somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গ মাদার’স ডে

১৬ ই মে, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাদার’স ডে নিয়ে এখন অনেক উৎসব... অনেক মা ই অপেক্ষা করে থাকেন সন্তান রা ওই দিন আসবে, আনন্দ হবে। বিশেষ করে বিবাহিত মেয়ে সন্তান এর মা'রা। তবে এই উৎসব এ কিছু ফাঁক থেকে যাচ্ছে – আর সেটা হল আমাদের নিজেদের সন্তান... কিছু ঘটনা দিয়া ব্যাখ্যা করছি-

১/ আমার ছেলে মাদার’স ডে তে আমাকে নিয়া অনেক কিছু করল, কেক, কার্ড, কজে সাহায্য ইত্যাদি... পরের দিন বললাম “বাবা তুমি আজ আমাকে কি গিফট করবে?” ও বলল “আজ তো মাদার’স ডে না”। (!)

২/ আমার বান্ধবি চাকুরী শেষে প্রতিদিন ই তার মার বাসা হয়ে আসসেন। মা-বাবা একা মানুস। বুয়া না থাকলে সব কাজ করে দিয়ে আসেন। শাশুড়ি ও তার সাথে থাকেন। মাদার’স ডে তে তিনি সেদিন কিছু করতে পারেন নাই। তাই মেয়ে তাঁকে বলেছে “তুমি কিন্তু গ্র্যান্ড মা দের জন্য কিছু করনি”। তিনি বলেছেন “আমার তো প্রতিদিন ই মাদার’স ডে”। তিনি তাঁর মেয়ে কে বোঝাতে পারছেন না যে প্রতিদিন কি করে মাদার’স ডে হয়। (??)

৩/ আর এক বান্ধবি, তাঁর শ্বশুর – শাশুড়ি থাকেন একই apartment এর অন্য ফ্লাট এ। তিনি প্রায়ই তাঁর মা-বাবা, শ্বশুর – শাশুড়ি রান্না করে খওান। সন্তান এর প্রশ্ন “আজ কি কোন Special day?

আমরা আমাদের সন্তানদের বঝাতে পারছি না যে মা-বাবা র জন্য করতে কোন ‘ডে’ লাগে না।
অনেক মা-বাবা ভাবছেন- আমরা যখন করছি, ওরাও করবে। আমরা করছি কারন আমাদের মধ্যে এখনো join family ‘র সৃতি আছে। আমাদের মা-বাবারা কিন্তু আমাদের শিখিয়াছেন মা-বাবার জন্য করতে হবে। আমাদের মা-বাবা রা আমাদের মানুষ করতে গিয়ে নিঃস্ব- শারীরিক ভাবে, অর্থনৈতিক ভাবে...... মা-বাবার জন্য করেনা এ ব্যাপারটা আমাদের সমাজে এখনও নিন্দনীয় অপরাধ। এই বোধ টা ধীরে ধীরে লোপ পাচ্ছে। আমরা এখন কার মা-বাবারা প্রায়শই বলে থাকি “তোরা তো আর দেখবিনা......” । বাড়ি গাড়ি ব্যাংক ব্যাল্যান্স সবই করছি, কারন “তোরা তো আর দেখবিনা......”। কখনো কি ভেবেছেন আপনি যদি করে থাকেন, ওরা কেন করবে না???

১। প্রথমে ই এটা বলা বন্ধ করুন- “তোরা তো আর দেখবিনা......”, “তোরা তো করবিনা......”, “আমাদের কে তো Old home পাঠাবি”... মজা করেও এ কথা বাচ্চা দের বলবেন না। বরং বলুন “তোকে ই তো দেখতে হবে”, “তুই না দেখলে বুড়ো বয়সে কথায় যাবো”, “তোকে ছাড়া থাকব কি করে”...

২। সন্তানদের সামনে কখনই এই গল্প করবেন না “ আমার যা আছে সন্তানের না দেখলেও সমস্যা নাই”। বরং বলুন “এসব করছি যাতে আমাদের দেখাশুনা করতে তোমার কষ্ট করতে না হয়”,

৩। আজ কাল অনেক মা-বাবা রা এ কথা বলে থাকেন “সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব, করছি। ওরা করবে এ আশা করি না”। ভুল। আপনার দায়িত্ব যদি মানুষ করা হয়, সন্তান এর দায়িত্ব- বয়স কালে আপনাকে দেখা। আপনি অবশ্যই আশা করতে পারেন, এ অধিকার সৃষ্টিকর্তা/ প্রকৃতি/ জীবন চক্র আপনাকে দিয়েছে।

৪। আপনি যখন অসুস্থ থাকেন সন্তানকে স্কুল এ না পাঠিয়ে আপনার সাথে রাখুন। সন্তান অসুস্থ হলে আপনি যেমন ছুটি নেন। আপনার যত্ন নিতে দিন। যেমনঃ নাস্তা দিল, পানি এনে দিল, আপনার চুল বেঁধে দিল, মাথায় জল পট্টি দিল, আপনার সাথে গল্প করলো...

৫। যারা মা-বাবা থেকে দূরে থাকেন এবং ফোনে যোগাযোগ করেন, তাঁরা সন্তান এর সামনে ফোন করুন, তাকেও কথা বলতে দিন। তাকে এটা বুঝিয়ে বলুন “যেহেতু তাঁরা দূরে আছেন, ফোনে তাঁদের খোঁজ নিতে হবে, কথা বলতে হবে”।

৬। যারা মা-বাবার সাথে থাকেন তাঁরা সন্তানদের মনে করিয়া দিন যে- তাদের Grand parents রা আপনাদের মা-বাবা এবং তাদের জন্য আপনার করতেই হবে।

৭। যারা অফিস থেকে মা-বাবা কে দেখে আসেন, সন্তান দের সাথে সেই গল্প করুন। তাকে জানতে দিন।

৮। আপনার সন্তানদের সাথে তার জন্মর গল্প করুন। আপনার কত কষ্ট, ত্যাগ দিয়া আপনি তাকে এতো বড় করেছেন তা জানতে দিন। এ ধরনের ভিডিও, সিনামা দেখতে দিন।

৯। যখন আপনি তার যত্ন নেন বা তাকে কাজে সাহায্য করেন বা তার কষ্টর সহায় হন, তখন তাকে মজা করে বলুন “এভাবে আমার জন্য করবি ত??”

১০। সর্বোপরি ভালবাসুন, ভালবাসতে শিক্ষান।

@ এ লেখাটা ৩ থেকে ১২ বৎসর এর বাচ্চাদের মা'দের জন্য।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×