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের বাংলাদেশ আর অন্যদিকে ষড়যন্ত্র, সহিংসতা এবং দায়মুক্তির রাজনীতি।
আজ যারা রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলে, জনগণ জানতে চায় কেন এই পরিবর্তন? কার স্বার্থে এই পরিবর্তন? দেশের মানুষের জন্য, নাকি নিজেদের অন্যায়ের বিচার থেকে বাঁচার জন্য?
বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে যে বিগত আন্দোলনের সময় ভয়াবহ সহিংসতা সংঘটিত হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে যে হাজার হাজার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, বহু রাজনৈতিক কর্মী হামলার শিকার হয়েছেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ হওয়া উচিত। কারণ বিচার ছাড়া সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় না।
অনেকে আরও অভিযোগ করেন যে সেই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে লুটপাট, দখল, এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো ঘটনাও ঘটেছে। জনগণের প্রশ্ন খুব সহজ যদি কেউ নির্দোষ হয়, তাহলে বিচারকে ভয় কেন? কেন ইনডেমনিটি আইনের মতো দায়মুক্তির কথা উঠবে?
বাংলাদেশের ইতিহাস আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, এই বাংলার স্থপতি, স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল সেই হত্যাকারীদের রক্ষা করার জন্য ইনডেমনিটি আইন করা হয়েছিল। তখনও বলা হয়েছিল এই হত্যার বিচার হবে না। কিন্তু ইতিহাস থেমে থাকেনি। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। ইনডেমনিটি বাতিল হয়েছে। খুনীদের বিচার হয়েছে।
এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস। এটাই সত্য।
এটাই শিক্ষা অন্যায়ের বিচার দেরি হতে পারে, কিন্তু বন্ধ হয় না।
আজ আবার যদি কেউ মনে করে যে সংসদে আইন পাশ করে তারা তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ থেকে চিরদিনের জন্য রেহাই পেয়ে যাবে তাহলে তারা ইতিহাস ভুলে গেছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন বা নোবেলজয়ী ইউনূস এর নেতৃত্বে থাকা সময়েও (যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে) আওয়ামী লীগ সমর্থক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের বিরুদ্ধে মব সহিংসতা, অপমান ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন,কারণ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই
বাংলাদেশে বিচার হবে আদালতে,রাস্তায় নয়। আইনের মাধ্যমে বিচার হবে, মবের মাধ্যমে নয়।
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই দেশের মাটি শহীদের রক্তে ভেজা। এই দেশে অন্যায় করে কেউ পার পেয়ে যাবে এই ধারণা যারা করে তারা বাংলাদেশকে চেনে না।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই:
রাষ্ট্র সংস্কার মানে বিচার বন্ধ করা নয়।
রাষ্ট্র সংস্কার মানে দায়মুক্তি নয়।
রাষ্ট্র সংস্কার মানে দুর্নীতির লাইসেন্স নয়।
রাষ্ট্র সংস্কার মানে,
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা,
সন্ত্রাসের বিচার করা,
দুর্নীতির বিচার করা,
এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের জনগণ কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। যারা ভাবছে আইনকে নিজেদের মতো করে লিখে ইতিহাস বদলে ফেলবে তারা ভুল করছে।
কারণ ইতিহাসের একটি অমোঘ সত্য আছে:
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।
কিন্তু বিচার চিরস্থায়ী।
আজ যারা ইনডেমনিটি চায়, তারা মনে রাখুন।
১৯৭৫ সালে যারা ইনডেমনিটি নিয়েছিল,
তাদেরও একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।
তাই আমরা বলতে চাই,
বাংলাদেশে অন্যায় করলে বিচার হবেই।
বাংলাদেশে হত্যা করলে বিচার হবেই।
বাংলাদেশে লুটপাট করলে বিচার হবেই।
সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু।
সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের জন্যে আপনি কি করতে পারেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



পৃথিবীতে অনবরত বিভিন্ন ধরণের কাণ্ড ঘটে চলেছে, যা একজন মানুষের মনকে ভারাক্রান্ত করতে বাধ্য। হামে কাছের মানু্ষ মারা যাচ্ছে, দুর্ঘটনায় বন্ধুর মৃত্যু কিংবা ইরান - যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে প্রাণহানি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×