অনেকে অনেক কথা বলছে।
কেউ বলছে এরা ডাক্তার না,কশাই হবে।
কেউ বলছে এরা ভবিষ্যতে ডাক্তারদের মান সম্মান
ডোবাবে।
কেউ কেউ ফেইসবুকে এসব আলোচনা
সমালোচনা বাদ দিয়ে নিজ তাড়নায় মাঠে নেমেছে
১৯৫২ সালের সেই ভাষা আন্দোলন এর মতো প্লাকারড
হাতে।সেই সকাল থেকে দুপুর অবধি রাস্তায় হাতে হাত
বেধে দাড়িয়ে আছে ওরা সবাই।
ওদের পরিচয় হলো ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ তে মেডিক্যাল
পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী।
জাতীয় এবং স্থানীয় সংবাদ পেপারগুলো সেগুলো
প্রতিদিন ফলাও করে প্রচার করছে।মিডিয়া গুলোও
তাদের নিয়ম কানুনের মধ্যে থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা
করছে সেগুলো গনসম্মুখে তুলে ধরতে।
বাংলাদেশ প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ।আর প্রিন্ট
মিডিয়ার দায়িত্ব হচ্ছে কোন বার্তা মানুষের সম্মুখে
তুলে ধরা।আজ যদি আপনি এ বছর মেডিক্যাল পরীক্ষার
প্রশ্নফাস নিয়ে এক জন রিকশাচালক কে জিজ্ঞাসা
করেন,সেও উত্তর দিবে-"মামা আমিও তো শুনছি যে
সারাদেশে প্রশ্ন ফাস হইছে"।
তার মানে দাড়াচ্ছে,এ দেশের সকলেই জানে পরীক্ষার
প্রশ্ন পত্র ফাস হইছে।
জানে না শুধু ২ টি সমাজের লোকজন।তারা হয়ত এ
দেশের নাগরিক নয়,তাই তাদের মাথা ঘামাবার হয়ত
দরকারও পরে না।
১.কিছু কিছু শিক্ষার্থী,যারা এবার ময়মনসিংহ
মেডিক্যাল,ঢাকা ম্যাডিক্যাল সহ বেশ নামিদামি
মেডিক্যাল গুলিতে চান্স পেয়েছে।তাদের ভাষ্য হচ্ছে-
যারা চান্স পায় নি,তারাই এ গুজব ছড়াচ্ছে।আর এবার
পরীক্ষায় এতো নম্বর উঠার কারন জানতে চাইলে এরা
বলে-প্রশ্ন সহজ।তাই নম্বর উঠাটাই স্বাভাবিক।
২. আর দ্বীতিয় গ্রুপ হচ্ছে আমাদের সরকার।তারা হয়ত
দেশ চালাতে ব্যস্ত।দেশের উন্নতি নিয়ে ব্যস্ত।কিন্তু
আমরা অন্তত আশায় বুক বেধেছিলাম যে,আর কোন
মন্ত্রনালয় যেভাবে খুশি চলতে পারে,কিন্তু অন্তত
স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এভাবে চলবে না।কারন এখানে
নাসিম সাহেবের মতো একজন গুনী বিবেকবান মানুষ
আছেন।যিনি ডাক্তারদের মান বাড়ানোর জন্য ভালো
স্টুডেন্টদেরকেই ডাক্তারি পড়ার সুযোগ করে দিতে
চাইছেন।যার ১ম পদক্ষেপ ছিল গত বছর থেকেই পরীক্ষার
পাশ মার্কস ২০ থেকে ৪০ করা।যেখানে শুধু মেধাবীদের
পদযাত্রা। ১৮ তারিখের আগের সংবাদপত্র গুলো যদি
পড়া হয়,সেখানেও তিনি বিভিন্ন সম্মেলনে বলেছেন
যে "এম বি বি এস পরীক্ষায় কোন ছাড় নয়।"
কিন্তু আজ কি হচ্ছে,ওনারা কোথায়??
অন্তত প্রিন্ট মিডিয়া গুলোত তারা দেখে।তারপরেও
কেন তারা নির্বাক????
সারাদিন রাস্তার রদ্দুরে দাড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা
তো চাইছেনা যে,ওই এক্ ফরম ফিলাপের টাকা দিয়ে
তাদের আবার পরীক্ষাটা নেওয়ার জন্যে।
তারা চাইছে "পুনরায় ফরম ফিলাপ করার মাধ্যেমে
একটা নিরপেক্ষ পরীক্ষা দেবার সুযোগ।"তবুও সরকার
নির্বাক কেন!!!!!!!
বেশ কিছুদিন ধরে দেশের সেরা বিদ্যাপিঠগুলোর
মেধাবী মুখগুলো আমাদের সাথে আজ রাজপথে।এখানে
তারা সামিল হয়েছে স্বার্থান্ধ হয়ে নয়,হয়েছে
নিজেদের বিবেকের তারনায়।সেখানে আজ পুলিশ
লাঠি চালাচ্ছে।বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে দেশের এসব
মেধাবীদের বুঝিয়ে দিচ্ছে, এ দেশে এখন আর মেধায়
নয়,শক্তি প্রয়োগে সব সম্ভব।
যখন এই প্রশ্নবিদ্ধ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভর্তির সুযোগ
দেয়া হলো,তখন আমাদের সাথে মেডিক্যালের সিনিয়র
শিক্ষার্থীরা নেমেছিল তাদের ক্যাম্পাসে,সরকারের
এ হঠকারি সিদ্ধান্ত রুখতে।
কিন্তু তাতে খুব লাভ হল না।সেখানে কলেজ কতৃপক্ষ
প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে নবীন চোরদের নিরাপত্তার
ব্যবস্থা করে দেয়।আর আমরা হয়ত তা দেখে মন বেদনায়
ডুকরে মরছিলাম।
বিভিন্ন টকশো থেকে শুরু করে আজ যখন বিবিসি
বাংলাও এই বিষয়টিকে টক অব দ্যা পয়েন্টে নিয়ে
আলোচনা করে,সেখানে সরকার মহলের কারো কারো
মন্তব্যে গোটা জাতি ১৯৭০ এর নির্বাচনের মতো হতবাক
হয়ে পড়ে।
মাঝে মাঝে মনে হয়, যে দেশ ২০১৪ সালের নির্বাচনকে
সুষ্ঠু বলতে পারে,মেনে নিতে পারে,তাদের কাছে
এগুলো হঠকারিতা ও হাস্যকর ব্যপার ছাড়া আর কিছুই
না।
-রাগীব হাসান
(২০১৫ সালের মেডিক্যাল ভর্তি যুদ্ধের এক অসহায়
সৈনিক)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



