somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা এক হতে পারি না কেন !?

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট একটা দেশ, অনেক মানুষ। স্বপ্নও অনেক। খুব বড় বড় স্বপ্ন তো না। ছোটখাট কিছু স্বপ্ন নিয়েই সবাই একেকটা জীবন পার করে দেয়। অজস্র স্বপ্ন। পূরণ হয় খুব সামান্য কিছু। পূরণ হওয়া সেই স্বপ্নগুলো নিয়ে আমাদের যত উচ্ছ্বাস। হাজারো সমস্যা ভুলে গিয়ে আমরা মুহূর্তেই আনন্দে ভেসে যেতে পারি। রাস্তায় চলতে সমস্যা, ঘরে সমস্যা, বাইরে সমস্যা। সব সমস্যা নিয়েও আমরা বিশ্বের সুখী দেশগুলার মধ্যে উপরের সারিতে আছি।
যে দেশের মানুষ দেশের জন্য এত এত আবেগ বুকে লালন করে, যে দেশের ছেলেরা প্রাণপণ লড়াই করে যায় দেশের জন্য, মাঝেমধ্যে আবেগের বশেই ভুল করে বসে; তারা সুখী হবে না তো কে হবে? আবেগে ভেসে যাওয়াতেও তো সুখ আছে! কয়টা দেশের মানুষ পারে দেশের জন্য ভালোবাসার আবেগে ভেসে যেতে? কত কোটি টাকা পকেটে থাকলে এই আনন্দ পাওয়া যায়?

সব কিছুর পরেও আমরা সুখী। কারণ, আমরা দেশকে ভালোবাসতে জানি। এরপরও আমাদের জীবনটা অনেক কঠিন, কারণ কিছু লোক দেশকে ভালোবাসার মাঝে আনন্দটুকু বুঝতে শিখে নাই। তাদেরকে কেউ কখনো বলে দেয় নাই দেশকে ভালোবাসতে পারলে কেমন অনুভূতি হয়। তাদের জন্য দেশটা কষ্টে আছে, আমরা সমস্যায় আছি। তারপরও রাতে দু'চোখের পাতা এক হয়ে আসার সময় আমরা নিজেদেরকে সুখী মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করি। কারণ, দেশটাকে আমরা ভালোবাসি, এদেশটাও মায়ের মতো করে আমাদের ভালোবাসে। ভালো থাকার জন্য আর কী লাগে!

প্রতিবার বাংলাদেশের জয় টিভি পর্দায় দেখার পর অদ্ভুত ভালো লাগার একটা অনুভূতি হয়। একটু পর আবার সামান্য মন খারাপ হয়। মনে হয়, ইশ! এই জয়টা যদি গ্যালারিতে বসে দেখতে পারতাম! যারা এর আগে গ্যালারিতে বসে বাংলাদেশের জয় দেখেছে তারা এটা বুঝবে। গত ওয়ার্ল্ড কাপে (২০১১) ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইণ্ডিজের সাথে ৫৮ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জায় পড়তে হয়েছিল। পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য ইংল্যান্ডকে হারাতে হবে। যদিও মনোবল নড়ে গেছে বাংলাদেশের।
খেলার দিন। বাংলাদেশ খুব ভালো অবস্থানে। মনে হচ্ছিল দিনটা আমাদের। হঠাত এলোমেলো হয়ে গেলো সবকিছু। দ্রুত উইকেট পড়তে শুরু করলো। পুরো গ্যালারি চুপ। মানুষজন মন খারাপ করে চলে যাচ্ছে। ৭ উইকেট পড়ার পর সবাই লাইন ধরে গ্যালারি খালি করতে একতাবদ্ধ হয়ে গেলো! যারা আছে, ইচ্ছা মতো গালি দিচ্ছে! চুপ করে বসে আছি। মন খুব খারাপ। সেই ম্যাচটা মাহমুদুল্লাহ, আর শফিউল মিলে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে জিতায় দেয়। আমাদের পিছনে বসে থাকা ঢাকা থেকে আগত এক দল দর্শক ( যারা হা-হুতাশ করে যাচ্ছিল, আর গালি দিচ্ছিল) তখন হাউমাউ করে কাঁদছে। দেশকে অনেক ভালোবাসে তো, তাই!
এশিয়া কাপে ইন্ডিয়ার সাথে ম্যাচে বাংলাদেশ যখন প্রায় জিতে যাচ্ছে তখন গ্যালারি জুড়ে ভেসে আসা গান- "জয় বাংলার বাংলার জয়! হবে হবে হবে, হবে নিশ্চয়!"
মুহূর্তগুলো লিখে বুঝানো সম্ভব না। যদি বুঝানো সম্ভব হতো, তাইলে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারতো না। দেশকে বেশি ভালোবাসলে মাঝেমধ্যে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না!

আমি জানি, বেশিরভাগ মানুষই দেশকে অসম্ভব ভালোবাসে। কিন্তু সামান্য কিছু মানুষ নিয়েই সমস্যা। ওই সমস্যাটা তো আমরা এক হয়ে দূর করতেই পারি। শুধু এক হওয়া এই আমাদের আনন্দাশ্রুতেই তো ওই নোংরা কীটগুলো ভেসে যাওয়ার কথা!
আমরা এক হতে পারি না কেন...!?
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×