somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃতপ্রায়

১৩ ই মে, ২০১৮ সকাল ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চুপচাপ বিষণ্ণ আকাশ, নিস্তব্ধ পরিবেশ এবং অন্ধকার রাত। হয়তবা অন্যান্য স্বাভাবিক রাতের মতোই রাত একটা সবার কাছে। কিন্তু আমার কাছে? যেখানে জীবন নিজেই প্রতারণা করে সেখানে রাত স্বাভাবিক হয় কিভাবে?

জীবনের শেষ ১১ দিন গুনছি। রাতগুলো অনেক তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছে কেমন যেন! ডাক্তার ৪মাস সময় দিয়েছিলো মিনিট গুনতে গুনতে এখন ১১দিন বাকী। পৃথিবীতে হয়তো জীবনের সবাই সমান ভাগ পায়না। অংশীদারীত্বের প্রভাবে অনেকে অনেক বেশি পায় আবার অনেকে অনেক কম।

বাঁচার শেষ কয়েকমাস হাঁড়ে হাঁড়ে টেড় পেয়েছি মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে। স্বাভাবিক ছিলো না একটুও, সত্যি.. বাসা থেকে বের হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মায়ের নাপা এক্সট্রা আর খাবার দিয়ে শক্তি বাড়ানোর চিকিৎসাটাই সবচেয়ে ভালো ছিলো। আমি চাইনা হাসপাতালে বসে রোগীদের মাঝে বসে রোগকে উপভোগ করতে। চাই আকাশটাকে, বাতাশটাকে আপন করে নিতে।

ছোটবেলায় জীবনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম। বড় হয়ে আর্কিটেক্ট, তখন আর্কিটেক্ট নামটা ভাল্লাগতো বলে হতে চেয়েছিলাম এখন হতে পারবো না বলে হতে চাই। আশাটা ছিনিয়ে নিয়েছে জীবন.. চুলগুলোও!

বাকী ১১দিন ভালো থাকতে চাই, সবকিছু ভুলে থেকে। শেষ ৪মাস যাবৎ একই পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু হচ্ছে না... আত্মীয় স্বজনের হাসপাতালে আসা যাওয়া চলতেই থাকে এবং জীবিত কে মৃত বানিয়ে নানাবিধ কান্নার রোল পরতে থাকে। আম্মাকে কতবার বুঝালাম "আউট পারসন নট এলাউড" সে বুঝলোই না। তাকে কিছু বললেই কান্নাকাটি শুরু। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও চোখের পানি বের হয়ে যায় তখন। কি যে হয়!

বাবা-মার একমাত্র ছেলে আমি.. মাঝেমধ্যে বসে হিসেব করি বোনদের বিয়ে তে কি করবো। পুরো লিস্ট বানিয়ে কাগজটা বারবার ডাস্টবিন এ ফেলি, আবার বানাই। শেষ বয়সে হালধরার কথা এখনি রাস্তায় নামিয়েছি এই জিনিসটা অদ্ভুত। আমি চাইনা এসব.. শুধু চাই নিজের বাসায় কয়েকদিন স্বাভাবিকভাবে থাকতে, কিন্তু সেখানেও সমস্যা! মানুষের এমন ঢল পড়ে বাসায় মনে হয় আমি এলিয়েন।

সেদিনই বোঝালাম সবাইকে.. "মরেই তো যাবো.. চলো একটা ফ্যামিলি ট্রিপ দেই দূরে কোথাও" কিন্তু ডাক্তার যেতে দিতে রাজি না।

আগে বছর হিসাব করতাম। রোগ ধরা পরার পর ঘন্টা, সময় কমতে থাকার পর মিনিট, এখন সেকেন্ডও হিসাব করি। জীবনের শেষ সেকেন্ডগুলা। আকাশটা দেখার খুব ইচ্ছা, সবাইকে হাসিখুশি দেখার খুব ইচ্ছা, বলবো করে না বলা কথা গুলো বলার খুব ইচ্ছা..

জীবনের শেষ ইচ্ছাগুলো অদ্ভুত হয়। হয়তো খুবই সিম্পল ইচ্ছাগুলো, কিন্তু পূরণ করা অসম্ভব।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৮ সকাল ১১:৩৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×