প্রতিষ্ঠানের মালিক মোশাররফ হোসেনের জন্য এই ঘটনাটা নিজ কানে শোনাটা ছিল অনেক কষ্টের। যে মোশররফ নিজের শ্রমিকদের এত ভালোবাতেন সেই শ্রমিকেরাই নাকি মিথ্যা গুজবে তাদের নিজ কর্মস্থলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর মান নিয়ে সারা বিশ্বে অনেক বিতর্ক রয়েছে। অনেক কারখানা শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধাতো দূরের কথা ন্যায্য পাওনা বেতনই ঠিক সময়ে প্রদান করে না। আর এই জায়গাতে স্ট্যান্ডর্ড গ্রুপের মালিক মোশাররফ শ্রম আইনের স্ট্যান্ডার্ডটা ঠিকই ধরে রেখেছিলেন। তিনি শ্রমিকদের মনে করতেন নিজের পরিবারেরই একটি অংশ। তাইতো প্রতি মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই প্রতিটি শ্রমিক পাওনা মজুরী পেয়ে যেত।
শ্রমিককে ভালোবাসার অনন্ত দৃষ্টান্ত স্হাপনকারী এই মানুষটির পথচলা কিন্তু ছিল অনেক কষ্টের। মোশাররফের গ্রামের বাড়ি ছিল সিরাজগঞ্জ জেলায়। ছোটবেলায় অনেক কষ্ট করে পড়াশুনা করেছেন। তার বাবার যা আবাদি জমি ছিল তার বেশীর ভাগই চলে গিয়েছিল যমুনা নদীর বুকে। অনেকটা কষ্ট করেই ভর্তি হয়েছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশুনা শেষে নিজের এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কথা ভাবতেন মোশাররফ। আর তাই পোশাক কারখানা খুলে নিজের এলাকার প্রায় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন।দীর্ঘ ত্রিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে যে মানুষটি খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্যের কথা ভাবলেন, সেই মানুষেই কিছু অংশ তার ভাগ্যকে বিপর্যস্ত করল।
তবে মোশাররফ ভেঙ্গে পড়েননি। চেষ্টা করছেন আবারও ঘুড়ে দাড়ানোর। আবারও নিজ এলাকার মানুষগুলোকে ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছেন কর্মসংস্থান। আর এই কারনে তিনিই হতে পারেন আমাদের মত তরুণদের জন্য নতুন এক আইডল। তার মত আমরা যদি সবাই নিজ নিজ এলাকার মানুষের কথা ভাবতাম তবে আমাদের এই বাংলাদেশটা আরো অনেক সুন্দর হতো।
তবে যাইহোক কারখানাটিতে যারা এইরকম ঘৃন্য অপকর্ম চালিয়েছে আমরা চাই তাদের সুষ্টু বিচার হোক। আর যেন কোন সাদা মনের অধিকরী মোশাররফের মত মানুষের প্রতিষ্ঠান গুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এটাই আমাদের কাম্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


