somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

হাসি আর গানে ভরে যাক- সব শিশুর অন্তর

৩০ শে জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটি সুখবর দিয়ে লেখাটি শুরু করছি বন্ধুগন- সুরভি'র বাচ্চা হবে।
কয়েকদিন আগের কথা। সকালে ঘুম থেকে উঠে- অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে সুরভি জানালো আমি 'বাবা' হবো। হঠাত করে মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো। মনে মনে বললাম, হায় হায়... কি কয়? আমি এখন কি করবো? বাংলা সিনেমাতে দেখেছি এই সময়ে নায়ক স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে, কোলে তুলে নেয়, চুমু খায়। আমি এইসব কিছুই করলাম না। সুরভি'র মুখের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে আমি সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে চিন্তা করলাম- এখন থেকেই অনেক বাড়তি খরচ হবে, এত টাকা কোথায় পাবো? যাই হোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি- সব কিছু অন্যরকম লাগছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে গেছি, অন্য রকম লাগেনি। আজ সব কিছু অন্যরকম লাগছে। মনের মধ্যে কেমন একটা অন্যরকম ভাব হচ্ছে!

আমার ভাই বোন আত্মীয় স্বজন সব আছে। কিন্তু সব থেকেও যেন কেউ নেই। সুরভি খুব অসুস্থ। ডাক্তার বলছে- একমাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে। তাহলে ঘরে রান্না করবে কে? বুয়াও ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেছে এখনও আশে নাই। কবে আসবে কে জানে! ফোন দিলে ধরে না। সুরভিকে নিয়ে এই পর্যন্ত চার বার ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয়েছে। অনেক রকম টেস্ট করা হয়েছে। পানির মতো টাকা খরচ হচ্ছে। আমি দরিদ্র মানুষ। প্রতিটা মুহূর্তে প্রচুর বেগ পেতে হচ্ছে। সুরভিকে আমি কিছুই বুঝতে দেই না। সামনের দিন গুলোতে খরচের মাত্রা আরও বাড়বে। কিভাবে সামলাবো আমি জানি না। অবশ্য আমি হাসি মুখ করে সুরভির সামনে বসে থাকি। তাকে আশস্ত করি। এটা কোনো ব্যাপারই না। বাংলাদেশের সেরা হাসপাতালে আমাদের বেবি হবে। তুমি চিনো আমাকে? দেখো আমি কি করি? কিন্তু আমি তো জানি আমার পকেটের অবস্থা।

ভরসা দেওয়ার, সাহস দেওয়ার আশে পাশে কাউকে দেখছি না। আমার এক ভাই তার বউ বাচ্চা নিয়ে গেছে মালোশিয়া ঈদের ছুটি কাটাতে। আরেকভাই নতুন গাড়ি কিনেছে, সে তার গাড়ি নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। এক সময় যারা বলেছে, বিয়ে করেছ, তিন বছর হয়ে গেছে এখনও বাচ্চা নিচ্ছো না কেন? দূর মিয়া বাচ্চা নাও। বাচ্চা ছাড়া সংসার, সংসার না। আমরা আছি তোমাদের সাথে। যত রকম সহযোগিতা লাগে করবো। কোনো ভয় নেই। এই সমস্ত লোক গুলোকে আজ খুঁজে পাচ্ছি না। সেদিন আমি অফিসে ব্যস্ত, এদিকে সুরভি ডাক্তারের কাছে নিতে হবে, একজন কাউকে পাচ্ছি না সুরভিকে নিয়ে হাসপাতালে যাবে। কিন্তু তার আলট্রাস্নোগ্রাফি করা খুব প্রয়োজন। এই সময় গুলোতে নিজেকে খুব অসহায় লাগে। কিন্তু এই আমি রাজীব- নিজে খোঁজ খবর নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছি বন্ধুর জন্য। সব রকম খোঁজ খবর করেছি। যতটুকু পেরেছি সাহায্য সহযোগিতা করেছি। সারাদিন অফিস করে তাদের বাজার সদাইও করে দিয়েছি। এযুগে মানুষের কথা বিশ্বাস করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। প্রয়োজনের সময় কাউকেই কাছে পাওয়া যাবে না। যা করার তোমাকে একাই করতে হবে। তাই শুধু নিজের উপর বিশ্বাস আর আস্থা রাখাই সবচেয়ে ভাল কাজ।

সুরভি কুঁজো হয়ে বসে ঘরের কোনো কাজ করতে পারে না। ডাক্তারও নিষেধ করে দিয়েছেন। এখন আমি নিজে তরি-তরকারী কেটে দেই, পেঁয়াজ মরিচ কেটে দেই। হাড়ি-পাতিলও পরিস্কার করি। এই সমস্ত কাজ আমি আগে কোনো কালেও করি নাই। যতটা পারি করে যাচ্ছি। আমি একা হয়ে পড়েছি। কথায় বলে 'যে একা সেই'ই সামান্য'। আমি খুব ভালও করেই জানি, এই সমস্ত সমস্যা গুলো আমি কাটিয়ে উঠতে পারবো। আমি পরিশ্রম করতে জানি। আর আমার হাত দু'টাও ঠিক আছে। যাই হোক, ঘরের সব কাজ শেষ করে যখন বিকেলে ছাদে যাই- সুরভি বলে, কি চাও ছেলে না মেয়ে? এই প্রশ্নটা আমার কাছে খুব হাস্যকর লাগে। ছেলে হলেও আমার, মেয়ে হলেও আমার। আর আমি মেয়েটাকে যটুকু আদর করবো, ছেলে হলে- ছেলেটাকেও একই রকম ভালোবাসা আর আদর যত্ন করবো। কাজেই আমি ছেলে হলেও খুশি হবো, মেয়ে হলেও বেজার হবো না। আমি চাই সুস্থ সবল একটা শিশু। পরম ভালোবাসা আর মমতায় বড় করবো। তাকে শিখাবো মঙ্গলময় সব সত্য।

তবে এই সমাজ এবং সমাজের বেশির ভাগ মানুষ গুলো ভাল না। বেশির ভাগ'ই দুষ্টলোক। এই দুষ্টলোকদের ভয়ে একটা শিশুকে পৃথিবীতে আনতে চাইছিলাম না। আমি যুদ্ধ করে যাচ্ছি, আমার সন্তান কি দুষ্টলোকদের সাথে যুদ্ধ করে পারবে! ঘরে বাইরে, অফিসে আলাদলে সব জায়গায় দুষ্টলোকে ভরা। কারো মনে মায়া দয়া নেই, দয়া নেই। মানুষ কি ভংকর, মানুষ কি নিষ্ঠুর, মানুষ কি মিথ্যাবাদী।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×