somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

অপমান

১১ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক জীবনে একজন মানুষ কতবার অপমানিত হয়!!!
যারা অপমান করে তারা মনে করে, একজন মানুষকে অপমান করে জাতে ওঠা যায়। আশে পাশের দুই চারজন দেখলে- তাতে তার ক্ষমতা দেখানো হলো। দুর্বলকে অপমান করে তারা অনেক সুখ পায়। একজন দার্শনিক বলেছেন, একজন আহত ব্যক্তি তার যন্ত্রনা যত সহজে ভুলে যায়, একজন অপমানিত ব্যক্তি তত সহজে অপমান ভোলে না।

Insult, humiliation, dishonor, disgrace, contempt, indignity, slight- যদি বাংলায় বলি, এক কথায় অপমান। এই জীবনে আমি অসংখ্যবার অপমানিত হয়েছি সম্পূর্ণ বিনা কারনে। যারা আমাকে অপমান করে- আমি ইচ্ছে করে ভুলে যেতে চেষ্টা করি। মনে মনে তাদের ক্ষমা করে দেই। আসলে যারা খারাপ ব্যবহার পেয়ে-পেয়ে বড় হয়, তারাই অন্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। অধীনস্তদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে কিছু দুষ্টলোক বিপুল আনন্দ লাভ করে। এই ধরনের মানষিকতার লোকের অভাব নেই আমাদের সমাজে।

অপমানের মুহূর্তগুলো হতে পারে সেটা ভালোবাসায়, দাম্পত্যে, পরিবারে কিংবা নিজের বন্ধুদের মাধ্যমে। আবার হতে পারে কর্মক্ষেত্রে, জীবনের অন্য কোনো পর্যায়ে, এমনকি ব্লগ এবং ফেসবুকের পরিচিত মহলেও। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ''মোছো তবে অশ্রুজল,/ চাও হাসিমুখে বিচিত্র এ জগতের সকলের পানে।/ মানে আর অপমানে সুখে আর দুখে/ নিখিলের ডেকে লও প্রসন্ন পরানে।'' আমি আমার জীবনে কাউকে অপমান করিনি বলেই কি বারবার অপমানিত হচ্ছি। যারা আমাকে অপমান করছে- ভবিষ্যতে যদি আমি সময়-সুযোগ পাই তাহলে কি তাদের অপমান করবো? আমি সহজ সরল জীবন যাপন করি। কারো আগে পিছে থাকি না। এ পর্যন্ত যারাই আমাকে অপমান করেছে- সম্পূর্ণ বিনা কারনে অপমান করেছে, অন্যকে দেখানোর জন্য অপমান করেছে, বড় সাজার জন্য অপমান করেছে। কিন্তু অপ্রত্যাশিত এই অপমান আমাকে প্রচন্ড ব্যাথিত করে। আমি চুপ করে সহ্য করি। এছাড়া আমার অন্য কোনো পথ নেই।

আমার এক শিক্ষক বলতেন, একজন ভালো মানুষ কখনো অন্যকে অপমান করার কথা চিন্তা করে না। এগুলো কেবল তাঁরাই চিন্তা করে যাদের মন খুবই ছোট। ছোটবেলা থেকেই স্যারের এই কথাটা আমার ভেতর সেফ করে রেখেছি। সারাদিন পরিশ্রম করার পর বিকেলে তার ব্যবহারে আসলেই মনটা আজ খুব খারাপ হয়েছে। মন ভালো করার জন্য কাজিনকে ফোন দিলাম। তিনি নোয়াখালি জেলা স্কুলের ইংরেজীর শিক্ষক। কাজিন বললেন, কেউ তোমার সমালোচনা করলে তুমি কি কর?
- চুপ থাকার চেষ্টা করি।
- কেউ তোমাকে ছোট করলে কি কর?
- চুপ থাকার চেষ্টা করি।
- কেন?
দুনিয়াতে অল্প সময়ের জন্য আসছি। অনেক কাজ করতে হবে, উপভোগও করতে হবে, নিজের খেয়াল খুশিমত সৃষ্টিশীল কিছুও করতে হবে।
এর মাঝে কিছু মানুষ নিজেরে তালগাছ মনে করলে তোমার কিছু করার নাই। আর কেউ নিজেকে যত বড় গাছই মনে করুক, তার থেকে বড় গাছও কোথাও না কোথাও আছে।
- তাই বলে চুপ থাকব?
- হ্যা। কারন কিছু কিছু কথার জবাব চুপ থাকার থেকে ভাল আর কিছু হইতে পারে না।

আজ অফিসে আমাকে একজন অপমান করেছে। এই লোক আগেও আমাকে বেশ কয়েকবার অপমান করেছে। সম্পূর্ণ বিনা কারনে। এমডি'র কাছের লোক হওয়াতে তার খুব পাওয়ার। তার কথায় আমি এমন ভাব করলাম যে আমি আসলেই- খুব খারাপ কিছু করেছি। আমাকে জুতা দিয়ে মারা উচিত ছিল। ভাই ভালো বলে আমাকে শুধু মুখে দুই চারটা কথা শুনিয়ে দিল। তার এই মহানুভবতায় আমি মুগ্ধ। কিন্তু সে নিজেও জানে- আজ সে আমাকে শুধু শুধু অপমান করলো। আমি নির্বোধের মতো চুপ করে রইলাম মাথা নিচু করে। যদিও আমার ইচ্ছা করছিল- জুতা টা খুলে তার দুই গালে মেরে দেই। অথবা লজিক দিয়ে তাকে বুঝিয়ে দেই- যে সে আমাকে বিনা কারনে অপমান করছে। এই কাজ করলে আমার চাকরিটা মুহূর্তের মধ্যে চলে যাবে। চাকরি গেলে ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়ে যাব- এই লোক তা ভালো করে জানে বলেই- ইচ্ছে মতো আমার উপর আজে বাজে কথা বলে নেয়।

কাউকে ছোট করার মাঝে যদিও কোন গৌরবের কিছু নেই তারপরেও কিছু কিছু মানুষ এমনটি করে থাকে। এটা যারা করে থাকে তারা বিকৃত আনন্দ ছাড়া কিছুই পায়না কারণ মানুষকে হেয় করাই তাদের মানসিক তৃপ্তি। আজ নিজেকে শান্ত্বনা দিলাম এই বলে- 'রাজীব যে তোমাকে অপমান করেছে, তাকে ক্ষমা করে দাও। সে পদে পদে অপমান হয় বলেই- সে জীবনে বারবার অপমানিত হয়ে বড় হয়েছে- বলেই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। সে সব সময় খারাপ ব্যবহার পেয়ে অভস্ত বলেই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। যা, হারামজাদা, শুয়োরের বাচ্চা তোকে ক্ষমা করে দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৩৭
৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×