somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমন বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি!

০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এমন বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি!
------------------------------------
একটি সময় ছিল, যখন জুলাই আন্দোলনের তরুণদের নিয়ে দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল। মানুষ তাদের মধ্যে দেখেছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশের সম্ভাবনা। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই তরুণরাই একদিন দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কিন্তু এত অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই প্রত্যাশার জায়গায় কেন অবিশ্বাস, ক্ষোভ ও ঘৃণা তৈরি হলো? কেন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু তরুণ আজ সাধারণ মানুষের বিরাগভাজন হয়ে উঠেছেন? কেন একজন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমানকে এমন বক্তব্য দিতে হচ্ছে যে, একজন ছেলেকেও মানুষ বিশ্বাস করে না, মানুষ ঘৃণা করে?
এটি কি কেবল কয়েকজন তরুণের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়?
একটি আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের সমর্থন। অথচ আন্দোলনের পর যদি সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারি, ছিনতাই, খুন কিংবা ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগবেই। যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তাদের একটি অংশের বিরুদ্ধে কেন এমন অভিযোগ উঠছে?
অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সব জুলাই আন্দোলনকারী এক নয়। যারা সত্যিকার অর্থে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অপরাধের অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যায় না। কিন্তু আন্দোলনের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তারও কোনো দায়মুক্তি থাকা উচিত নয়।
এখানেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ের প্রশ্নটি সামনে আসে।
একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সরকারের কাজ ছিল আন্দোলনকারী তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। কিন্তু সরকারের সময়কালে সংঘটিত মব সহিংসতা, দখলদারি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হয়েছে, সেই প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
কোনো অপরাধের দায় ব্যক্তির। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো অপরাধ প্রতিরোধ করা, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা এবং কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে অপরাধের ঢাল হতে না দেওয়া। সরকার যদি এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই ব্যর্থতার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যদি আন্দোলন-পরবর্তী তরুণদের একটি অংশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে থাকে, অথবা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তাহলে তার জবাবদিহি অবশ্যই প্রয়োজন।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আজকের এই পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আন্দোলনের সাহসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আগামী দিনে দেশে অন্যায়, দুর্নীতি কিংবা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনের প্রয়োজন হলে তরুণেরা কি রাজপথে নামতে সাহস পাবে? সাধারণ মানুষ কি তাদের পাশে দাঁড়াবে?
মানুষ যদি মনে করে আন্দোলনের পরিণতি হলো দখলদারি, সন্ত্রাস, প্রতিহিংসা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো ন্যায়সংগত আন্দোলনও জনসমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
আমরা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
জুলাই আন্দোলনের তরুণদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল তারা হবে মানবিক, দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ণ ও দেশপ্রেমিক। তারা হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক, নতুন অন্যায়ের জন্মদাতা নয়।
একটি আন্দোলন কখনো কয়েকজনের অপরাধের কারণে পুরোপুরি বিচার করা যায় না। একইভাবে একটি আন্দোলনের পবিত্রতা দেখিয়ে অপরাধীদেরও রক্ষা করা যায় না।
ড. ইউনূসের সরকারের কাছে প্রশ্ন যে তরুণদের ঘিরে একদিন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তাদের একটি অংশের বিরুদ্ধে আজ কেন এত অভিযোগ? তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার দায়িত্ব কার ছিল? রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দায়িত্বে থেকে সরকার কী করেছে? আর যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার কোথায়?
মনে রাখতে হবে, আন্দোলন করে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হলে প্রয়োজন সততা, মানবিকতা ও ন্যায়বিচার।
জুলাইয়ের তরুণেরা ঘৃণার প্রতীক হোক, এটি আমরা চাই না। তারা আবার মানুষের আস্থা ফিরে পাক, সেটিই হওয়া উচিত প্রত্যাশা। কিন্তু সেই আস্থা ফিরবে অপরাধের বিচার, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে। দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আন্দোলনও কারও অপরাধের লাইসেন্স নয়।
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল, নতুন করে আরেকটি অন্যায়-অবিচারের অধ্যায় নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×