somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু সাধারন কথা।

১১ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এসএসসি ও এইচএসসি সহ অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষায় এখন গণহারে জিপিএ-৫, গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এর মধ্যে একটি বড় অংশের ফলাফল কিন্তু জিপিএ-৫ এর নিচে থাকে। এই পোস্টটি যারা এবার পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওনি শুধুমাত্র তাদের জন্যই।

জিপিএ-৫ না পেলে স্বভাবতই হতাশ হয়ে পড়বে। যেদিকে তাকাবে সেদিকেই দেখবে সবাই তোমার থেকে ভালো ফলাফল করেছে। তোমার পরিবার থেকে এজন্য অনেক কথা শুনতে হবে। অনেক খারাপ লাগবে তোমার নিজেকে। সান্তনা পেলেও সেটাও ভালো লাগবে না। এখন রেজাল্ট তো খারাপ হলোই, এটা আর কিছু করা যাবেনা। তাই চলো দেখে আসি এই খারাপ রেজাল্ট নিয়েই এখন কি করা যায়ঃ

১. কে কি বলল তা নিয়ে বেশি মাথা ঘামনোর দরকার নেই। তোমার রেজাল্ট ভালো হয়নি দেখে অনেকের কাছে অনেক বাজে কথা শুনতে হবে। রেজাল্ট কেন খারাপ হলো এর উত্তরে "আমি এটা করার সুযোগ পাইনি তাই রেজাল্ট খারাপ হয়েছে", "পরীক্ষার হলে এই সমস্যা ছিলো তাই" ইত্যাদী কারন দেখানো থেকে বিরত থাকো। হয়তোবা অনেক কারনই থাকতে পারে কিন্তু সেগুলো নিয়ে আক্ষেপ করলে এখন কোন লাভ হবেনা, উল্টো মনটা খারাপ হয়ে থাকবে। সব দোষ নিজের হিসেবে মাথা পেতে নাও। রেজাল্ট নিয়ে অযথা দিনের বেশিরভাগ সময় হা-হুতাশ করে ও মন খারাপ করে ঘরের কোণে পড়ে থেকো না। এতে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই হবেনা।

২. তোমার এই রেজাল্ট একদিন কোন কাজেই আসবে না। এই রেজাল্ট খারাপ হওয়ার ফলে তুমি যে কত হা-হুতাশ করেছো সেটাও একদিন তুমি হাসতে হাসতে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় গল্প করবে যদি তুমি একটি ভালো ভার্সিটিতে পড়তে পারো। তোমার জিপিএ কম তাই পয়েন্টও কম আসবে। অন্য ভালো রেজাল্টওয়ালাদের চেয়ে বেশি ভালো করতে হবে তোমাকে। তবে কখনো হাল ছেড়ে দিও না। অনেক কম জিপিএ পাওয়া ছেলে বা মেয়েটি গোল্ডেন পাওয়া ছেলে বা মেয়েটির থেকে ভালো রেজাল্ট করেছে ভার্সিটি এডমিশনে এমন উদাহরন অনেক আছে। হয়তোবা তুমি ছোটকাল থেকে যে স্বপ্নের ভার্সিটিতে পড়ার আশা করে এসেছো তাতে এডমিশন টেস্ট দিতে পারবে না কম জিপিএ এর জন্য। কিন্তু একটা ব্যাপার চিন্তা করে দেখো, তোমার ওই স্বপ্নের ভার্সিটিতে অনেকেই পড়ে। পড়াশোনা করে তারা বড় চাকরী করে, টাকা কামায়, সংসার করে, তারপর একদিন মরে যায়। খুব কম মানুষই তাদের মনে রাখে। জীবনে কিছু করতে চাইলে তা যেকোন জায়গা থেকেই করা যায়।

৩. এখন আসি যাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ার ইচ্ছা তাদের কাছে। তোমার যেহেতু জিপিএ কম এবং পাবলিকে পড়ার খুবই ইচ্ছা তাই তোমাকে একটু বেশি কষ্ট করতেই হবে। যেসব ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে তার সবগুলোতে ফর্ম তুলে ফেলো। তুমি ঢাকায় থাকলে ঢাকার বাইরের ভার্সিটিগুলোও বাদ দিবে না। পরীক্ষার আগে এই কয়েকটা দিন জান-প্রান দিয়ে পড়াশোনা করো। হয়তো টাইম কম, তোমার প্রায় সব পড়াই বাকি। তবুও হাল ছেড়ে দিওনা। ভালো করে পড়লে একটা না একটাতে চান্স পাবেই তুমি।

৪. তোমার যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য খুবই আগ্রহ থাকে তাহলে অবশ্যই তোমার সে বিষয় নিয়ে পড়ার চেষ্টা করা উচিত। হয়তো ওমুক ভার্সিটি খুব ভালো কিন্তু তাতে তোমার পছন্দের বিষয়টি নেই। তোমার অবস্থা যদি "পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পেতেই হবে" এমন না হয়ে "এই সাবজেক্টে আমার পড়তেই হবে" এমনটা হয় তাহলে তুমি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমার পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করার চেষ্ট করতে পারো। এক্ষেত্রে অবশ্যই অবশ্যই তোমার আর্থিক অবস্থা চিন্তা করে দেখবে। কোন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমার পছন্দের সাবজেক্টটি রয়েছে এবং তার মান কেমন তা খোজ নিয়ে দেখো। তুমি তোমার প্রিয় বিষয়টি নিয়ে আসলেই পড়ে মজা পাবে কিনা তা বুঝার জন্য ওই বিষয়ের উপর ইন্টারনেটে বিভিন্ন অনলাইন কোর্স করে দেখতে পারো, বই-পত্র ঘাটাঘাটি করে দেখো। । তবুও পছন্দের ভার্সিটিতে না পেলে পরবর্তী পছন্দের ভার্সিটির পছন্দের সাবজেক্টে ট্রাই করো।

৫. পরীক্ষার প্রিপারেশন নেবার দিনগুলোতে নিজের মাথা সবসময় ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করো। আমি এইদিনে এই পড়াগুলো শেষ করবো - তার লিস্ট করো প্রতিদিন সকালে উঠে। এসময় এই কোচিং সেই কোচিং এ না গিয়ে নিজে বাসায় পড়লেই তা বেশি কাজে দিবে। মডেল টেস্ট দাও। শর্ট টেকনিকগুলো শিখো।আগের বছরের প্রশ্ন গুলো সলভ করার চেষ্টা কর।

৬. যদিও আমি মনে করি পড়াশোনার সাথে অন্য কোন বিষয়ের সম্পর্ক নাই। তবুও এসময় ফেসবুক,ইন্টারনেট,টিভি,মুভি,মোবাইল ইত্যাদিতে দরকারী কাজ ছাড়া সময় ব্যয় করো না। ফেসবুক ব্যবহার করো ভার্সিটি এডমিশনের তথ্য পেতে বিভিন্ন গ্রুপের পোস্ট দেখতে, বন্ধুদের সাথে এডমিশন নিয়ে চ্যাট করতে। মনে রেখো, ইন্টারনেট থেকে একটি এডমিশন সার্কুলার ডাউনলোড করতে যেয়ে তুমি যেনো ইউটিউবের একটি মজার ভিডিও দেখে ২৫মিনিট সময় ব্যয় না করো।

৭. এসময় বন্ধুদের সাথে আড্ডায় সময় কম ব্যয় করো বা কোথাও কম ঘুরতে যাও। আবার সারাদিন-রাত বাসার মধ্যেও বসে থেকো না। তাতে পড়ায় মন বসবে না।নিজেকে সময় দাও।প্রতিদিন নিজের জন্য কিছু সময় রাখো।এই সময় নিজের কাছে নিজে প্রশ্ন করে নিজের লক্ষ্য ঠিক কর।

৮. নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নাও। পরীক্ষার আগের দিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় চিৎপটাং হয়ে পড়ে থাকলে কিন্তু বেইজ্জতি হয়ে যাবে। ঠিকমত খাবার খাও, কমপক্ষে প্রতিদিন ৬ ঘন্টা ঘুমাও। আবার খুব বেশিও ঘুমাবে না। রাত জেগে থাকবে না, রাত জেগে পড়তে হয়না - এসব ফালতু কথা। কারো দিনের আলোতে পড়ায় মন বসে আবার কারো কারো রাতের বেলা চারদিক নীরব হয়ে গেলে ভালো পড়া হয়। তাই নিজের সুবিধামত একটি টাইমিং করে নাও। প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী চলার চেষ্টা করো।

৯. এসময় চট করে রেগে যাওয়া যাবে না। নিজের মাথা ঠান্ডা রাখো। খারাপ রেজাল্ট নিয়ে চিন্তা না করে সময়কে কাজে লাগাও। তোমার চেয়ে বয়সে যারা বড় আছে তাদের কোন কথায় রাগ প্রকাশ করবে না। কিংবা কোন পরামর্শকে অবহেলা করবে না। সবসময় মনে রাখতে তোমার চেয়ে বয়সে বড় একজন মানুষ সে যদি মুর্খও হয় তবু জীবন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা তোমার থেকে বেশি। তাই তাদের সম্মান দাও, কথার দাম দাও।

১০.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়;অনেকেরই ইচ্ছা থাকে সেখানে পড়ার।তাই যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাও,এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকো।হাতে বেশি দিন সময় নেই।যেই ইউনিটে পরীক্ষা দিবে সেই ইউনিটের বিষয় গুলোর উপর প্রস্তুতি নিতে থাকো।নিজে নিজে প্রস্তুতির উপর বেশি জোর দাও।।হ্যা,পরীক্ষার আগে অনেক কথা শুনবে যে অনেক অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিবে,প্রতি সিটের বিপরীতে এত এত ছাত্র-ছাত্রী।কিন্তু তোমার যুদ্ধ কেবল-মাত্র তোমার সাথে।যদি তুমি পরীক্ষা দিতে ঢোকার আগ-মুহুর্তে নিজের কাছে নিজে সন্তুষ্ট থাকো যে তোমার প্রস্তুতি খুবই ভাল হয়েছে তাহলে তোমার অবশ্যই সুযোগ হবে তোমার পছন্দের জায়গায় পড়ার।

এসএসসি ও এইচএসসির রেজাল্ট এই দীর্ঘ জীবনে কিছুই না।তুমি যদি এই ক্ষুদ্র রেজাল্ট নিয়ে হতাশায় ভোগ,তাহলে বাকি দীর্ঘ জীবনে কি করবে?এখন তোমার পিতা-মাতা আছে,তখন হয়তো কেউই থাকবে না।আর মানুষ জন কথা বলবেই,আমাদের স্বভাবই এই রকম।কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে,জীবন তোমার ,জীবনকে গড়ার দায়িত্বও তোমার।তুমি ভাঙবে আবার উঠে দাঁড়াবে,আবার ভাঙবে আবার উঠে দাঁড়াবে,জীবন এই রকমই।এক সময় আসবে যখন তোমাকে আর কেউ ভাঙতে পারবে না।

আমার এই লেখার মাধ্যমে কারো যদি ক্ষুদ্র উপকারও হয় তাহলেই আমার এই লেখা সার্থক।।
ভালো থাকবে এবং পিতা-মাতার সাথে ভাল ব্যবহার করবে।।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:২৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×