somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাপুরুষ

১৯ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রীষ্মের হলুদ গরমে রাস্তায় ভিজছি। ঘামে চুল ভিজে গিয়েছে। কপালে ঘামের বিন্দু জমে জমে চোখ নাক চিবুক বেয়ে শার্টের ভিতর ঢুকে যাচ্ছে।

জৈষ্ঠ মাসের শেষ। চারিদিকে ঠাঠা রোদ। এই রোদে মানুষ মরে না। তেলাপোকার পরে দ্বিতীয় সহনশীল প্রানী হল মানুষ। মানুষ কখনোই মরতে চায় না। ভাল থাকার লোভ তাকে বাঁচিয়ে রাখে।

'অর্ক ভাইয়া? অর্ক ভাইয়া? একটু দাড়াবেন প্লিজ?'

কিঙ্কর কন্ঠের ডাক উপেক্ষা করে হলুদ রোদে হেটে যেতে পারে মহাপুরুষেরা। আমি মহাপুরুষ না সাধারণ পুরুষ। আমি দাড়িয়ে পড়লাম। কিঙ্কর কন্ঠের মালকিন একজন ছাতাওয়ালী। ছাতায় বড় বড় ফুল আঁকা আছে। কালারফুল ছাতা।

'এই রোদের মধ্যে আপনি কোথায় যাচ্ছেন?'

-'হাটছি।'

'আপনি কেন হাটছেন? এই রোদে কি কেউ হাটে? ঘেমে তো একেবারে একাকার হয়ে যাচ্ছেন। আপনি আমার ছাতার নিচে চলে আসুন।'

আমি ছাতাওয়ালীকে চিনতে পারছি না। কারন ছাতাওয়ালীর পরনে শাড়ি। কুমারী মেয়েরা শখ করে শাড়ি পরে। বিয়ে অথবা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে শাড়ি পরে। এই মেয়ে কি কারনে পড়েছে কে জানে। এই মেয়েকে হয়ত শাড়ি ছাড়া আমি ভাল করেই চিনি। কিন্তু শাড়ি পরা একে চিনে ফেলা মনে হয় সম্ভব হবে না। আমি অচেনা ছাতাওয়ালীর ছাতার নিচে টুক করে ঢুকে পড়লাম।

অচেনা ছাতাওয়ালীকে তাড়াতাড়ি চিনে ফেলতে হবে। চিনে ফেলার সহজ উপায় হচ্ছে ভাইয়া বলে ডাকা মেয়েদের লিস্ট করে ফেলা। আমি মনে মনে লিস্ট করে তমা কে চিনে ফেললাম।

তমা আমাদের কলেজের জুনিয়র মেয়ে ছিল। একবার খুব কুয়াশার সকালে আমার হাতে একটা চিরকুট গুঁজে দিয়েছিল। চিরকুটে লেখা ছিল,

"আপনি একটা তেলাপোকা। আপনাকে আমি খুব ভয় পাই। আপনি কি আমার ভয় কাটিয়ে দিবেন?"

সদ্য গোঁফ ওঠা আমি কেন তেলাপোকা হলাম। আর কিভাবে ভয় কাটাব সেই রহস্য খুজে হয়রান হয়েছিলাম। একদিন হঠাৎ করে রহস্য সমাধান করে ফেললাম। কিন্তু ততদিন আমি ছিলাম রহস্যবতীর থেকে অনেকটাই দুরে।

'আপনাকে একটা কথা বলব?'

-'হুম। বল।'

'আপনার মনে আছে আপনাকে আমি একদিন একটা চিরকুট দিয়েছিলাম?'

-'হুম।'

'আপনি কি সেটার মানে বুঝতে পেরেছেন?'

-'না।'

'আপনি যদি কখনো মানে টা বুঝতে পারেন তাহলে কি আমাকে জানাবেন?'

-'না।'

'না' শব্দটা শুনে তমার হাতটা কেঁপে উঠল। হাতের কম্পন ছাতায় ছড়িয়ে পড়েছে। আমি ছাতার কম্পন দেখায় মন দিলাম। সহজে 'না' বলার ক্ষমতা থাকে মহা পুরুষদের। আমি মহা পুরুষ নই। আমি সাধারণ পুরুষও নই। আমি কাপুরুষ।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×