
১। সরকারি অফিস গুলোর লিফটে, একজন লিফটম্যান থাকে। লাইন ধরে লিফটে উঠতে হয়। ছোট একটা লিফট। এর মধ্যে একজন (লিফটম্যান) একটা টুল নিয়ে বসে থাকে। যদি অই ছোট্র লিফটে টুল নিয়ে কেউ বসে না থাকে- তাহলে ওইখানে দুইজন লোক দাড়াতে পারে। হাতে স্মার্ট ফোন। কানে হেড ফোন। লিফট চালানো তো খুব কঠিন কিছু না।
লিফটে একটা ফ্যান থাকে। সেই ফ্যান আবার লিফটম্যান এমনভাবে বেঁধে রাখে যেন ফ্যানের বাতাস শুধু তার গায়ে লাগে। সরকারি অফিস ছাড়াও অনেক অফিস-আদালতে একজন লিফটম্যান থাকে। আচ্ছা, বাংলাদেশের মানুষ কি লিফট চালাতে জানে না? নাকি অত্র প্রতিষ্ঠান গুলো লিফটে একজনকে চাকরি দিয়ে দেশে বেকারত্বের হার কমাচ্ছে?
সরকারি এক অফিসের দশ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে লিফটে উঠেছি। উঠে দেখি ফ্যানটা শুধু তার দিকে তাক করা। আমি বললাম, ফ্যানটা চারপাশে ঘুরবে। তুমি শুধু তোমার দিকে দিয়ে রেখেছো কেন? আবার ছোট্র এই লিফটে একটা টুল নিয়ে বসে আছো। মোবাইল টিপছো। লিফটম্যান আমার ওপর রেগে উঠলো। আমার সাথে আরও দুইজন না থাকলে হয়তো আমাকে মারতো।
২। সরকারি অফিস আদালত গুলো অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন। সেদিন সাধারন জীবন বীমা অফিসে গিয়েছি। লিফট এর সাত তলায়। জনসংযোগ বিভাগ। দেখি দুইজন কর্মকর্তা সিগারেটর ধোয়া দিয়ে পুরো রুম ভরে ফেলেছে। তাদের মধ্যে কোনো লজ্জাবোধও নেই। আরেক রুমে গিয়ে দেখি- দরজাটা একটু ফাঁক করা, এক বুড়ো লোক এক মহিলার সাথে চুটিয়ে প্রেম করছে। মহিলার ওড়না নিচে পড়ে আছে। অগ্রনী ব্যাংকের 'পিআরডি' সেকশোনে গিয়ে দেখি- তারা প্রত্যেকে বিরাট জমিদার। যার টেবিলের সামনে যাই, খুব বিরক্ত হচ্ছে। কিন্তু তারা কোনো কাজ করছে না। কেউ মোবাইলে কথা বলছে। কেউ ফেসবুকিং করছে। কেউ নাকের ভিতর দুই আঙ্গুল ঢুকিয়ে চুল ছিড়ছে। কেউ'ই আমাকে পাত্তা দিচ্ছে না। সরকারি অফিসের মানুষ গুলো এমন কেন? সোনালী ব্যাংকেরও একই অবস্থা। আবার এই আমি'ই যখন এক'ই কাজ নিয়ে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাই- রিসিপশনের মেয়েটা হাসি মুখে কথা বলে, বসার জন্য বলে। চা-নাস্তা পাঠিয়ে দেয়। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ-কর্মে দক্ষ নয়। তাদের মধ্যে কোনো স্প্রীড নেই। যেন তাদের হাতে পায়ে কোনো জোর নেই। একটা লোকও ঠিক মতো কম্পিউটার চালাতে জানে না। এক পাতা কম্পোজ করলে ৭০ টা বানান ভুল থাকে। সরকারি হাসপাতালের দালালদের মতো- টাকার জন্য 'হা' করে তাকিয়ে থাকে।
৩। গত শুক্রবার। সময় দুপুর দুইটা। বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। মিরপুর যাবো। চারজন ট্রাফিক আছে। শুক্রবার, তার উপর আবার দুপুরবেলা। খুব বেশি গাড়ি-ঘোড়া নেই। কিন্তু চারজন ট্রাফিককে খুব ব্যস্ত এবং অস্থির মনে হলো। তবে তাদের চোখে মুখে অজানা এক আনন্দে ঝলমল করছে। ( এই রকম আনন্দে ঝকমক করা চেহারা দেখা যায়, রাস্তার চেকপোষ্ট পুলিশদেরও। একজন অতি সাধারন একটা হোন্ডা বা রিকশা যাত্রীদের থামিয়ে নানান কথায় জর্জরিত করে- অবশেষে, বিশ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ শ'- হাজার যা পারে নেয়, ছিনিয়ে নেয়।)
আমি অনেকক্ষন লক্ষ্য করে দেখলাম- একজন সার্জন খুব আয়েশি ভঙ্গিতে হোন্ডায় বসে আছে। চারজন ট্রাফিকের-গাড়ি রিকশার দিকে তাদের মন নেই। তারা হোন্ডা ধরার জন্য তাদের সব শক্তি, মেধা নিয়োগ করছে। এদিকে তাদের গাফিলতির জন্য চারদিকে বিকট জ্যাম লেগে গেছে। একজন ট্রাফিক একটা হোণ্ডা আটকে সার্জনের কাছে নিয়ে আসে বীরের মতো। সার্জন চিবিয়ে চিবিয়ে তর্ক করছে হোন্ডা চালকের সাথে। সার্জন কোনো না কোনো সমস্যা খুঁজে বের করছে। তারপর দুই শ' তিন শ', যার কাছে থেকে যা পাচ্ছে হাশি মুখে নিচ্ছে। তারপর হোন্ডা ছেড়ে দিচ্ছে। আমি এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম। কম হলেও ৫০ টা হোন্ডাওয়ালার কাছ থেকে টাকা নিতে দেখলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




