
আচ্ছা, আমাদের দেশের মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি বা সচিবরা চিকিৎসার জন্য বিদেশ যায় কেন? আমাদের দেশের চিকিৎসার মান কি ভালো নয়? যদি ভালো না হয়ে থাকে- তাহলে দেশে সাধারণ মানুষ কি করবে, কোথায় যাবে? হর্তা-কর্তা ব্যাক্তিরা দেশে চিকিৎসার মান ভালো করে না কেন? তাহলে তো তাদের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া লাগে না। দেশের টাকা দেশেই থাকল।
গত দশ বছর আগে দেশে চিকিৎসার মান যেমন ছিল, এখন তো তার চেয়ে ভালো হয় নি, বরং আরও খারাপ হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল গুলোর অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। দালাল দিয়ে ভরা। রোগীরা সিট না পেয়ে ফ্লোরে শুয়ে থাকছে। নার্স, আয়া, ওয়ার্ড বয় এবং ডাক্তাদের ব্যবহার খুব বেশি খারাপ। আমি নিজে সরকারি হাসপাতাল গুলো ঘুরেছি। টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়েছি- খারাপ ব্যবহার পেয়েছি। হাসপাতালের ব্রেড গুলোতে ছারপোকা, এবং রাতে লক্ষ লক্ষ তেলাপোকা বের হয়। পচা গন্ধ। আরও আছে ইদুর-বিড়াল। সহজ সরল সত্য কথা হলো- হাসপাতালে প্রতিটা কাইকে কাইকে (পায়ে পায়ে) টাকা দিতে হয়। টাকা না দলে- ফ্লোরেও জায়গা পাওয়া যায় না। এখন, কথা হচ্ছে তাহলে গত ৪/৫ বছরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি কাজ করলেন? নানান অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধান অতথি হয়ে দু-চারটা আজাইরা কথা বলবেন। পরের দিন খবরের কাগজে আপনার ছবি সহ বক্তব্য ছাপা হবে। তাতে সাধারন মানূষের কি উপকার হয়?
মনে হয়, স্বাস্থমন্ত্রী'র পায়ে কোনো সমস্যা আছে। আমি দেখেছি, তিনি খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটেন। কথা বলার সময় মুখ থেকে থু থু বের হয়ে আসে। তিনি তা হাত দিয়ে পরিস্কার করেন। তাকে দেখে মনে হয়- তিনি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। তার বিশ্রাম দরকার। তাহলে তিনি অবসর নিচ্ছেন না কেন? অনেক অফিস আলাদলতে- অনেক সুস্থ সবল লোককে অবসর দেওয়া হয়। না চাইলেও দেওয়া হয়। কোনো মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীকে কোনোদিনও দেখলাম না অবসর নিতে। দেশকে তারা এতই ভালোবাসেন যে আমৃত্যু তারা কাজ করে যেতে চান।
সংসদে সেদিন স্বাস্থমন্ত্রী বললেন- ‘চাহিদার ৯৮% ওষুধই দেশে উৎপাদিত’। এবং ৯২ টা দেশে নাকি ওষধ রপ্তানি হচ্ছে। তাহলে দেশে ওষুধের দাম এত বেশি কেন? জাতীয় চার নেতার একজন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। নাসিম সাহেব ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি জানেন, সরকারি হাসপাতাল গুলোতে বহু খোঁজাখুঁজি করেও ডিউটি ডাক্তারদের সন্ধান পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। দরজা আটকে বিশ্রামে থাকা নার্সদের ডাকলে রীতিমতো রক্তচক্ষু দেখতে হয়। হাসপাতালের গেট থেকে ওয়ার্ডের বেড পর্যন্ত যেতে দফায় দফায় টাকা ছিটাতে হয়। প্রায়ই খবরের কাগজে পড়ি- ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল উদ্বোধন, ২২৫ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল উদ্বোধন। তাহলে দূর-দুরান্ত থেকে আসা রোগীদের ফ্লোরে ঘুমাতে হয় কেন?
এই সব সমস্যার সমাধান কি আছে? গত চার বছরে নাসিম সাহেব এই সব সমস্যার সমাধান করতে পারলেন না? তাহলে তিনি এত দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়ে কি কাজ করলেন? শুধু মুখ ভরতি লালা নিয়ে টিভি চ্যানেলের সামনে চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বললে হবে? মাননীয় মন্ত্রী, ছোট একটা দেশ আমাদের, মানুষ বেশি। সমস্যা অনেক বেশি, এসব আমি জানি। আপনি শুধু হাসপাতাল থেকে তেলাপোকা, টিকটিকি আর ইঁদুর এবং দালাল মুক্ত করে দেখান। সাথে আপনার ডাক্তার, নার্স, আয়া আর ওয়ার্ড বয়দের আচার ব্যবহার ভালো করে দেখান। কিছু লাগবে না। তাতেই সারা দেশের মানুষ আপনার উপর অনেক খুশি হবে।
(বিঃ দ্রঃ আগামীকাল ধরবো বিমান মন্ত্রীকে। সাথেই থাকুন।)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




