বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলই বাঁকা পথে চলছে। এভাবে চলতে থাকলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দেশও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যদিও কিছু আগে দিন দু’দলের মধ্যে এক ধরনের সংলাপের ইতিবাচক সাড়া দেখা দিয়েছিল। এতে দেশের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। পরবর্তীতে সেটা আর কাজে লাগেনি। আবার যেহেতু জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব আমাদের মধ্যে এক ধরনের সংলাপের চেষ্টা করছে সে জন্য দুই দলের শীর্ষ নেতাদের এখন আলোচনায় বসা উচিত। কী করলে দেশের ভালো হবে, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নিতে হবে। অযথা হরতাল-অবরোধ দিয়ে জনজীবন দুর্বিষহ করে তোলার অধিকার জাতি তাঁদের দেয়নি। গত সাড়ে চার বছরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অধিকাংশ নেতাদের কাছ থেকে অশুভবুদ্ধির পরাক্রম দেখতে হয়েছে। এখন সেই অশুভবুদ্ধিকে শুভবুদ্ধিতে পরিণত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিমধ্যে দুটি দল থেকে আলাদা আলাদা প্রস্তব এসেছে। এটাকে সবাই আশার আলো হিসেবে দেখছিল। অনেকে একটা রুপরেখা দিয়েছিল। যদিও এই তাদের এই রুপরেখাকে অনেকে পরস্পরবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন । তারপরেও ওই রুপরেখা প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেত্রীর পদক্ষেপে একটা ঐক্যমতে আসা সম্ভব তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে এক ধরনের ঘৃণা জন্মিয়েছে। এখন যে রাজনীতি চলছে, তাকে অসুস্থ রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই ভাবতে চাননা অনেকে। যা ঘটছে তা অসুস্থ রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। এটা থেকে আমাদের সব রাজনৈতিক দলকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিতে যে ন্যূনতম কোনো সম্প্রীতি নেই তা নেতানেত্রীদের ভাষণ শুনলে কারর বুঝতে বাকী থাকে না। তারা সব সময় প্রতিশোধ, ব্যক্তিচিন্তাকে প্রাধান্য দেয়। যাঁরা ক্ষমতায় নেই, তাঁরা ক্ষমতায় যাওয়ার আর যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা একে আঁকড়ে থাকার অপচেষ্টা করেন। কিন্তু যে জনগণের ভোটে তারা ক্ষমতায় আসেছে তারা তখন তাদের কথা ভূলে যায়। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংঘাত থেকে উত্তরণের জন্য সংলাপের বিকল্প নেই। দুটি প্রধান রাজনৈতিক জোটের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। সম্প্রতি সময়ে দু’দলের মহাসচিবদের চিঠি চলাচালি ও ফোনালাপ শুরু হয়েছে। যেহেতু আবার সংসদ বসেছে সেহেতু জাতীয় সংসদের স্পিকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এছাড়া এই সংলাপকে দ্রুত সময়ে করার জন্য দুই প্রধান রাজনৈতিক জোট থেকে তিনজন করে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংসদে আলোচনা শুরু করতে পারেন। নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোলাটে হলে এটা দেশের জন্য অশনি সংকেত। প্রধান এই দু’দল নিয়ে দেশের মানুষ নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন। গুটি কয়েক সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তের কাছে পুরো জাতি জিম্মি হতে পারে না। আমরা সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছি। নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা পাচ্ছি না। গণমাধ্যমের কারণে এখন কোনো কিছুই গোপন করা যায় না। শাঁখারীবাজারের বিশ্বজিৎকে যেভাবে মেরে ফেলা হলো, তাতে এই ভয় আরও বেড়েছে। হত্যাকারীরা যে দলেরই হোক, তাদের শাস্তি দিতে হবে। আর আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে যেসব উন্নয়ন হয়েছে, রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে তা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এটা আমাদের কারও কাম্য নয়। যে কারও মতামত দেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু তাই বলে এভাবে সংঘাতের মাধ্যমে মতামত প্রকাশ কাম্য হতে পারে না। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের রাজনৈতিক সংকট হলেই বিদেশিরা এসে সমঝোতার চেষ্টা করেন। এটাও আমাদের কাম্য নয়। আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। এজন্য সংঘত নয় সংলাপই আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাম্য।
আলোচিত ব্লগ
শেষের কবিতা

(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)
অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার সোভিয়েত শৈশব

বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?
রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।
তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন
চিকিৎসকের অবহেলা

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?
সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।