ছোটবেলা থেকেই খেলাধূলা অনেক পছন্দ.. কতরকম খেলা যে জীবনে খেলেছি,তার কোন হিসেব নেই.. ঐসব খেলার নামই মনেহয় এখন আর সব মনে নেই...
ঘুম থেকে উঠেই তো কোন কোন দিন খেলাধুলা শুরু করতাম.. অবশ্য এরজন্য আব্বু-আম্মুর অনেক বকাও হজম করতে হয়েছে..
বাবার সরকারি চাকরীর সুবাদে দূরন্ত শৈশব, কৈশর সবই পার করেছি আবাসিক এলাকায়.. সমবয়সী বন্ধু বান্ধবীর অভাব ছিলনা..কি খেলা খেলিনি জীবনে!!
পুতুল বিয়ে থেকে শুরু করে ফুটবল, ক্রিকেট সবই খেলেছি.. বাসার সামনে ছিলো বিশাল মাঠ.. আর প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকতাম কখন আছরের আযান দিবে.. আযান দিলেই সবাই খেলতে বের হতাম.. আমাদের সময় তো মোবাইল এত available ছিলনা,কিন্তু এটা যেন এক অলিখিত নিয়ম ছিল যে,আযানের পরই সবাই বাসা থেকে বের হবে..
একেক দিন একেক রকম খেলা খেলতাম আমরা.. ছোয়াছুয়ি, বরফ পানি, কানামাছি, সাতচারা, সাতপাতা, বৌচি, দাঁড়িয়াবাধা, গোল্লাছুট, কুমিড় কুমিড়, ফুলটোকা, ইঁচিং বিঁচিং, ছিঁছকা, ফুলটোকা, ডাংগুলি, ব্যাডমিন্টন, পাঁচগুটি, চারগুটি, কেরাম, লুডু, কুতকুত, ফুটবল, ক্রিকেট, আরো কত খেলা..
কতগুলো খেলা আবার ছিলো ঋতুভিত্তিক.. বর্ষাকালে তো আর মাঠ এ খেলা যেতো না পানির কারণে.. তাই তখন ইনডোর গেমসগুলোই খেলতে হতো.. আর শীতের শুরু মানেই,ব্যাডমিন্টন খেলার ধুম পড়ে যেতো..
আম্মুর কাছে যখন তাদের ছোটবেলার গল্প শুনতাম,তখন মাঝে মাঝে খুব আফসোস হত তাদের সময় আমার কেন জন্ম হয়নি,এটা ভেবে.. কিন্তু এখন মনে হয়,আমার জন্মটা খুব খারাপ সময়ে হয়নি.. এখনকার যুগের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়,আমাদের ছোটবেলাটা অনেক রঙিন ছিলো.. এখনকার ছেলেমেয়েরা হয়তো এসব চিন্তাও করতে পারেনা.. আমরা যতরকম খেলা খেলেছি,তারা হয়ত এতসব খেলার নামই জানেনা..
মাঝেমাঝে খুব ইচ্ছে করে সেই দুরন্ত ছেলেবেলার দিনগুলোতে ফিরে যেতে.. কত্তো রঙিন ছিল সেই সময়গুলো.. যত দিন যাচ্ছে, জীবন যত সামনের দিকে এগুচ্ছে, হয়তো ততোই আমাদের জীবন যাত্রার মান উন্নত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আমরা সবাই কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি, সবাই যেন পরিনত হচ্ছি এক রক্তমাংসের রোবটে.. খুব নীরবে জীবনের এই স্বর্ণালী মূহুর্তগুলো চাপা পড়ছে যান্ত্রিকতার চাঁদরে.. অথচ এই ডিজিটাল যুগের ছেলেমেয়েরা সেটা জানতেও পারছেনা..
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





