somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে বাঁধ নেই সে বাধ নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের মিথ্যাচার।

১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[যে বাঁধ নেই সে বাধ নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের মিথ্যাচার।
------------------------------------------------------------------------
একটি কার্যকর গণতন্ত্রে সংসদ হওয়া উচিত মিথ্যা ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে শেষ প্রতিরোধক। এখানে তথ্য যাচাই হয়, তৈরি করা হয় না; এখানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, এড়িয়ে যাওয়া নয়। কিন্তু যখন রাজনৈতিক সুবিধা সত্যের জায়গা দখল করে নেয়, তখন সেই সংসদই পরিণত হতে পারে অপ্রমাণিত দাবির মঞ্চে।
বাংলাদেশের সংসদে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক ঠিক সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে। সংসদে দাবি করা হয়েছে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ নাকি ভারতকে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে অনুরোধ করেছিলেন। সমস্যাটা শুধু রাজনৈতিক নয় এটা মৌলিকভাবে তথ্যমূলক। কারণ যে বাঁধের কথা বলা হচ্ছে, সেটিই বাস্তবে নেই।
________________________________________


অস্বীকার করা যায় না যে বাস্তবতা
টিপাইমুখ বাধ ১৯৮০-এর দশকে ভারতের মণিপুরে প্রস্তাবিত একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কয়েক দশক পেরিয়ে গেছে, কিন্তু আজও এটি প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়ে গেছে।
কোনো বাঁধ নির্মিত হয়নি।
কোনো জলাধার গড়ে ওঠেনি।
কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়নি।
এটি কোনো ব্যাখ্যার বিষয় নয় এটি সরল বাস্তবতা।
________________________________________
কেন থেমে গেছে প্রকল্প বাস্তব কারণগুলো
টিপাইমুখ প্রকল্প থেমে আছে কোনো একক ব্যক্তি বা সিদ্ধান্তের কারণে নয়; থেমে আছে বাস্তবতার চাপে।
প্রথমত, পরিবেশ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রস্তাবিত এলাকা একটি সংবেদনশীল ইকোসিস্টেম। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন এই বাঁধ নির্মাণ হলে বরাক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হবে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতি হবে।
দ্বিতীয়ত, মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
মণিপুরের আদিবাসী জনগোষ্ঠী নীরবে বাস্তুচ্যুতি মেনে নেয়নি। তারা সংগঠিত হয়েছে, প্রতিবাদ করেছে এবং স্পষ্ট করে জানিয়েছে তাদের ভূমি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
তৃতীয়ত, কূটনীতি এটিকে জটিল করেছে।
বরাক নদী বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে সুরমা ও কুশিয়ারায় বিভক্ত হয় যা লাখো মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে উজানের যেকোনো প্রকল্প ভাটির দেশের জন্য বড় উদ্বেগ। বাংলাদেশ বারবার স্বচ্ছতা ও যৌথ সমীক্ষার দাবি জানিয়েছে।
চতুর্থত, অর্থনৈতিক বাস্তবতা।
বৃহৎ বাঁধ প্রকল্প ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্রমশ প্রশ্নবিদ্ধ। সময়ের সঙ্গে এর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতাও দুর্বল হয়েছে।
________________________________________
মৃত মানুষকে দায়ী করা রাজনীতির সহজ পথ
এই জটিল বাস্তবতার বিপরীতে একটি সরল ও সুবিধাজনক গল্প দাঁড় করানো হচ্ছে যেখানে দায় চাপানো হচ্ছে এমন একজনের ওপর, যিনি আর নিজের পক্ষে কথা বলতে পারেন না।
আব্দুস সামাদ আজাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দাবির পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য, যাচাইযোগ্য বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রমাণ নেই। তবুও এই দাবি সংসদে উচ্চারিত হচ্ছে।
এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয় এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে।
________________________________________
সংসদ: সত্যের জায়গা, নাকি বয়ানের?
সংসদে বলা প্রতিটি শব্দের একটি ওজন আছে। এটি জনমত গঠন করে, নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলে এবং রাষ্ট্রের অবস্থান নির্দেশ করে। যদি সেই জায়গায় যাচাইহীন দাবি উপস্থাপিত হয়, তাহলে তা শুধু বিরোধী রাজনীতিকে আঘাত করে না বরং নাগরিকদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।যখন তথ্যের জায়গা নেয় বয়ান, তখন গণতন্ত্র দুর্বল হতে শুরু করে।
________________________________________
বড় প্রশ্নটা এখন কী?
টিপাইমুখ বাঁধ বাস্তবে একটি “অদৃশ্য প্রকল্প” যা নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু যা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু এখন যে বয়ান তৈরি করা হচ্ছে, সেটি বাস্তব এবং তা গভীরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এটি শুধু একটি প্রকল্পের ইতিহাস নয়; এটি দেখায় কিভাবে সত্যকে পুনর্গঠন করা হয় রাজনৈতিক প্রয়োজনে।
________________________________________
উপসংহার: সত্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ
রাজনীতিতে বয়ান থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সত্যকে যদি ঐচ্ছিক করে ফেলা হয়, তখন সমস্যাটি শুধু রাজনৈতিক থাকে না; তা হয়ে ওঠে প্রাতিষ্ঠানিক।
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হয়নি এটি অস্বীকারযোগ্য।
এটি থেমে আছে পরিবেশ, মানুষ, কূটনীতি ও অর্থনীতির বাস্তবতায়।
এবং কোনো রাজনৈতিক বয়ান এই সত্যকে বদলাতে পারে না। গণতন্ত্র মতবিরোধে দুর্বল হয় না।
গণতন্ত্র দুর্বল হয় তখনই যখন সত্যের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়।

সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।
১৬ এপ্রিল ২০২৬

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাতছানি

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:২২

বাঁশবনের উপরে গোধূলীর আকাশে
কি'যে অপরুপ লাগে একফালি চাঁদ,
কাশবনের দুধারে মৃদুমন্দ বাতাসে
ঢেউ খেলে যায় সেথা জোৎস্নার ফাঁদ-
আহা..., কী অপরুপ সেই 'বাঁশফালি চাঁদ' ।

পাখিদের নীড়ে ফেরা কল-কাকলীতে
শিউলী-কামিনী যেথা ছড়ায় সুবাস,
আজানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মগজহীন গোল্ডফিশ মেমোরি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১:০১



বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা অভিধান যারা পড়েছেন তাদের জানার কথা “মগজহীন” শব্দ নতুন কোনো শব্দ না। “মগজহীন” শব্দটি বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা অভিধানে কখন কোন সালে নথিভুক্ত হয়েছে? -... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুশদেশের চিরায়ত শিশুসাহিত্য

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:১৭


ঊনবিংশ শতাব্দীর মহান লেখক চেখভ , তুর্গেনেভ , দস্তয়েভ্‌স্কি , তলস্তয়ের নাম বিশ্ববাসীর কাছে সুপরিচিত। এই লেখকেরা - রাশিয়ার জাতীয় গৌরব । ঊনবিংশ শতাব্দীর রুশ লেখকদের মধ্যে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×