somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজিয়া সুলতানা
'আমি জীবনের মাঝে বেঁচে থাকা এক অদৃশ্য 'জীবাত্না'। যে জীবনের মাঝে খুঁজে ফিরি জীবনের প্রাণ। নির্জীব জীবনের চেয়ে প্রাণময় মুত্যুতেই আমার উচ্ছাস!'

চুড়ি, ফ্রক, পুতুলকথন; এবং আমরা একদল পুতুলনাচের উপকরণ

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চুড়ি, ফ্রক, পুতুল, গ্যাসের চুলা. ....আরো কত কিছু যে হতে পারে! নারীরা তো সারাজীবনটাই 'চুড়ি' 'ফ্রক' পড়ে 'পুতুল' খেলে চুলা'য় রান্না করে কাটিয়ে দিয়েছে যুগে যুগে। এর বাইরে তো আর কোনো কিছু নারীদের আওতাভুক্ত নয়। নারীদের হাতে কলম থাকতে নেই। ফ্রক, দোপাট্টা কিংবা বারো হাত প‌্যাচেঁর শাড়ির বাইরে কোনো পোষাক থাকতে নেই। চার দেয়াল আর চুলার বাইরে তার কোনো ভূমিকা নেই!

কেন রে ভাই, পথে ঘাটে জিন্স প্যান্ট আর টি শার্ট পরা মেয়ে কোনোদিন চোখে পড়ে নাই? লাঠি হাতে রাজপথে কিংবা মিছিলে মিটিং এ কোনো অগ্নিমূর্তি নারী রূপ চোখের চৌকাঠ মাড়ায় নাই? কোনো দিন কোনো কালে কোনো চুড়ি পরা নারীর হাতের কলমের খোঁচায় জীবনের চড়াই উৎরাই পাড় হও নাই? কোনো দিন কোনো কালে আকাশপথে আনন্দ ভ্রমণকালে কোনো নারীর হাত পথ দেখিয়ে তোমার জীবনকে সুরক্ষিত করিয়া উড়াইয়া নিয়ে যায় নাই? নারী হাতের ইশারায় নির্দেশনা দিয়েছে , আর সেই নির্দেশনা পালন করতে দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে করতে সদ্য পেটে চালান করা খাবার হজম হয়ে পেটের মধ্যে 'কুলহু আল্লাহ' পড়তে শুরু করেছে তেমন ঘটনা কখনো ঘটে নাই তোমাদের জীবনে !!! তবে! তবে কেন এখনও নারীদের ঐ চুড়ি, পুতুল আর চুলায় আবদ্ধ রেখে তাদের ক্ষমতাকে খর্ব করে দেখার প্রয়াস? নারী কি কেবলই পুতুল নাচের উপকরণ! মঞ্চের বাইরে বসে পুতুল নাচ উপভোগ করা তার সাজে না? আর কত উদাহরণ দিতে হবে নারীদের বিচরণকে আর একবার তোমাদের চোখের দেয়ালে ঝুলিয়ে দিয়ে একটা প্রদর্শনী আয়োজন করার জন্য।

যতই উদাহরণ তোমাদের চোখের সামনে এনে হাজির করা হোক না কেন, যতই নারীর সামনে 'নতজানু' হয়ে হুকুম তামিল করতে করতে ইহকাল পার করে দেওয়া হোক না কেন, তবু ও 'নারী' তো 'নারী'! 'মেয়েমানুষ'!! 'উপহাসের সুর' কন্ঠ থেকে ছাড়া পায় না। 'উপহাসের দৃষ্টি' তা-ও পরিবর্তন হয় না। নারী'র প্রতি উপহাস, অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য এবং সুযোগ পেলেই দুই হাতে দশটা আঙ্গুল তুলে নারীর ক্ষমতাকে ছোটো করে তার গন্ডিকে একটা আবদ্ধ স্তরে প্রকাশ করায় একটু ও ছাড়ো না তোমরা।

হ্যাঁ, তোমরা তাঁরা, তোমরা ওরা, তোমরা সবাই। তোমরা 'পুরুষদল'। তোমরা নারীদের মধ্যে বেঁচে থাকা যুগে যুগে 'পুরুষতান্ত্রিক উত্তরাধিকার'।

'জেন্ডার' প্রশিক্ষণে আমরা শেখাই, আমরা শিখি শৈশবকালেই আমরা 'কন্যা শিশু' এবং 'পুত্র শিশু' দের মানসিকতার গঠনে পার্থক্য তৈরি করে দেই। তাদের খেলনার উপকরণে থাকে বিভাজন, আচরণের বহি:প্রকাশের ধরণ নির্ধারণে থাকে বিভাজন, তাদের বিচরণ ক্ষেত্র নির্ধারণে থাকে বিভাজন, তাদের কেমন দেখাবে কেমন দেখানো উচিত সেই চিন্তার গঠনে তৈরি করি বিভাজন। এভাবে একটা আরোপিত বিভাজন আমরা তৈরি করে দেই বলেই যুগে যুগে সমাজের ভিন্নতায় পরিবেশের ভিন্নতায় 'নারী' এবং 'পুরুষ' এর ভূমিকা এবং দৃষ্টিভঙ্গীর মধ্যে ভিন্নতা থাকে। এবং সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবেশের ভিন্নতায় এই বিভাজনের মাত্রা ও একেক রকম হয়। খুব সহজ এই বিভাজনের একটা উদাহরণ প্রায়ই আমরা উচ্চারণ করি ; 'কন্যা শিশুদের' খেলনা হয় পুতুল, হাড়িঁ পাতিল, ইত্যাদি । যেখানে ছেলে শিশুদের হাতে থাকে বিকট শব্দের খেলনা অস্ত্র, বিমান কিংবা ফুটবল। এখন বড়কালেও দেখছি আমরা বের হতে পারছিনা পুতুল, ফ্রক কিংবা চুলা থেকে।

পৌরসভা নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে যা দেখছি সত্যিই মর্মাহত হয়েছি। এ কেমন মানসিকতার প্রকাশ! খুবই অবাক লাগছে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়াও চোখে পড়ছে না এ নিয়ে। এ প্রকাশ এটাই ইঙ্গিত করে কোনো 'জেন্ডার' প্রশিক্ষণই কোনো কাজে আসবেনা এই মানসিকতার পরিবর্তনে।

এটাই সত্য যুগে যুগে নারী নেতৃত্ব, ক্ষমতায়ন, দক্ষতার প্রকাশ কিংবা এগিয়ে চলা পুরুষ মহল কোনো দিন ভালো চোখে দেখেনি এবং আন্তরিক ভাবে গ্রহণ করেনি। নারীদের এগিয়ে চলা কখনো ঐ 'বাঁকা দৃষ্টি' এড়াতে পারে নি। সবশেষে এটাই সত্য। চরম সত্য।।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৪৪
১৫টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×