যুদ্ধ তো শুরু হয়েছে ৫ জুলাই ২০২৪ শেষ কখন হবে, কে জানে!
-----------------------------------------------------------------
আমাদের যুদ্ধ তো ছিল ক্ষুধা, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, দুর্নীতি, হত্যা-ধর্ষণ ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে। আমাদের যুদ্ধ ছিল সমাজের অন্ধকার দূর করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য। কিন্তু আজ বড়ই নির্মমভাবে আমাদের যুদ্ধটা যেন হয়ে গেছে নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেদের যুদ্ধ!
কে বা কারা এই বিভাজনের আগুনে ঘি ঢালছে, আজ সেটাই জাতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিদেশি অর্থ ও প্রভাবের অভিযোগে যাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাদের ভূমিকা নিয়েও জাতির ভাবা দরকার।
এক দলের সঙ্গে আরেক দলের সংঘাত, প্রতিশোধ আর পাল্টা প্রতিশোধ এ কোন ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে দেশকে?
যখন মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান ও প্রহারের দৃশ্য দেখি, তখন হৃদয় কেঁদে ওঠে।
যখন মানুষের ঘরবাড়ি জ্বলে, তখন মনে হয় আমরা কি সত্যিই সেই বাংলাদেশে আছি? যখন স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙা হয়, জাতীয় গৌরবের প্রতীকগুলো আক্রান্ত হয়, তখন বিবেক প্রশ্ন করে কেন?
যখন ৩২ নম্বরের মতো ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংসের মুখে পড়ে, তখন ইতিহাসও যেন নির্বাক হয়ে যায়। মেট্রোরেল, সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ কিছুই যদি রক্ষা না পায়, তাহলে আগুন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে? আজ ক্ষমতার অন্ধতায় যে প্রতিহিংসা জন্ম নিচ্ছে, কাল সেটিই হয়তো নতুন প্রতিশোধের আগুন জ্বালাবে।
আজ যারা ক্ষমতাবান হয়ে অত্যাচার করছে, কাল তারা ক্ষমতার বাইরে গিয়ে সেই অত্যাচারের শিকার হতে পারে।
এভাবেই যদি প্রতিশোধের রাজনীতি চলতে থাকে, তাহলে একদিন জয়ী হবে না কোনো দল পরাজিত হবে বাংলাদেশ।
একটি জাতি প্রতিহিংসা দিয়ে বাঁচে না; বাঁচে ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর।
তাই আজ সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন এই প্রতিহিংসার চক্র আমরা কবে ভাঙব?
কেউ কি সাহস করে বলবে আর নয়, এবার থামতে হবে?
দেশটা কারও একার নয়; এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের, আমাদের সবার।
ক্ষমতা বদলাবে, সরকার বদলাবে, নেতা বদলাবে কিন্তু বাংলাদেশ যেন ধ্বংস না হয়।
চলুন, যুদ্ধটা আবার সঠিক জায়গায় ফিরিয়ে নিই মানুষের বিরুদ্ধে নয়, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুর্নীতি, অশিক্ষা ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে।
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন
বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




