somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবা, েতামার িনর্ভরতার ছায়ায়

১৭ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার উদযাপিত হয় বাবা দিবস। বাবা এমন একটি শব্দ যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আস্থা নিরাপত্তা ও নির্ভরতার ছায়া। জীবনের প্রতিটি উত্থান-পতনে সন্তানকে যিনি আগলে রাখেন পরম দায়িত্বে। সন্তানের কাছে বাবা হয়ে ওঠেন ব্যক্তিত্ব গঠনের আদর্শ। শুধু তাই নয় তার ব্যক্তিত্বের ছাপ পড়ে পুরো পরিবারে। এমনিতে বলা হয় ছেলেরা মায়ের প্রতি আর মেয়েদের বাবার প্রতি টান বেশি থাকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তও অনেক সময় একপেশে মনে হতে পারে। কারণ সন্তানের কাছে তার বাবাই আনপ্যারালাল। বাবার কাছে তেমনি ভেদ নেই ছেলে ও মেয়ের। তারা দুই-ই তার সন্তান। সেখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই । নেই কোনো ভিন্ন চোখে দেখার প্রবণতা। বাবার মন তাই সব সময় সন্তানের মনের সঙ্গে বাঁধা পড়ে থাকে। তিনিও যে বর চান, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’Ñ কিন্তু সে কথা কখনো তেমন করে কোথাও লেখা হয় না। বাবা দিবসে বাবারা ভালোবাসা নিন।
জয়িতার কাছে তার বাবাই সব। জন্মের সময় তার মা মারা যায়। এরপর বাবা আর বিয়ে করেননি। সব কিছু সামলে তবু একা বাবা তাকে এমনভাবে লালন-পালন করেছেন যে মায়ের অভাব সে বুঝতেই পারেনি। বাবার সুপার মার্কেটের ব্যবসা। বাড়ির নিচতলায় দোকান। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বাবা এক রকম তাকে কোলে-কাঁখে করেই বড় করেছেন। বাবাই ছিল তার সার্বক্ষণিক বন্ধু, খেলার সাথী। সেই জয়িতা এবার ভিকরুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করল। তার জীবনে বাবার প্রভাব কতটুকু? এ প্রশ্নের উত্তরে জয়িতা বললো, আমার বাবা আমার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে। আমার সমস্ত শিক্ষা, অর্জন, মানুষের সঙ্গে কীভাবে চলতে-ফিরতে হবে, কোনটা ভালো-মন্দ Ñএসব কিছু আমার বাবার কাছ থেকেই শিখেছি। সবচেয়ে বড় কথা আমরা ভালো বন্ধু। দুনিয়ায় আমার যদি কোজ ফ্রেন্ড বলে কেউ থেকে থাকে তাহলে সে আমার বাবা। তার সঙ্গে আমি আমার সবকিছু শেয়ার করি, এমনকি বাবাও তার সমস্যা-অসুবিধার কথাগুলো আমার সাথে আলোচনা করে। আমি বন্ধু-বান্ধবীদের চেয়েও বাবার সঙ্গে গল্প করে বেশি আনন্দ পাই। আমার জীবনের বড় শিক্ষক এবং গাইড বাবা। তিনি আমার জীবনের আদর্শ। এমন বাবা পেয়ে মেয়ে হিসেবে আমি খুব গর্ব অনুভব করি। আমার কাছে আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা।
প্রজ্ঞা ও পারমিতা দুই বোন। প্রজ্ঞা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে অনার্স করছে। পারমিতা কামরুননেসা স্কুলে পড়ছে। ছিমছাম একটি পরিবার তাদের। বাবা একটি কলেজে অধ্যাপনা করেন। মা একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। একটি মেয়ের জীবনে বাবার প্রভাব কতটুকু? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রজ্ঞা বললেন, বাবা হচ্ছেন একটি পরিবারের ছাতার মতো, নির্ভরতার প্রতীক। মেয়ের কাছে বাবাই হলো তার দেখা প্রথম পরুষ। তাই একটি মেয়ের জীবনে বাবার ভূমিকা অনেক। আমাদের পরিবারের কথা বলি, এখানে আমরা সবাই বন্ধু। সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই যখন একসাথে হই স্রেফ ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মতোই আমরা চুটিয়ে আড্ডা দিই। পারমিতা বলল, আমার এক বান্ধবী আমাদের বাসায় এসে এরকম ফ্রেন্ডলি পরিবেশ দেখে দুঃখ করে বলেছিল, ওর বাবা খুব রাগি আর গম্ভীর। তার সঙ্গে এ রকম বন্ধুর মতো আড্ডা দেওয়ার কথা তারা ভাইবোনেরা স্বপ্নেও ভাবতে পারে না। তবে আমার বাবা কেবল আমাদের ভালো বন্ধুই নন, শিক্ষক, পরামর্শকও। মায়ের চেয়ে বাবার সাথেই আমাদের দু’বোনের খাতির বেশি। যেকোনো সমস্যায় পড়লে আমরা প্রথমে বাবাকে জানাই। বাবা আমাদের সমাধান দেন। এমনকি আমি যদি কোনো ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নিই, বাবা বুঝিয়ে-সুঝিয়ে নিরস্ত করতে না পারলেও কখনো জোর করেন না। কারণ ভুল থেকে যাতে আমি শিক্ষা নিতে পারি।

বাবার জন্য উপহার
বাবা দিবসে বাবাকে কীভাবে শুভেচ্ছা জানাবেন, কী উপহার দিবেনÑ ভেবে পাচ্ছেন না? সবার আগে ভেবে দেখুন আপনার বাবা কেমন মেজাজের মানুষ, তার পছন্দ-অপছন্দ কী। তিনি যদি বই, পত্র-পত্রিকা অথবা দেশ-বিদেশের রাজনীতির খবর রাখতে ভালবাসেন তাহলে তার পছন্দের কোনো লেখকের বই, রাজনীতি বিষয়ক তার প্রিয় ম্যাগাজিন কিনে উপহার দিন। যদি ছবি দেখতে ভালবাসেন তবে প্রিয় পরিচালক ও অভিনেতা-অভিনেত্রীর ছবির ডিভিডি দিতে পারেন। খেতে ভালবাসলে নিজেই বাবার প্রিয় কোনো খাবারের মেন্যু তৈরি করুন। পোশাকের প্রতি বাবার দুর্বলতা থাকলে জামাকাপড় গিফট করুন। ঘুরতে ভালবাসলে বাবাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়–ন, চলে যান শহরের ভিতরে অথবা শহরের বাইরে এমন কোথাও যেখানে আপনার বাবা এখনো যাননি। আর বাবা আড্ডা প্রিয় মানুষ হলে তার প্রিয় কোনো মানুষকে বাসায় এনে হাজির করে চমকে দিতে পারেন, তারপর চলুক তুমুল আড্ডা। এছাড়া টুকিটাকি গিফট আইটেম তো রইলই। যেমনÑ ফুল, কার্ড, মাটির জিনিসপত্র ইত্যাদি। আসল কথা হলো বাবাকে কীভাবে খুশি করবেন সেটা। সুতরাং এমন কিছু দিন বা করুন যাতে আপনি বাবার সাথে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পারেন।




৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×