স্যালভেশন.......... একটি ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার।
উদভ্রান্ত একজন মা তার আনুমানিক সাত বছর বয়সী শিশু কন্যাকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন। শিশুটির মাড়িসহ উপরের পাটির দাঁতের প্রায় পুরোটাই বেরিয়ে পড়েছে... তার মুখের কাছে ধরে রাখা কাপড়টা নিজস্ব রং হারিয়ে লাল রং ধারন করেছে। মারাত্মক আহত এই শিশুটির এক্সরে করাতে হবে.....এখনই।
শিশুটির মায়ের হাতে ধরা সবুজ ছাতা চিহ্নিত কার্ড এবং তার সার্বিক বেশভুশা জানান দিচ্ছে যে,দারিদ্র সীমার সর্বনিম্ন স্তরে এদের বসবাস। হয়তোবা এ কারনেই বাচ্চাটিকে এক্সরে রুমে নিয়ে যাবার তাড়া কেউ বোধ করছেন না। অসীম ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করছেন স্তব্ধ প্রায় শিশুটির মা এবং তার কন্যা। সাথে আসা শিশুটির কিশোর বয়সী ভাই বারবার তাগাদা দিচ্ছে ... যদিও কর্মতৎপর সেবিক-সেবিকাদের আচরন তাকে নিরাস করছে। সেবাপ্রার্থী এই ভাগ্যাহতরা অপেক্ষা করছে......দশ.....বিশ.......ত্রিশ...........মিনিট...........; তারপর আরো অনেকক্ষন.......................; যেন অনন্তকাল!!!
শেষ হয়ে যাচ্ছে মায়ের বুকে নিথর হয়ে লেপ্টে থাকা শিশুটির ব্যাথা নাশক ওষুধের কার্যকারিতা , শেষ হয়ে যাচ্ছে সবুজ ছাতার সেবাপ্রদানের নির্ধারিত সময়ের ঘন্টা.......... অথচ শেষ হচ্ছে না এদের অপেক্ষার পালা...................।
ডাক্তার, নার্স, মেশিনারিজ অথবা বিদ্যুত কোন কিছুরই অভাব নেই; অভাব শুধু একজন মানুষের.......................
একজন 'মানুষ' যে কিনা যন্ত্রনাকাতর অসহায় এবং গুরুত্বহীন এই মানব শিশুটিকে উদ্ধার করবে; শেষ হবে তার অপেক্ষার পালা।
আছে কি কোন মানুষ.................!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


