
মেয়েটা আমাকে ছুটির দিন ছাড়া কাছে পায় না। সকালে যখন বাসা থেকে বের হই- মেয়ে থাকে ঘুমে আবার রাতে যখন বাসায় ফিরি- মেয়ে থাকে ঘুমে। ছুটির দিনে মেয়েটা সারাদিন আমার সাথে থাকে।
সমাজে দুষ্টলোকের সংখ্যা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খুব চুন্তার বিষয়। ঘরে বাইরে অফিস আলালত সব জাগায় শুধু দুষ্টলোক আর দুষ্টলোক। এমনকি ব্লগেও বেশ কিছু দুষ্টলোক আছে। এত দুষ্টলোকের ভিড়ে সমাজের সহজ সরল মানুষ গুলো বাঁচবে কি করে? আমার মেয়েটাকে আমি কোথায় রেখে যাবো? কথায় আছে একটা কানি বক পুরো বিল নষ্ট করে দেয়। বিলের সব বক কিন্তু কানা না। একটা মাত্র কানা। এই এক কানা বকের জন্য সমস্ত বিল নষ্ট। ঠিক তেমনি একটা অফিসে সব লোক দুষ্ট না। একটা দুইটা দুষ্টলোক থাকে- এই এক দুইজন দুষ্টলোক অফিসের সব লোকের জীবন নষ্ট করে দেয়। কাজের পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। এই ধরনের লোককে নিজের হাতে শাস্তি দিতে ইচ্ছা করে।
শুধু অফিস না, রাস্তা ঘাটেও বেশ কিছু দুষ্টলোক আছে। তারা বাসের মধ্যে ইচ্ছা করে আপনাকে ধাক্কা দিবে। পালিশ করা জুতো মাড়িয়ে দিবে। অযথাই আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে। বাসে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে, আপনাকে উঠার সুযোগ দেবে না। রাস্তায় ফুটপাত দখল করা চায়ের দোকানের সামনে ৪/৫ জন মিলে চা খাবে গল্প করবে। কোনো মেয়ে পাশ দিয়ে গেলে তার দিকে কুৎসিত ভাবে তাকিয়ে থাকবে। খারাপ কথা বলবে। অনেক দেখবেন বাইক ফুটপাতে উঠিয়ে দিবে। আপনার গায়ে লাগিয়ে দিবে। কিন্তু আপনি কিছু বলতে পারবেন না। বললেই রেগে-মেগে আপনাকে মারতে আসবে। একটুখানি ফুটপাত। তার মধ্যে আবার দোকান। আপনি শান্তিতে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারবেন না। এবং যারা ফুটপাতে অবৈধ ভাবে দোকান বসিয়েছে তাদের কিছু বলতে পারবেন না। কারন তারা পুলিশকে এবং স্থানীয় নেতাকে নিয়মিত টাকা দেয়। তাই ফুটপাতের দোকানদার মনে করে এইখানে সে ভাড়া নিয়ে দোকান বসিয়েছে।
আপনি যে বিল্ডিং এ থাকেন, সেখানে বেশ কিছু দুষ্টলোক আছে। দেখবেন তারা নিজের কাম কাজ বাদ দিয়ে সব ফ্ল্যাটের লোকজন নিয়ে নানান বাজে বাজে কথা ছড়াচ্ছে। তাদের কথা গুলো এই রকম- রফিক সাহেবের মেয়েটা প্রেম করে বেড়াচ্ছে। ঐ মেয়েটা ওড়না ছাড়া চলাফেলা করে। অমুক এ সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছাদ থেকে নামে না। অমুকের ছেলে-মেয়ে সারা রাত জেগে ফোনে কথা বলে। আহাদ সাহেব তো সরকারি অফিসেরর সব লুটপাত করে পাঁচ কাঠা জায়গা রেখেছে গাজীপুরে। অমুকের মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে গেছে। অমুকে পরকিয়া করে। অমুকে আরেকটা বিয়ে করেছে। ইত্যাদি ইত্যাদি। কেন রে ভাই- অন্যের ব্যাপার নিয়ে থাকিস? নিজের কাম-কাজ নেই? তাহলে নামাজ পড়। লাইব্রেরীতে গিয়ে বই পড়।
আপনি যদি কোনো সরকারি অফিসে যান তাহলে বুঝবেন- দুষ্টলোক কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি। আপনার ইচ্ছা হবে সব ক'টা কে জুতা দিয়ে পিটাই। সরকারি অফিসের পিয়নও নিজেকে জমিদার মনে করে। সব-সব সরকারি অফিসের একই অবস্থা। এত অগোছালো- ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। পুলিশদের কথা একটু বলি- পুলিশদের মধ্যেও বেশ কিছু দুষ্টলোক আছে। তারা আপনার জীবন হেল করে দিবে। সেদিন দেখলাম এক পুলিশ একটা পিক-আপ ভ্যানের সামনে বসা। সে পিক-আপ থেকে নেমে সব রিকশা থেকে রিকশার সিট তুলে নিচ্ছে। এরকম করে প্রায় ৩০ টা রিকশার সিট তুলে নিয়ে পিক-আপ ভ্যানে রেখে দিলে। রিকশাওয়ালা গুলো কান্না কান্না অবস্থা। তারা তাদের অপরাধ খুঁজে পাচ্ছে না। তারপর ঐ পুলিশ পিক-আপ নিয়ে নিরিবিলি একটা গলিতে গেলে এবং ইশারায় রিকশাচালকদের আসতে বলল। প্রতিটা রিকশাওয়ালার কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে- 'সিট' গুলো ফেরত দিল। এই রকম কাজ রাস্তার টহল পুলিশ গুলোও করে। তারা সাধারন পথচারীকে হয়রানি করে। পথচারীদের কাছে অবৈধ কিছু না পেলেও শেষে নানান ভয় ভীতি দেখিয়ে- ২০ টাকা হলেও নিবে। আমার মনে হয়- যখন পুলিশের হঠাত করে কিছু টাকার দরকার হয়ে পড়ে- তখন এক্সট্রা ধান্দা করতে নেমে যায় পুলিশ। পুলিশের পোশাক তাদের এই ধরনের কাজে সহযোগিতা করে।
দুঃখের বিষয়- এই রকম নানান দুষ্টলোক দ্বারা আমি আক্রান্ত। প্রতিনিহত এইসব দুষ্টলোক আমার আনন্দ শান্তি নষ্ট করছে। যেসব দুষ্টলোক আমার আনন্দ বা শান্তি নষ্ট করছে না কিন্তু অন্যের আনন্দ শান্তি নষ্ট করছে, তখনও আমি কষ্ট পাই, ব্যথিত হই। এইসব নানাবিদ কারনে এই দেশে আমার আর থাকতে ইচ্ছা করে না। নোংরা একটা শহর। নোংরা মানূষের মন মানসিকতা। কুটিলতা আর জটিলতায় ভরা। তারা আপনাকে সহজ সরল সুন্দর জীবনযাপন করতে দিবে না। নো নেভার। আমস্টারডাম চলে যেতে ইচ্ছা করে। শুনেছি খুব সুন্দর। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। মানুষ গুলোও খুব ভদ্র। ওই দেশের পুলিশ সারাদিন শুয়ে বসে থাকে। তাদের কোনো কাজ নেই। কারন দেশের মানুষ গুলো এত বেশি ভদ্র যে তারা কোনো অপরাধ করে। তাদের কারাগার লোক শূন্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




