somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমি যেভাবে ভূতের কবলে পড়লাম

০১ লা জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঘটনা ঘটে রাত ঠিক একটায়।
আমার বন্ধু মিজান। গিয়েছিলাম মিজানের দাদা বাড়ি বেড়াতে। ছয় বছর আগের ঘটনা। গ্রামের নাম কালা মৃধা। ফরিদপুরের একটি গ্রাম। বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রাম আমার কাছে একই রকম লাগে। একসম সহজ সরল সুন্দর। অনেক গাছপালা, নদী, মাটির রাস্তা, পুকুর, বিশাল ধানক্ষেত। গ্রাম দেশের বাজার গুলো আমার খুব বেশি ভাল লাগে। সময় সুযোগ পেলেই আমি মাছ ধরতে নেমে যাই। বৈঠা হাতে নিয়ে নৌকা চালাই। একবার তো একজন কৃষকের সাথে জমিতে সেচ দিয়েছি। যে ক'টা দিন গ্রামে থাকি অনেক আনন্দ নিয়েই থাকি।

গ্রামের মানুষ আদর যত্নের চুড়ান্ত করে। তাদের রান্নার হাতও অনেক ভালও। তরকারি খেতে এত মজা হয় যে, তিন প্লেট ভাত খেয়ে ফেলি। ঘটনার দিন রাতে অনেক খেলাম। খুব খেলাম। মাছের মধ্যে ছিল দেশী কৈ মাছ, বাইল্লা মাছ, গলদা চিড়িং মাছ, টাকি মাছের ভর্তা, ইলিশ মাছের ভর্তা আরও কি কি যেন মাছ ছিল। দেশী মুরগী ভূনা, গরুর মাংস কালা ভূনা আর ডাহুক পাখি। পোলাও আর সাদা ভাত। চালের আটার রুটি ইত্যাদি। তাদেরকে খুশি করার জন্য খুব খেলাম। পেটে আর জায়গা নেই। কিন্তু খাওয়ার পর দেখি আরও খাবার আসছে। পায়েস, দই মিষ্টি। তাদের কথা একটু করে হলেও সব আইটেম খেতে হবে। যাই হোক রাতে খেয়ে ঘুমাতে এলাম, তখন সময় রাত সাড়ে দশটা। খুব হাঁসফাঁস লাগছিল।

এখন আমি মুল গল্পে প্রবেশ করবো। তার আগে একটা ঘটনা জানিয়ে নিই। বাস থেকে নেমে বিকেলে যখন ভ্যানে করে গ্রামে ভেতর ঢুকছিলাম, তখন এক পলক দেখলাম- একটা পাগলী মেয়ে, সতের আঠারো বয়স হবে। মাথার চুল লম্বা আছে তবে এলোমেলো। ম্যাক্সি টাইপ একটা জামা পড়া। হাতে একটা বাঁকা লাঠি। লাঠিটা আমার দিকে উঁচু করে এক গাল হাসলো। বিকট হাসি। এটা কোনো মানুষের হাসি হতে পারে না। হাসিটা দেখে আমি খুব ভয় পেলাম। আমার সারা শরীর কেঁপে উঠলো। আমি নিজেকে বুঝালাম, বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামে একজন করে পাগল থাকে। থাকেই।

বিশাল একটা ঘরে আমাকে একা থাকতে দেওয়া হয়েছে। ঘুম আসছিল না। সাথে করে অনেক গুলো বই নিয়ে গিয়েছি কিন্তু পড়তে ইচ্ছা করছে না। রাত বারোটায় চলে গেল বিদ্যুৎ। খাটেরর নিচে একটা হারিকেন জ্বলছে। তবুও ঘুটঘুটে অন্ধকার। এদিকে আবার আমার বাথরুম পেয়েছে। ছোটটা। গ্রামের বাড়ি গুলোর বাথরুম মুল বাড়ি থেকে অনেক দূরে হয়। এত রাতে কাউকে ডাকার প্রশ্ন'ই আশে না। তাহলে তারা ভাববে শহরের ছেলেটা ভীতু। শীতকাল ছিল। কাছের পাতা বেয়ে কুয়াশা টিনের চালের পড়ছে। টপ টপ শব্দ হচ্ছে। কোনো কারন নেই তবুও এই টপ টপ শব্দটাকেই খুব ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছে। ঝিঝি পোকা ক্রমাগত ডেকে যাচ্ছে। শব্দটার মধ্যে আনন্দের কিছু নেই, বরং ভয় ধরা একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু আমাদের সাহিত্যিকরা ঝিঝি পোকার ডাক নিয়ে কত রোমান্টিক কথা বলেছেন। যাই হোক, একবার ইচ্ছা করলো- খাটের পাশ দিয়ে সিসু করে দেই। কিন্তু সেটা সম্ভব না। এর আগে একবার মুন্সিগঞ্জ গিয়ে এমন কাজ করে খুব লজ্জায় পড়েছিলাম।

অনেক সাহস সঞ্চয় করে, আল্লাহ খোদার নাম নিয়ে রাত একটায় দরজা খুললাম। ফকফকা জোছনা। ঘর থেকে দুই পা বের হতেই একটা অদ্ভুত ব্যাপার দেখলাম! যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। সেই পাগলী মেয়েটা। হাতে বাঁকানো লাঠি। লাঠিটা আমার দিকে তাক করে সেই ভয়ানক হাসিটা দিল। এই হাসি যে কেউ দেখলে তার কলিজা উড়ে যাবে। আমি প্রচন্ড ভয় পেলাম। চিৎকার করতে গিয়ে দেখি গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। দৌড় দিয়ে যে পালিয়ে যাব সে উপায়ও নেই, আমার সারা শরীর পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে। ঠিক এই সময় আমাকে সাহায্য করার জন্য পাঁচ টা কুকুর এলো। কুকুর গুলো পাগল মেয়েটার চারদিক থেকে ঘিরে ঘেউ ঘেউ করছে। কিন্তু মেয়েটির সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। সে আমার দিকে তাকিয়ে বিকটভাবে হাসছে।

কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনে বাড়ির সবাই জেগে উঠেছে। তারা সবাই হাতে লাঠি, দা নিয়ে দৌড়ে এসেছে। আমার বন্ধুর বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। তাতে আমার অনেকখানি ভয় কেটে গেল। একজন বৃদ্ধা সেই পাগল মেয়েটির কাছে গিয়ে বলল- এই তুই কে? বাড়ির ভিতর ডুকলি কি করে? বাড়ির মেইন গেট তো লাগানো। তোকে তো কখনও আগে এই গ্রামে দেখি নাই। বল তুই কোথা থেকে এলি? পাগলিটা হাত উঁচু করে পুকুর পার দেখালো। যদি পাগলিটা সত্যি সত্যি পুকুর থেকে আশে তাহলে তার শরীর থাকবে ভেজা। কিন্তু তার শরীর শুকনা। তখনও কুকুর গুলো ঘেউ ঘেউ করেই যাচ্ছে। বৃদ্ধা তখন তার হাতের লাঠি দিয়ে পাগলিকে খোঁচা দিতে-দিতে বাড়ি থেকে বের করে দিল।

ঘটনা এইখানেই শেষ না আর একটু বাকি আছে।
প্রচন্ড জ্বর এলো আমার। সাথে বমি। ডাক্তার এসে ওষুধ দিয়ে গেল। পরের দিন বিকেলে আমি কারো কোনো কথা না শুনে আমার ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাজারের কাছ থেকে ভ্যানে উঠেছি, বাস স্টেশন যাব। ভ্যান চলছে। হঠাত দেখলাম সেই পাগলী মেয়েটা বসে আছে। হাতের লাঠিটা আমার দিকে তাক করা। সাথে সেই বিকট হাসি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:০৪
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×