৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ সম্ভ্রমহারা নারী: ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও
======================================================
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির অস্তিত্ব, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার ইতিহাস। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা যে গণহত্যা, নির্যাতন ও নারী নির্যাতন চালিয়েছিল, তা বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা, নির্যাতনের মাত্রা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর অপরাধকে খাটো করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ নির্যাতিত নারীর কথা জাতির সামনে তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সংখ্যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বর্ণনা, স্মৃতিচর্চা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তবে কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই সংখ্যাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে মুক্তিযুদ্ধে নিহত মানুষের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত ও গবেষণা থাকতে পারে। ইতিহাসে গণহত্যার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা প্রায়ই কঠিন হয়। কিন্তু সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে অস্বীকার বা খাটো করার চেষ্টা ইতিহাসের প্রতি অন্যায়।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা, সাংবাদিকদের প্রতিবেদন এবং মানবাধিকার সংস্থার নথিতে ১৯৭১ সালের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতনের ব্যাপকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশ্বের বহু দেশ ও সংস্থা পাকিস্তানি বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি সমর্থন করেছে। ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও বহুবার উত্থাপিত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশের ভেতর থেকেই যখন কেউ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা বা নির্যাতিত নারীদের দুর্ভোগ নিয়ে বিদ্রূপ করে বা তা অস্বীকার করার চেষ্টা করে, তখন তা কেবল একটি পরিসংখ্যানগত বিতর্ক থাকে না; বরং শহীদদের আত্মত্যাগ ও নির্যাতিত মানুষের স্মৃতির প্রতি অসম্মান হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা অবশ্যই হতে পারে, নতুন তথ্যও সামনে আসতে পারে। কিন্তু সেই গবেষণার উদ্দেশ্য হতে হবে সত্য অনুসন্ধান, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গণহত্যাকে খাটো করা নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং নির্যাতিত নারী-পুরুষের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ সম্ভ্রমহারা নারী কেবল একটি সংখ্যা নয়; এগুলো বাঙালি জাতির রক্ত, অশ্রু, ত্যাগ এবং স্বাধীনতার মূল্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ইতিহাস বিকৃতির যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সত্য, গবেষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দিয়েই আমাদের অবস্থান নিতে হবে।
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।




অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


