somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাম্ভীর্য

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"হাসিখুশি থাকা মানুষটি যখন গম্ভীর হয়ে থাকে তখন তার ঘনিষ্ঠরা দূরে সরে যায়"

রাফি আজ ক্লাসে যায়নি,বাইরেও না। সারাদিন রুমে ছিলো সন্ধ্যায় ছাদে। এখন রাত দেড়টা, এখনো সে ছাদে। সারাদিন না খাওয়া কাঠফাটা ওষ্ঠদ্বয় সিগারেটের ধোঁয়ার কথা স্মরণে আনে; তবে সে ঐসবে অভ্যস্ত না। নাহ্ স্মরণে অনেক কিছু খেলে তবে সে কথা কেউ জানে না, জানানোর মতোও না;বুঝবেও না কেউ। তবে মূল ভাবনার জিনিস এইটা ছিলো না, মাথায় কিছু খেলছে না.. সবাই সবার নিজের কাজে ব্যাস্ত হালকা অভিমান খেলে মনে। পরে নিজের উপরেই অভিমান করে এইসবের জন্য।

"ভালো মনের মানুষগুলা নিজের ভুলটাই আগে দেখে"

রাফি এই কথাটা নিজের উপর প্রয়োগ করে না, কথাটাই তার মতো মানুষের জীবন থেকে তৈরি। কিছুক্ষণ পর সে নিজেকে মনে মনে দু-চারটা থাপ্পড় মারে সবার এন্টারটেইনার ভেবে এরপরই সবার হাসিটা তার চোখের সম্মুখের স্পষ্ট অংশে ভাসতে থাকে। কাউকে হাসাতে পারাটা খুব বেশি খারাপ কিছু না।

"সবসময় লবন দেয়া খাবার খেয়ে অভ্যস্ত মানুষগুলা হুট করে লবন ছাড়া খাবার যেমন গিলতে পারে না তেমনি হয়তো হাসিখুশি মানুষগুলোকে হুট করে মনখুন্ন দেখতে পারে না। হয়তো ভালোবেসে অথবা বিনোদনের জন্য।"

নাহ্! সবকিছু ভালোই চলছে কিন্তু নিজের কাছে ঠিক লাগছে না। সেল্ফিশ টাইপ হয়ে যায় হয়তো। নিজের ভালো থাকার উপর নির্ভর করে কারো ভালো থাকা আবার কারও খারাপ থাকা। হয়তো আপনার প্রেমিকা আপনার শত কষ্ট থাকা সত্ত্বেও হাসি মুখটা দেখার জন্য অধীর দৃষ্টিতে তার দেখা সুন্দরতম চেহারার দিকে তাকিয়ে আছে অথবা ক্ষতি কামনা করছে আপনার ক্লাসের সেই ছেলেটি যে আপনার প্রেমিকাকে আপনার চেয়েও বেশি ভালোবাসে একপাক্ষিক ভাবে।

ভালোবাসাটা রাফির কাছে এতটা সস্তা না। কিন্তু সে বুকে হাত রেখে বলতে ভয় পায় সে কাউকে ভালোবাসে। নিচে আম্মা খাবারের জন্য ডাকছে। আম্মার জন্য সে সবকিছু উজার করে দিতে পারবে কিন্তু তার জন্য তার কখনো পরীক্ষা দিতে হয়নি অথচ জীবনটা তৈরি করতে সহস্রাধিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হয়। কিন্তু জীবন বিপন্নকালে পূত্রের জীবনবিকাশে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত ঘটিয়ে মা কখনো বাঁচতে চাইবে না রাফি এটাও জানে। তবে জীবন উজার করার কথাটা কি মিথ্যা? মা তো তাকে তার থেকে বেশি ভালোবাসে; এজন্য সে তার ভালোবাসাকে মিথ্যা প্রমান করে দিবে?

রাফির আজকে মন খারাপ। ছেলেদের কাঁদতে হয়না নাকি! অন্ধকারে কাঁদলে তাকে কেউ দেখবে না ভেবে নিজেকে দুইজন কল্পনা করে শরীর মন আলাদা করে কান্না থামিতে বসে থাকে। সত্যিকারের মন খারাপগুলি দূর করার জন্য কখনো কোনো গান কিছু করতে পারে না। সেগুলা বয়সকেন্দ্রিক মন খারাপ। সত্যিকারের মন খারাপগুলি নিজেকে স্তরে স্তরে পঁচিয়ে দেয়।

পেছন দিক থেকে সাদা লাইটটা জ্বলেছে।আম্মা এসে তার পাশে বসেছে। অনেক অজানা গুলো আম্মার কাছে অজানা রেখেই আম্মা' কে সে মনের সুখগুলো বলেছে। দুপুরে ভাত খায়নি বলে ছেলের জন্য মা আলুভর্তা করে ভাত মেখে রেখেছে খাইয়ে দিবে বলে। হয়তো মন ভালো করার জন্য মা,মাখা ভাত,আলুভর্তা আর ভালোবাসাগুলোই দায়ী ছিলো।

"হয়তো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জিনিষই হতে পারে মন ভালো করার মূল মন্ত্র"

সে যা করে তাতেই তার পরিচয়, নিজেকে পরিবর্তন করে পরিচয় হারানো উচিৎ না।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×