somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭ মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ।একটি দেশ এভাবে চলতে পারে না।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৭ মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ।একটি দেশ এভাবে চলতে পারে না।
============================================
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। সাত মাসে এত বিপুলসংখ্যক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার খবর কোনো স্বাভাবিক রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি শিশু, একটি পরিবার, একজন মা-বাবার বুকফাটা কান্না এবং অনিশ্চয়তায় কাটানো অসংখ্য রাত।

এই পরিসংখ্যান শুধু একটি পুলিশি হিসাব নয় এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কঠিন প্রশ্ন।

আমাদের শিশুরা কোথায়? তারা নিরাপদ তো?
===========================
একটি শিশু হারিয়ে গেলে শুধু একটি পরিবার তার সন্তানকে হারায় না; একটি পরিবার তার স্বাভাবিক জীবন হারায়। একজন মা সন্তানের ফিরে আসার আশায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন, একজন বাবা থানায়-হাসপাতালে-রাস্তায় সন্তানের ছবি নিয়ে ঘুরে বেড়ান। অথচ সাত মাসে যদি ১৫ হাজার ৭১৭টি নিখোঁজের জিডি হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে ।আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা আসলে কতটা কার্যকর?

দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, শিশু নিখোঁজের এই ভয়াবহ খবরটি আসছে এমন এক সময়ে, যখন দেশের মানুষ একের পর এক সংকটে জর্জরিত।

কোথাও বিদ্যুৎ নেই।
কোথাও গ্যাস নেই।
নিরাপদ পানির সংকট রয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কর্মসংস্থানের সংকট বাড়ছে।
কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
রপ্তানি খাত নানা চাপে রয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের অভিযোগে মানুষের জীবন অতিষ্ঠঘ

প্রশ্ন হলো একটি রাষ্ট্রের নাগরিক আর কত সংকট বহন করবে?
=====================================
রাষ্ট্রের কাছে জনগণের প্রত্যাশা খুব বেশি কিছু নয়। মানুষ চায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, খাদ্য, কাজ এবং নিরাপত্তা। মানুষ চায় তার সন্তান সকালে স্কুলে গিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুক। একজন মা যেন সন্তানকে বাইরে পাঠিয়ে সারাক্ষণ আতঙ্কে না থাকেন।

কিন্তু যখন একটি শিশুকে খুঁজে পেতে পরিবারকে অসহায় হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

আমরা কোনো শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে পারি না। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। নিখোঁজ শিশুদের তথ্য দ্রুত সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বিত অনুসন্ধান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আর যদি কোনো শিশু অপহরণ, পাচার, গুম বা অন্য কোনো অপরাধের শিকার হয়ে থাকে, তবে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয় তার অপরাধই হবে বিচারের ভিত্তি।
আজ সবচেয়ে জরুরি হলো জনগণের নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করা।

বিদ্যুৎ না থাকলে মানুষ অন্ধকারে থাকে; গ্যাস না থাকলে রান্নাঘর অচল হয়; পানি না থাকলে জীবন দুর্বিষহ হয়; কর্মসংস্থান না থাকলে পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়ে। কিন্তু একটি শিশু নিখোঁজ হলে একটি পরিবারের পৃথিবীটাই যেন থেমে যায়।

তাই শিশু নিখোঁজের এই ভয়াবহ সংখ্যাকে কোনোভাবেই সাধারণ পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আমাদের সরল প্রশ্ন,
১৫ হাজার ৭১৭টি পরিবারের প্রশ্নের উত্তর কোথায়?
কতজন শিশু ফিরে এসেছে?
কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে?
কতটি ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে?
কতজন অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে?
আর কত পরিবারকে সন্তানের অপেক্ষায় দিন কাটাতে হবে?

জনগণ এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়।
কারণ একটি দেশ শুধু সেতু, রাস্তা, ভবন কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসাব দিয়ে চলে না। একটি দেশ চলে তার মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার ওপর।
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো রাষ্ট্রই সত্যিকার অর্থে নিরাপদ রাষ্ট্র হতে পারে না।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে মানুষ প্রতিদিন বলবে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, পানি নেই, কাজ নেই, নিরাপত্তা নেই; আর এর সঙ্গে যোগ হবে “আমার সন্তানটিও নেই।”
একটি দেশ এভাবে চলতে পারে না।
রাষ্ট্রকে জবাব দিতে হবে।
প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে।
অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
আর প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে বের করার জন্য রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করতে হবে।
কারণ একটি শিশুকে খুঁজে পাওয়া মানে শুধু একটি সন্তানকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া নয় একটি পরিবারকে আবার বাঁচার সুযোগ দেওয়া।

-- সালাউদ্দিন রাব্বী।
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন
বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একলা বিকেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

-একা থাকো?
-না।
-কে থাকে সাথে?
-কেউ না।
-তাহলে কিভাবে বলছো একা থাকো না?
-থাকি না তো।
-কিভাবে?
-তুমি থাকো যে পাশে।
-বাহ! ………কতক্ষণ থাকি?
-সারাক্ষণ। টেবিলে বসে খাচ্ছি, তুমি সামনে। রান্না করছি, তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম কৃষকের

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

Click This Link

পঞ্চগড় এলাকায় ৪ টা লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায় ! ইত্তেফাকের মত প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রে আসা এ সংবাদ অসত্য বা অতিরঞ্জিত না হলে বিষয়টা একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×