যোগাযোগের গভীর সমস্যা নিয়ে কয়েকজন একা একা লোক
(কালকের পোস্টের পর)
[গাঢ়] দুই. [/গাঢ়]
1.
ব্রাত্য যখন আব্দুর রাজ্জাকের বসের প্রসঙ্গ তুললোই, এখন আমার উচিত ঘটনাটি, পুরোটা না হলেও--তার অন্তত একটি সুতো, ঢাকায় নিয়ে আসা। এ কাজটি মোটেও অলৌকিক নয়, এমনকি আধুনিক একজন সৈয়দের জন্যও। তবে আব্দুর রাজ্জাকের সাপাহার-যাত্রা যতোটা জটিল ছিল--সে কথায় পরে আসছি--আমি দুঃখিত, ঘটনার এই ফেরতযাত্রা সে রকম জটিল কিছু নয়। নয় বলেই আমাদের কাজটা কিন্তু কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। ই এম ফর্স্টার তাঁর Aspects of the novel গ্রন্থে বলেছেন, কাহিনী যত জটিল হবে, ততই ঔপন্যাসিকের সুবিধে। লক্ষণীয়, ফর্স্টার একবচন ব্যবহার করেছিলেন। যেন, জগতে যুগ্মভাবে কেউ কোনো অমর কীর্তি সৃষ্টি করতে পারে না, যেন ঈশ্বরের মতো ঔপন্যাসিকরা হবেন একবচনীয়, একা!
যাহোক, এই ভণিতাটুকুর একটি দ্বান্দ্বিক অনিবার্যতা আছে--কারণ, অচিরেই আমরা পরিচিত হব আব্দুর রাজ্জাকের বস বদরুদ্দীন মন্ডলের সঙ্গে। ওই একটি মানুষের সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তির কোনো সম্পর্ক নেই। যেন, তার মগজের স্থানে আছে শুধু মাংস, অথবা মৃত্তিকা। মণ্ডলের পিতা নির্মলেন্দু গুণের মতো কবি হলে ছেলের নাম হয়তো রাখতেন, মৃত্তিকা।
মণ্ডল এখনও বিশ্বাস করে ইত্তেফাক-এ বিজ্ঞাপন দেখে সে পছন্দসই পাত্রী যোগাড় করতে পারবে। সে যখন খানের বিজ্ঞাপনটি পড়ে, ইত্তেফাক-এ (আসলে তার বেশ কিছুক্ষণ পর) তার মনে হয়েছিল এ রকম দু'টি মেয়ের জন্য সে অপেক্ষা করে ছিল আজীবন। আসলে কি তাই?
কী ছিল সেই বিজ্ঞাপনে?
সরফরাজ খান নিজের হাতে মুসাবিদা করেছেন বিজ্ঞাপনটির। তিনি গিয়েছিলেন করুণানিধির কাছে। কিন্তু করুণানিধি নারীবাদী সাহিত্য ও সমাজতত্ত্বের মনোযোগী ছাত্র, 'নারীপক্ষ'র নীরব সমর্থক, সে পরিষ্কার বলে দিয়েছিল, এরূপ বিজ্ঞাপন নারী জাতির জন্য অবমাননাকর।
সরফরাজ খান জন্ম থেকেই বিনয়ী, নম্র স্বভাবের। দীর্ঘদিন সাপদের সঙ্গে থেকেও সাপদের চরিত্রের কিছুই তিনি গ্রহণ করেননি। তাকে লাঠি দিয়ে মারলেও ফণা তুলবেন না। তবুও, কিছুটা আহত স্বরে বলেছিলেন, করুণানিধিকে, কিন্তু মেয়ে দু'টি দীর্ঘদিন অবিবাহিত--বস্তুত তারা জন্ম থেকেই অবিবাহিত--ধরুন যদি কিছু হয়ে যায়, কোনো অঘটন। তিনি হাতের মুদ্রায় প্রতাপশালী সর্বহারাদের নানা রোমহর্ষক কৃতকর্মের দিকে ইঙ্গিত দিলেন এবং এতে করুণানিধির ক্রোধ জাগ্রত হলো--তাহলে কি নারী জাতির প্রতি তা খুব সম্মানজনক হবে?
করুণানিধি ক্রোধের সঙ্গে বললেন, তাদের ঘরের বাইরে আসতে দেন কেন? দেখি তো, সব সময় আপনার দুই মেয়ে বাইরেতেই ঘোরাফেরা করে।
করুণানিধির এই বক্তব্যে অলক্ষ্যে বসে নারীবাদী তত্ত্বের দেবীরা--যথা সান্ড্রা গিলবার্ট ও এলেন সিক্সু--মুচকি হাসলেন। এই ভয়ানক লিঙ্গবাদী বক্তব্যে! কিন্তু সফররাজ খান আরো আহত হয়ে ফিরে গেলেন।
তারপর যা পাঠালেন ইত্তেফাক-এ--
পাত্র চাই : সুদর্শনা, শিক্ষিতা, উচ্চ বংশীয়া, সম্ভ্রান্তা মুসলিম পরিবারের স্মার্ট এবং কলেজ পাশ মেয়ের জন্য সচ্ছল, মার্জিত রুচির পাত্র চাই। দুই পাত্রী, দুই বোন--ঘরকন্নায় কুশলা, ধার্মিকা, রুচিশীলা। সুপাত্রের যে কোনো দাবী বিবেচনা করা হইবে।
সফররাজ খান তার নিজের নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন, সর্বহারাদের ভয়ে কিনা কে জানে। যে নাম ও ঠিকানা দিয়েছিলেন তা ছিল পাঁচু ময়রা, কুললক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, সাপাহার বাজার, সাপাহার।
2.
বস্তুত, এই বিজ্ঞপনটি বদরুদ্দীন মণ্ডলের চোখে প্রথম পড়ে নি--মণ্ডল ইত্তেফাক-এর সিনেমার বিজ্ঞাপনগুলিই একমাত্র খুঁটিয়ে পড়ে, অথবা দেখে। বিজ্ঞাপনটি দেখেছিল আব্দুর রাজ্জাক। সে কেন দেখেছিল? তার দু'টি সহজ কারণ রয়েছে, প্রথমত বসের জন্য পাত্রী খোঁজাটাকে সে তার জরুরি কর্তব্যকর্মের মধ্যে গণ্য করতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে যেদিন বস নির্জন অফিস ঘরে, গলায় হাহাকার তুলে বলেছিল, আব্দুর রাজ্জাককে, 'আমার জীবন এখন মরুভূমির মত শুষ্ক। এক ফোঁটা পানি নেই, যে আমার তৃষ্ণা তাতে মেটে'--বলেই সে চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা পানি ফেলে দিয়েছিল এবং আব্দুর রাজ্জাক উৎপ্রেক্ষা এবং বাস্তবতার মধ্যে একটি অপূর্ব কিন্তু কাকতালীয় যোগাযোগ দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, সেদিনের ইত্তেফাক-এ, ওই পৃষ্ঠাতে ওই কলামের চার ইঞ্চি নিচে বদরুদ্দিন মণ্ডলের ব্যবসার একটি বিজ্ঞাপন ছিল। সেটি এরকম--
বিক্রয়! বিক্রয়!! বিক্রয়!!! স্মার্ট গাড়ি কিনিতে চাইলে আসুন সম্ভ্রান্ত রুচির জন্য সম্ভ্রান্ত গাড়ি, রুচিশীল মানুষের জন্য রুচিশীল গাড়ি, টয়োটা, নিশান, হিউনদাউ। সব মডেল 1985 সালের পরের। যোগাযোগ করুন-মণ্ডল কার সেন্টার 29/4 ফকিরেরপুল, ঢাকা। ফোন : 454434।
মণ্ডলের অফিস ঘরটিতে এসি লাগানো, সেটি চলছিল। চমৎকার কাঠের প্যনেলিং করা ঘর, উজ্জ্বল বাতি, টেবিলটি প্রশস্ত। তাতে কাঁচ লাগানো। মণ্ডলের রিভলভিং চেয়ারটি পুরু এবং দামী এবং চামড়ায় মোড়া। তার ওপর একটি মস্ত বড় তোয়ালে পাতা। মণ্ডলকে ঘরের দরোজা থেকে দেখে মনে হয় যেন দুই মানুষ। একটি সোজা, অন্যটি উল্টো, যা টেবিলের কাঁচ থেকে উল্টোভাবে জগতটাকে দেখছে। ওই উল্টো মানুষের দিকে কাগজটি এগিয়ে দিয়েছিল আব্দুর রাজ্জাক--বলেছিল বস, একবার পড়ে দেখুন।
মণ্ডল ভ্রূ কুঁচকে কাগজটি নিয়েছিল এবং দু' মিনিট পর বেশ রাগত স্বরে বলেছিল, রাজ্জাককে লক্ষ করে--টেলিফোনের নাম্বারটা ভুল হল কী করে? এটুকুও দেখে দিতে পারেন না।
আব্দুর রাজ্জাক তিরস্কারটি গায়ে না মেখেই বলেছিল, বস, চার ইঞ্চি ওপরে পাত্র চাই বিজ্ঞাপনটি দেখুন। সেটা দেখতেই বলছি।
মণ্ডল বিজ্ঞাপনটি পড়ে প্রথমে অবাক হলো, পাঁচু ময়রা বিজ্ঞাপন দিচ্ছে দুই মুসলমান সুপাত্রীর?
আব্দুর রাজ্জাক বিনীতভাবে বললো, বস, এটি গ্রামদেশে প্রতিনিয়ত হয়। আমরা ঢাকায় বসে রায়ট করি, মন্দির ভাঙ্গি, কিন্তু গ্রামে গিয়ে দেখুন, কী সমপ্রীতি!
লক্ষণীয় আবদুর রাজ্জাকের বহুবচনের প্রয়োগ। 'আমরা' বলে সে একটি জটিল আত্মপ্রসাদ লাভ করলো--'আমরা' অর্থাৎ শহুরে বিত্তবান অথবা বুদ্ধিজীবী অথবা রাজনীতিবিদ--এরকম একটি সেমান্টিক সম্ভাবনা সে নিজের বক্তব্যে জাগিয়ে তুলেছিল। কিন্তু বদরুদ্দিন মণ্ডল এই ডায়ালেক্টিকের ধারেকাছেও গেল না। সে বললো, 'না না, আমি ভাবছি অন্য কথা। মেয়ে দু'টিকে দেখতে হলে এখন পাঁচু ময়রা ভরসা, অথচ একটা টেলিফোন নাম্বারও তার নেই। এখন যোগাযোগের উপায় কী?'
যোগাযোগের সমস্যা নিয়ে এই দু'জন একা মানুষের ধ্যান কিন্তু ক্ষণস্থায়ীই হলো। দু'জনের মনে দুরকম ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হচ্ছিলো বিষয়টি নিয়ে। যেখানে আবদুর রাজ্জাক ভাবছে, একটি প্রায়োগিক সমাধানের কথা, সেখানে মণ্ডলের মনে যোগাযোগ শব্দটি তৈরি করেছে ভিন্ন একটি ব্যঞ্জনা। সে ভাবছে তার জীবনের যোগাযোগহীনতার কথা যোগাযোগের অসামর্থের কথা। তার জীবন যে শুষ্ক মরুর মত, তারও কারণ যোগাযোগের অভাব--তার এককালীন জীবনসঙ্গিনীর সঙ্গে।
মণ্ডলের প্রথম এবং এ পর্যন্ত একমাত্র স্ত্রী শিক্ষিতা এবং উচ্চবংশীয়াই ছিল, কিন্তু শিক্ষার একটি আলাদা অহংকার ছিল তার, যার প্রকাশ প্রায়শই মণ্ডলকে চাবুকের মত আঘাত করতো। তার স্ত্রীর নাম ছিল ফারিহা নাতাশা আলম, বায়োকেমিস্ট্রিতে সে পাশ করেছিল। সে ইংরেজিতে কথা বলতে পারতো। রাগলে সে ইংরেজিতেই কথা বলতো। এ ছিল তার শিক্ষার অহংকারের একটি প্রকাশ। অন্যটি ছিল তার বিরামহীন একটি উক্তি 'তুমি কি একটু পড়ালেখাও করতে পারো না?' এবং এই পড়ালেখা না করতে পারাটা ঘোরতর লজ্জাজনক হয়েছিল মণ্ডলের জন্য যখন সে জিজ্ঞেস করেছিল তার স্ত্রীকে, এক সকালে নাস্তার টেবিলে, তোমরা যে গ্রীন হাউস গ্রীন হাউস করো, কয়টা গ্রীন হাউস আছে পৃথিবীতে? রংপুর কারমাইকেল কলেজে, আমার দেখা মত, সবচেয়ে বড় গ্রীন হাউসটি। কী সমস্যা সৃষ্টি করেছে ওই গ্রীন হাউস পৃথিবীর জন্য?
পরে যখন ফারিহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিস্ট্রির লেকচারার হয়, তখন একদিন মণ্ডলের অফিসে গিয়ে সে তীক্ষ্ন বিদ্রূপের সঙ্গে বলেছিল, 'তোমার চেয়ারের পিঠে ওই তোয়ালেটা কেন? ওই উপজেলা-মার্কা ক্ষেতামি কেন? How odd !'
এ ছিল তার শিক্ষার অহংকারের তৃতীয় প্রকাশ।
মণ্ডল অনেকদিন কোনো তোয়ালে রাখেনি চেয়ারের পিঠে, হাতের আঙুলে কোনো আংটিও পরেনি, রঙিন আণ্ডারওয়্যারকেও ঘৃণা করেছে। কিন্তু ফারিহা চলে যাওয়ার পর সব ফিরে এসেছে। বস্তুত তোয়ালেটা এখন প্রায় দ্বিগুণ আকৃতির।
ফারিহা মণ্ডলকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল এক স্মার্ট এঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে--চৌকস চেহারা, বিদু্যত কৌশলে স্নাতক, বুয়েটের তরুণ সহকারী অধ্যাপক। এক হাতে সিগারেট ধরে অন্য হাতে তাকে গাড়ি চালাতে দেখে ফারিহার মনে হয়েছিল রক্ত মাংসের কেভিন কস্টনারকে যেন সে প্রত্যক্ষ করছে!
মণ্ডল বাধা দেয় নি। বস্তুত, এইখানে, ওই চমৎকার সহনশীলতার বিষয়ে, সরফরাজ খানের সঙ্গে তার আছে একটি গূঢ় সাদৃশ্য।
ফারিহা বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিয়েই পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছে কেভিন কস্টনারের সঙ্গে। তাতে তার পিতা, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব গাউসুল আলম সাহেবের সোৎসাহে সম্মতি ছিল। মণ্ডলের সঙ্গে তার কন্যার বিয়ে তিনি প্রায় বাধ্য হয়েই দিয়েছিলেন--পাড়ার এক প্রায়-মাস্তান ছেলের সঙ্গে প্রায় বাসা ছেড়েই পালাচ্ছিল ফারিহা, যে প্রায়-মাস্তান ছেলের বাবা এক অবসরপ্রাপ্ত ডাক কর্মচারী, যার শেষ চাকরি ছিল সর্টিং ক্লার্ক হিসেবে।
সে-যাত্রা এবং শেষ মুহূর্তে, মণ্ডলই রক্ষা করেছিল পরিবারটিকে। মণ্ডলের যাই হোক, জমিজমা ছিল প্রচুর, দিনাজপুরে। সম্পন্ন ভূস্বামী। তাছাড়া কারমাইকেল কলেজ থেকে বিএ পাস এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে এমএ। অফিসার্স ক্লাবের যোগ্য গুণাবলী এসব নিশ্চয় নয়, কিন্তু গাউসুল আলম সাহেব মণ্ডলদের সহায় সম্পত্তির গুণাগুন একটু চড়া গলাতেই করেছিলেন বন্ধু-বান্ধবের কাছে--They have an incredible amount of landed property!
যে দেশে উত্তরায় একখণ্ড জমির জন্য আত্মা বিক্রি করে দিতে পারে অনেক আমলা, সে দেশে incredible amount of landed property প্রায় সকলের চোখকে কপালে তুলেছিল।
ফারিহা যাবার সময় বলেছিল, আমার জীবনের দেড়টা বছর কী রকম Waste করলাম! How can I forgive myself?
মণ্ডল শেষবারের মত ফারিহার দিকে তাকাতে গিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তার চোখ দু'টি এমনিতেই বড়, তাতে সে দু'চোখে পানি আসলে গরুদের ভেজা চোখের মত দেখায়। ফারিহা এ-নিয়ে কৌতুকও করেছে। বিশেষ করে মণ্ডলের ছোট দুলাভাই মারা যাবার পর দু'তিন দিন যখন সে কেঁদেছিল, তখন।
নিজেকে ক্ষমা করতে না পারলেও ফারিহা জীবনটাকে ক্ষমা করেছিল। সুখী জীবনের আশায় সে হাত ধরেছিল কেভিন কস্টনারের, পথে বেরিয়েছিল।
কেভিন কস্টনার পরে এক পীরের ভক্ত হয়ে যায়। এখন সে রীতিমত আধ্যাত্মিক মানুষ। সে গাড়িটা বিক্রি করে দিয়েছে। সিগারেট খাওয়াও ছেড়ে দিয়েছে। সে বিশ্বাস করে জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিশেষ করে তড়িৎ কৌশল, আসলে কিছুই না। এ-পৃথিবীর সবই তুচ্ছ, পরকালটাই গুরুত্বপূর্ণ এবং সে পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে এ-পৃথিবীতেই এবং পীর শরীফের দোয়ায়, যতদিন আল্লাহ্ তাকে জীবিত রাখবেন এবং তৌফিক দান করবেন।
সে ফারিহাকে তার জন্মদিনে একটি সাদা বোরকা কিনে দিয়েছে। ফারিহা সহকারী অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, এখন ভাবছে একটা পিএইচডি ডিগ্রী ছাড়া ওইটুকুই শুধু হওয়া যাবে, এর বেশি নয়। সে তার অনুধাবনের কথাটি জানিয়েছে গাউসুল আলমকে। তিনি বলেছেন, ' GRE আর TOEFLটা আগে দাও।'
এসব বিষয়ে আলম সাহেব খুব জ্ঞানী মানুষ।
3.
আব্দুর রাজ্জাক আর্কিমিডিসের মত 'পেয়েছি' শব্দটি উচ্চারণ করে উঠলে বদরুদ্দিন মণ্ডলের ধ্যান ভাঙে। এইমাত্র সে ভাবতে যাচ্ছিল, কেন ফারিহা তাকে ছেড়ে গেল, কোন সে স্বভাবের জন্য। সে কেভিন কস্টনারের কথাও জানে, তার আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের কথাও তার অগোচরে নেই, যদিও ফারিহাকে দেয়া তার জন্মদিনের উপহারের বিষয়টি মণ্ডলের জানার কথা নয়। তবুও, চিন্তাসূত্রের গ্রন্থিমোচনের অবধারিত নিয়মে সে ভাবতে যাচ্ছিল, ফারিহা এবং কেভিন কস্টনারের যোগাযোগের বর্তমান রূপটি কী সে বিষয় নিয়ে, কিন্তু আব্দুর রাজ্জাকের ইউরেকা ধ্বনি তাকে জাগিয়ে দিল।
সে ঈষৎ বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো, 'কী পেয়েছেন?'
আব্দুর রাজ্জাক বললো, বস, অনুমতি দেন তো সশরীরে সাপাহারে হাজির হই। তত্ত্ব তালাশ নিয়ে আসি।
মণ্ডল বললো, এত অস্থির হবেন না, বিজ্ঞাপনটা আবার পড়েন। দেখবেন, বয়সের কোনো উল্ল্লেখ নেই।
রাজ্জাক বলল, সেটাতো সহজেই আন্দাজ করা যায়। কলেজ পাশ আর কত বয়সীই বা হবে?
মণ্ডল বলল, বয়সটা বড় কথা নয়; কিন্তু বয়স উল্লেখ না করাটা অন্যায়।
সংস্কৃতিমনস্ক, মুক্তমানুষ না হলে রাজ্জাক বলতো, মেয়েদের বয়সটা কখনো উল্লেখ করতে নেই। কিন্তু সে চিন্তাশীল, সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ মানুষ; তাই সে বললো, 'বস, বিজ্ঞাপনে সব কথা কি আমরাই বলতে পারি? বয়সটাতো দেখলেই বোঝা যাবে।' সে প্রায় বলে বসেছিল, ' যেমন আমাদের গাড়ি দেখলে কাস্টমার বুঝতে পারে ওটার বয়স কত।' সে জিভে কামড় দিল।
বদরুদ্দিন মণ্ডল মাথা নেড়ে বললো, আমার মনে হয় না এ বিজ্ঞাপন আমার জন্য।
আবদুর রাজ্জাক কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো, শোনার জন্য, কেন মণ্ডলের জন্য এ বিজ্ঞাপন নয় তার ব্যাখ্যা। কিন্তু মণ্ডল নিশ্চুপ, আসলে মণ্ডলের মনে কেভিন কস্টনারের বিরুদ্ধে একটি আক্রোশ জাগ্রত হচ্ছিল, সেটি সে চাপা দিয়ে রাখতে চাইছিল। সে জানতো পোস্টাফিসের সর্টিং ক্লার্কের প্রায়-মাস্তান ছেলেটি, আশ্চর্য, কোনো সন্ত্রাসী কাণ্ড না ঘটিয়ে গুলি না চালিয়ে বা ভাংচুর না করে বা বোমা না ফাটিয়ে--এমনকি একবারও মণ্ডলের বা ফারিহার পিতার অথবা তাদের দারোয়ানটির সামনাসামনি না হয়ে নীরবে চলে গিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্য। আজ মণ্ডল ভাবছে, ওই ছেলেটির মনেও কি একই রকম আক্রোশ ছিল, তার প্রতি? তার কি সমস্যা ছিল, যোগাযোগের, ফারিহার সঙ্গে? ফারিহা যখন বলেছিল, মণ্ডলকে বিয়ের মাস তিনেক পর, তুমি কি মনে করো ওই half breed-টার সঙ্গে সত্যই আমি বেরিয়ে যেতাম, তখন আনন্দই হয়েছিল তার। কিন্তু পরে এবং এখন, প্রশ্ন উঠেছে তার মনে, তাহলে তাদের যোগাযোগের সূত্রটি কী ছিল?
আবদুর রাজ্জাক কেন যেতে চাইছে মেয়ে দু'টির তত্ত্ব তালাশ নিয়ে, সেটি আমি জানি। ব্রাত্য হয়তো জানবে না, কারণ আবদুর রাজ্জাক তার মতই অস্থিরচিত্তের, জীবনের সঙ্গে যার যোগাযোগ একটি তির্যক রেখায় মাত্র। কিন্তু আমি জানি; কারণ আবদুর রাজ্জাকের ঘুরে বেড়ানোর সখটি আমার জানা। এ সখটি আবার ব্রাত্যর একেবারেই নেই। মাসুদ রানার সঙ্গে, বয়স ছাড়াও, এই আরেকটি যোগাযোগ আছে আবদুর রাজ্জাকের। তার রক্তেও অ্যাডভেঞ্চারের গন্ধ, দূরের পাহাড় আর নদীজপমালা বেষ্টিত প্রান্তর প্রবল আলোড়ন তোলে। সাপাহার নামটিও একটি মধুর ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছে তার মনে। সে সরফরাজ খানের বাড়িতে তত্ত্ব-তালাশ করার জন্য যে যেতে চায়, সেটি একটি উসিলা মাত্র। তার উদ্দেশ্য ভ্রমণ, নিছক ভ্রমণ। বসের পয়সায়, নিদেনপক্ষে দিন তিনেকের একটি নিখাদ পর্যটন। এর থেকে সুমধুর আর কী হতে পারে। বরং বলা যায়, এই পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দেখে বিবাহ করা বিষয়টি তার কাছে কিছুটা রুচিহীনই মনে হয়। এটি একটি গ্রাম্য সংস্কৃতি, দেয়ালে পিঠ ঠেকার সংস্কৃতি, পণ্যবাদী, ভোক্তাবাদী, নোংরা ক্যাপিটালের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থার একটি দুঃখজনক সংস্কৃতি। তবুও, তার উদ্দেশ্য যেহেতু বসের পুনর্বিবাহ, এটিকে একটি পন্থা হিসেবে সে অগত্যা নিয়েছে--না নিয়ে উপায় নেই। বস নিজ থেকে কোনো উদ্যোগ নিবে, মনে হয় না। সে দেখেছে গাড়ি কিনতে যদি কোনো তরুণী আসে, এমনকি একাও, সে কখনো তাকে দেখা দেয় না, আবদুর রাজ্জাককে পাঠায়।
আবদুর রাজ্জাক চায় বস পুনর্বিবাহ করুক। নানা কারণের মধ্যে একটি--তাহলে সর্বক্ষণ অফিসে বসে থাকা কমবে বসের এবং সে নিজেও নিস্তার পাবে। অফিসে বসে বড়জোর পড়াশুনাটা করতে পারে কিন্তু গান শোনাটা হয় না। অতুল প্রসাদের গানের একটি ক্যাসেটে প্রায় মরচে পড়ার অবস্থা। ঠিকমত শোনা হলো না আবদুর রাজ্জাকের।
আবদুর রাজ্জাক কবিতা পড়ত। এখনও তার সে সখটি যায়নি। অথচ অফিস তার গলার কাছে জমে থাকা কবিতাগুলোকে উচ্চারিত হতে দিচ্ছে না। 'স্বাধীনতা তুমি' অথবা 'অবনী বাড়ি আছো' অথবা 'ভাত দে, হারামজাদা'।
নরেন বিশ্বাস খুব স্নেহ করেন আবদুর রাজ্জাককে, তার আবৃত্তির জন্য। আমি ভয়ে ভয়ে থাকি, কখন বলবে, স্যার, নাজিম হিকমতের কবিতাটা শোনাই?
আবৃত্তি শুনতে আমার ভয় লাগে। বিশেষ করে এ ধরনের কবিতার। মাঝে মাঝে আবৃত্তি সত্যিই ভয়াবহ।
মাথা তুলে বদরুদ্দিন মণ্ডল বলল, আপনি কি মনে করেন?
এবার আবদুর রাজ্জাকের লাটাইয়ে টান পড়ল--ঘুড়িতে বাতাস লেগেছে। সে বলল, বস, আমি বলি, গিয়েই দেখি না।
আবদুর রাজ্জাকের একটি সুপ্ত ইচ্ছার কথা এবার জানাই। বিজ্ঞাপনের ভাষাটি তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মনে হয়েছে, চোখের সামনে মেয়ে দু'টিকে সে দেখতে পাচ্ছে। তারা বিজ্ঞাপনে বর্ণিত সবকিছুই আবার কিছুই না। যেন তারা মেঘ দিয়ে তৈরি দু'টি মানুষ, অস্পষ্ট, অনমনীয়, রহস্যময়, দুই পাত্রী দুই বোন কথাগুলিতে কোথাও যেন মাধুর্য ঢেলে দিয়েছে পাঁচু ময়রা। এমন জোড়া নিবেদন সে আর আগে দেখেনি। তার মনে রোমাঞ্চ হচ্ছে, রহস্যময়ীদের আসল রূপটি দেখে আসার।
বদরুদ্দিন মণ্ডল বলল, 'যান, দেখে আসেন।'
কে বলে আশ্চর্য বলে কিছু নেই পৃথিবীতে? তার মনে যখন প্রবল উৎসাহ সৃষ্টি হচ্ছে দুই পাত্রী, দুই বোনকে দেখে আসার, তখনই মণ্ডল উচ্চারণ করেছে, 'দেখে আসেন!'
4.
আবদুর রাজ্জাক আনন্দ গোপন করে 'জি্ব বস' বলে বাইরে বেরিয়ে এলো। বেরিয়ে আসতেই সে প্রায় ধাক্কা খেলো সহকারী সেলস অফিসার হুমায়ূনের সঙ্গে। 'আমি দিন তিনেকের জন্য ঢাকার বাইরে যাবো' আবদুর রাজ্জাক বলল হুমায়ূনকে। 'আমার অনুপস্থিতিতে আপনাকেই সব দেখাশোনা করতে হবে।' আবদুর রাজ্জাক জানে দায়িত্বশীল লোকজন এ ভাষাতেই কথা বলে, বিশেষ করে এক সিঁড়ি অধস্তনদের সঙ্গে। তার ভাবভঙ্গীতেও সে একজন গুরুত্বপূর্ণের মনোভাব ফুটিয়ে তুলল। যে মনোভাবটি, আমরা জানি, মণ্ডলের অফিসে তার প্রবেশমাত্র কপর্ূরের মত উবে যাবে। হুমায়ূন মিতভাষী মানুষ--কোনো বিষয়ে তার উৎসাহও কম, সে জানতে চাইল না কোথায় যাবে কেন যাবে, আবদুর রাজ্জাক। সে শুধু বলল, 'ঠিক আছে' কিন্তু মনে মনে প্রীত হল। আবদুর রাজ্জাকের বুদ্ধিজীবীসুলভ ও বামপন্থী-সহজ চালচলনগুলি তার পছন্দ নয়। সে অবগত যে আবদুর রাজ্জাক তাকে একটি ফুটো পয়সারও মূল্য দেয় না।
ফুটো পয়সা অবশ্য এখন আর বাজারে নেই--বহুদিন ধরেই নেই, বস্তুত-কিন্তু উৎপ্রেক্ষাটি আছে। যেমন আছে আবদুর রাজ্জাকের বামপন্থী চিন্তাভাবনা। বামপন্থাও এখন বাজারে অচল--সেটি হুমায়ূন জানে, কিন্তু আবদুর রাজ্জাক জানে না। গত সপ্তাহে সে কমু্যনিস্ট পার্টি (রূপান্তরিত) অফিসের সামনের ফুটপাথ থেকে মার্ক্স-এর Preface to the critique of political Economy বইটি কিনেছে, মস্কোর প্রগ্রেস পাবলিশার্স যা 1979 সালে পুনঃমুদ্রণ করেছে। অথচ সে ভেবেও দেখলো না, এই বইটি কেন নতুন বইয়ের দোকানে নেই--কেন এটি জায়গা করে নিয়েছে ফুটপাতের বইয়ের দোকানে এবং তা-ও রূপান্তরিত কমু্যনিস্ট পার্টির অফিসের সামনে।
হুমায়ূনকে জিজ্ঞেস করলে সে একটা সদুত্তর হয়তো দিতো, যেমন গত মাসে এক কাস্টমারকে খুব সংক্ষিপ্ত দু'টি বাক্যে, এবং মৃদৃস্বরে সে বলেছিল, 'আপনার এই খড় খড় কাশি কমাতে হলে রোজ সন্ধ্যায় তুলশী এবং বাসক পাতার রস খাবেন। টাই গ্ল্লাসে এক গ্ল্লাস' এবং কাস্টমারটি দু'সপ্তাহ পরে, খড় খড় কাশিমুক্ত হয়ে ফিরে এসে হুমায়ূনকে কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ উপহার দিয়েছে, একটি ডায়েরি। মধ্যবছরে ডায়রি! কিন্তু কী আসে যায়, শুভেচ্ছাটাই বড় কথা।
কিন্তু আবদুর রাজ্জাক হুমায়ূনকে 'গ্রাম্য' ভাবে। এমনকি 'গ্রামীণ'ও নয়। গ্রামীণ কথাটি এখন সদর্থক--গ্রামীণ ব্যাংকের কল্যাণে এটি একটি বৈশ্বিক সদর্থক শব্দও--গত মাসেই ভিয়েতনামের মানুষ এই সত্যিকার সদর্থক শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হয়েছে, ড. ইউনূসের কল্যাণে। তিনি সে দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন গ্রামীণ কাপড় পরে--পাজামা পাঞ্জাবী, সাদা মুজিব কোট, কিন্তু 'গ্রাম্য' শব্দটি নঞর্থক, তেতো। আবদুর রাজ্জাক ইউনূসকে বলবে গ্রামীণ কিন্তু হুমায়ূনকে 'গ্রাম্য'। তবে কখনো জোরে নয়, মনে মনে।
5.
আবদুর রাজ্জাক চলে যেতে উঠে দাঁড়িয়ে মণ্ডল এসিটা চালালো। ইত্তেফাক পত্রিকাটি ছুড়ে ফেলল ছেঁড়া কাগজের ঝুড়িতে। তার বেশ অস্থির লাগছে। কেন, সে জানে না। সরফরাজের মেয়ে দু'টির কথা এ মুহূর্তে সে ভাবছে না--আসলে পাত্র চাই বিষয়টা তার কাছে অত্যন্ত হাস্যকর। কিন্তু আমরা যে বললাম, মণ্ডল বিশ্বাস করে পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দেখে বিবাহ করা সম্ভব? আসলে, এরকম সে ভাবে, তবে নিজের জন্য নয়। এক্ষেত্রে পাত্র সে নয়, অন্য এবং এ মুহূর্তে, অর্থাৎ এই ঘটনার আগে ও পরের সময়কালে, পাত্র হচ্ছে আবদুর রাজ্জাক। রাজ্জাক তাকে কোনো বিজ্ঞাপন দেখালে সে প্রথমেই ভাবে রাজ্জাকের কথা, কেমন মানাবে তাকে ওই বিজ্ঞাপিত পাত্রীর সাথে, ইত্যাদি। তার ধারণা, রাজ্জাকের বুদ্ধিবৃত্তি একটা অন্ধকার গহ্বরে পাক খাচ্ছে, সেখান থেকে বেরুতে হলে একটি ভিন্ন জীবনযাপন তার প্রয়োজন। বিবাহ হলে কেমন হয়? সে ভাবে, আবদুর রাজ্জাকের জন্য তার সত্যিকার দরদ, সহানুভূতি।
আজকেও সে শেষপর্যন্ত ওই দেখে আসার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে আবদুর রাজ্জাকের কথা ভেবে। সে বুঝেছে রাজ্জাক যেতে কতটা ব্যাগ্রহী। তার মায়া হয়েছে। যাক সে, ঘুরে আসুক, মেয়ে দু'টিকে দেখে আসুক, পছন্দ হলে একটা আয়োজন করে ফেলা যাবে।
এ পর্যন্ত ভাবতে ভাবতে সে অজান্তে বসে পড়েছে তার চেয়ারে। পা দু'টি তুলে দিয়েছে টেবিলে। আর চোখ দু'টি বুজে দিয়েছে। পা দোলাতে দোলাতে তার মনে পড়ে পাঁচু ময়রার বিজ্ঞানের ভাষা। সুন্দরী, স্মার্ট, রুচিশীলা--সে হঠাৎ মেয়ে দু'টিকে দেখতে পায়। কী চমৎকার রং, যেন দুধে আলতা মিশিয়ে তৈরি--যদিও আলতার প্রচলন আর তেমন নেই। কিন্তু উৎপ্রেক্ষাটি রয়ে গেছে, ফর্সা নারীরাও যেমন রয়ে গেছেন এ ধরণীতে। সে মেয়ে দু'টির চোখ খুব মায়াবী, চুলের গোছা কাঁধ ছাড়িয়ে ঢেউয়ের মত আছড়ে পড়েছে পিঠে। আর সেই হাসি--
মণ্ডল আর ভাবতে পারে না। সে দু'টি মেয়ের মধ্যেই যে ফারিহার ছবি বসিয়ে দিয়েছে। এমনটি হয়, তবে দু মেয়ের ওপরই? তার নিজের দু'টি অস্তিত্বের মত ওই দু'টি ছবিও এবার ঠোকাঠুকি শুরু করে দেয়।
ঝুড়ি থেকে ইত্তেফাক পত্রিকাটা তুলে টেবিলের কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি ঢেকে দেয় মণ্ডল।
(চলবে)
বাংলাবাজার পত্রিকায় 1994 সালে প্রকাশিত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
