somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাবেয়া রাবু
স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি.. কিন্তু স্বপ্নরা কেন যেন বাস্তবে ধরা দেয়না.. কিন্তু আমার বিশ্বাস একদিন তারা ঠিকই আমায় ধরা দেবে..
.
.
.
.
.
সেই দিনের অপেক্ষায়.....

জীবনের গল্প ~ ২ (শেষ পর্ব)

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এভাবেই চলতে থাকে দিন।দুজনেই পাশাপাশি অথচ
কোথায় যেন
অনেক বড় একটা দূরত্ব।
মেয়েটি উপলব্ধি করে যে তারা একসাথে আছে ঠিক
ই কিন্তু তাদের
ভালবাসার সুর টা কোথায় যেন কেটে গেছে।
ওটা এখন আর আগের মত নেই।
.
দীর্ঘদিনের অবহেলা, কাছে না পাওয়ার বেদনা,
মনের
মাঝে জমে থাকা চাপা কষ্টগুলো ধীরে ধীরে মেয়েটিকে অনুভূতি শূন্য
করে তোলে।হাজার চাইলেও সে আর পারেনা আগের
মত
ছেলেটিকে ভালবাসতে, ভালবেসে গভীর
আলিঙ্গনে জড়িয়ে রাখতে।
.
মেয়েটির পরিবার কখনোই তাদের এই
সম্পর্কটিকে মেনে নেয়নি।উপরন্তু
তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে ,তাকে যে কোন একদিক
বেছে নিতে হবে।হয় ভালবাসার মানুষ, না হয়
ফ্যামিলি।
.
.
অনেক ভেবে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের
পথে পা বাড়ায়
সে।এভাবে ভালবাসাহীন কোন সম্পর্ক
টিকিয়ে রাখার কোন
মানে খুঁজে পায়না সে।মেয়েটি ভাবে, বিধাতা হয়ত
মুচকি হেসেছিলেন তাদের দেখে।এত সুখ হয়ত তার
কপালে ছিল না। অথবা সে এত সুখ পাবার যোগ্য
না। তাই সে হারিয়ে ফেলেছে তার সুখের ঠিকানা।
যতটুকু তার প্রাপ্য ছিল সে হয়ত তার
সবটা পেয়ে গেছে অথবা প্রাপ্যের থেকে অনেক
বেশিই পেয়েছে ।
.
অবশেষে কোন এক গভীর
রাতে মেয়েটি ভেঙ্গে দিলো তাদের ৮
বছরের প্রেমের সম্পর্ক। সেদিন ও কষ্ট
হয়েছিলো প্রচুর।কান্নাও করেছিলো অনেক।কিন্তু
সেদিনের কান্নাটিও কেউ দেখতে পায়নি।আড়ালেই
থেকে গেছে।
.
ছেলেটি জানতে চায় তাদের রিলেশন ভাঙ্গার কারণ।
সব
খুলে বলে মেয়েটি। ছেলেটি তার সব ভুল
গুলো বুঝতে পারে।
ক্ষমা চায় মেয়েটির কাছে।
মেয়েটি তাকে ক্ষমা করে কিন্তু
ফিরতে পারেনা আর তাদের আগের জীবনে।
মেয়েটি কথার
ছলে প্রায়ই ছেলেটিকে বলত , "আমাকে এত
অবহেলা করনা ,
যেদিন চলে যাব চিরতরে তোমার জীবন
থেকে সেদিন হাজার চাইলেও
আমাকে আর ফিরে পাবেনা "।কিন্তু ছেলেটির
ধারণা ছিল যে,
মেয়েটি তাকে ছাড়া কখনো চলতে পারবেনা।তাদের
মাঝে যত কিছুই হোক না কেন,মেয়েটিকে সে যত
অবহেলাই করুক
না কেন,মেয়েটি তাকে ছেড়ে কখনো চলে যাবেনা।
কিন্তু মেয়েটিযে এতটা দূর্বল
নয়,তা ছেলেটি কখনো বুঝতেও পারেনি।অবশেষে সব
বুঝতে পেরে ছেলেটি অনেক কান্নাকাটি করে।
কিন্তু মেয়েটি এতটাই অনুভুতিশুন্য
হয়ে গিয়েছিলো যে ,ছেলেটির
কান্না মেয়েটির মনে এখন আর কোন দাগ
সৃষ্টি করেনা।
মেয়েটি পারতো আবার ছেলেটির
জীবনে ফিরতে কিন্তু সে ফেরেনি।
কারণ সে চায়নি কখনো ছেলেটিকে ঠকাতে।
মেয়েটি কখনোই আর
পারতোনা ছেলেটিকে আগের মত ভালবাসতে।হয়
ভালবাসার অভিনয়
করতে হতো আর না হয় করুণা।
.
এভাবেই হারিয়ে যায় একটি ভালবাসা।
সমাপ্তি ঘটে ভালবাসাময়
একটি মধুর সম্পর্কের...।
.
সবাই ভুল বোঝে মেয়েটিকে।সবার ধারণা হয়ত
মেয়েটির নতুন কোন রিলেশন হয়েছে তাই
সে এতদিনের সম্পর্কটি ভেঙ্গে দেয়।মেয়েটি তার
পরিচিত জনদের কাছে ছেলেটির ইমেজ এতটাই ভাল
রেখেছিল যে, রিলেশন ভাঙ্গার পর কেউ বিশ্বাসই
করে না যে ছেলেটি কখনো মেয়েটিকে কষ্ট
দিতে পারে।কেউ বুঝেনা মেয়েটির কষ্টগুলো। সব
সময়ের মত এবার ও আড়ালেই থেকে যায় চাপা এই
কষ্ট গুলো। কেউ বুঝেনা যে কিছু হারিয়ে ফেলার
থেকে বিসর্জন জিনিষটা বেশি কষ্টের।
পরিশিষ্ট : ভালবাসা অনেক পবিত্র একটা জিনিষ।
সবার ই উচিত
একে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া।অবহেলা করা উচিত
নয়।ছোট ছোট অবহেলা গুলোই একসময় খুব বড়
রূপ ধারণ করতে পারে।ব্যস্ততা সবার ই থাকে।
হাজার ব্যস্ততার মাঝেও যে তার প্রিয় মানুষটির
মুখের হাসির জন্য একটু সময় বের
করতে পারে ,একমাত্র সেই পারে প্রকৃত
অর্থে কাউকে ভালবাসতে।ভালবাসার অধিকার
একমাত্র তার ই।
.
এখনো অনেক মেয়ে আছে আমাদের সমাজ এ,যাদের
ভালবাসা পাবার জন্য
পকেটে কাড়ি কাড়ি টাকা থাকার প্রয়োজন
হয়না।প্রিয় মানুষের একটু সান্নিধ্য আর সামান্য
একটু ভালবাসা পেলেই যারা সারাটি জীবন
কাটিয়ে দিতে পারে।
.
.
অনেকেই হয়ত ভাবছেন এটি নিছক কোন
একটি গল্প। না,
এটি কোন গল্প নয়। এটি জীবনের খুব কাছ
থেকে দেখে যাওয়া সত্যিকারের একটি ঘটনা ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭
×