
দুপুর দুইটা।
চারিদিকে ঝলমলে কড়া রোদ। শাহেদ রমনা পার্কে বসে আছে। রমনা পার্কটা তার সব সময় ভালো লাগে। সকাল, দুপুর আর বিকেল, এই তিন সময়েই রমনা পার্ক বেশ উপভোগ্য। এখন শাহেদ আরাম করে বসে ইন্সটাগ্রামে সুন্দরী মেয়েদের ছবি দেখবে। প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ইন্সটাগ্রাম ব্যবহার করে। লাখ লাখ ছবি। শাহেদ প্রতিদিন বেছে বেছে সুন্দরী নারীদের ফলো, লাইক, কমেন্ট দেয়। অবশ্য এটা তার স্ত্রী নীলা জানে না। জানলে খবর আছে। রমনা পার্কে ঢোকার আগে শাহেদ ফুটপাতের দোকান থেকে রুটি আর ডাল খেয়ে এসেছে পেট ভরে। রুটির বিশাল সাইজ। বাসার বানানো পাঁচটা রুটির সমান ওদের একটা রুটি। শাহেদ একটা রুটি খেয়েছে অনেক কষ্টে। তার পাশে বসা এক রিকশাওয়ালা এই বিশাল আটার রুটি পাঁচটা খেয়ে নিল! এর মধ্যে ডাল শেষ হয়ে যাওয়াতে একটা শুকনো রুটি চিবিয়ে পানি দিয়ে খেয়ে নিল।
শাহেদ মুগ্ধ হয়ে মোবাইলের স্কীনের দিকে তাকিয়ে আছে।
ইন্সটাগ্রামে পৃথিবীর সব দেশের মেয়েদের সে ফলো দিয়ে রেখেছে। দারুন সব রুপসী মেয়ে। সে মনে মনে বলতে বাধ্য হলো, আসলেই কিছু কিছু মেয়ে অত্যাধিক সুন্দর। এতটা সুন্দর না হলেও চলতো। মেয়ে গুলোকে দেখা মাত্র বুকের মধ্যে যেন কেমন করে ওঠে! বুকের মধ্যে কেমন একটা হাহাকার বোধ জাগে। কত রকম পোজ দিয়ে যে ছবি তুলেছে তার ইয়ত্তা নেই। কিছু কিছু ছবি গায়ে কাপন ধরিয়ে দেয় যেন। কি সুন্দর ঠোঁট, কি সুন্দর শরীর, কি সুন্দর হাসি! কি সুন্দর ভরাট বক্ষ! শাহেদ এত এত সুন্দর মেয়ে দেখে মুগ্ধ! অনেক গুলো ভিডিও দেখলো। ভিডিও গুলো দেখে শাহেদের সারা শরীর শির শির করে উঠলো যেন! মধ্য দুপুরে মনের মধ্যে অন্যরকম অন্যায় ইচ্ছা ঢু মারে। শাহেদ একটা স্টার সিগারেট ধরালো। টাকা না থাকায় আজকাল সে বেনসনের বদলে স্টার সিগারেট খাচ্ছে। মুখ ভরতি ধোয়া ছেড়ে গাছের ছায়ায় বেঞ্চে বসে নানান রকম কথা ভাবতে তার বেশ লাগে।
সিগারেট শেষ করে শাহেদ বেঞ্চে মাথা রাখলো আর সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়লো।
গভীর ঘুম। ঘুমের মধ্যে সে স্বপ্নে দেখল- সে আমস্টারডাম শহরের এক চমৎকার বাগানে বসে আছে। বাগানে হাজার রকমের ফুল। চারিদিকে সুন্দর সৌরভ। তারা পরনে রাজা বাদশাদের মতোন পোশাক। যেন সে মধ্যপ্রাচ্যের সম্রাট। তাকে ঘিরে আছে অন্তত দশ জন সুন্দরী নারী। দশ জন নারী এতই সুন্দর যে তাদের দেখলে বেহেশতের হুর বলে মনে হচ্ছে। তারা সবাই চায় শাহেদ তাদের কিছুক্ষন সঙ্গ দিক। শাহেদের সঙ্গ পেলে তাদের জীবন ধন্য হয়। দশ জনকে তো আর এক সঙ্গে সময় দেওয়া যায় না। কিন্তু শাহেদ কাকে বেছে নিবে? সবাই সুন্দর! মনোমুগ্ধকর সুন্দর। শাহেদ বলল, তোমরা সবাই খুব সুন্দরী। তোমাদের দেখে আমি মুগ্ধ! একজন একজন করে তোমাদের সবার সাথে থাকতে পারলে খুব আনন্দ পেতাম। আজ আমার হাতে সময় খুব কম। তবে আমি একটা প্রশ্ন করবো, যে আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তাকে নিয়েই আজ আমি সময় কাটাবো। প্রশ্নটা হলো- ডিমের কুসুমটা সাদা, নাকি ডিমগুলোর কুসুমটা সাদা?
পার্কের বেঞ্চে খুব সুন্দর ঘুম হলো শাহেদের।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে। পার্কে লোকজনের সংখ্যা বাড়ছে। বিকেলে অনেক লোক পার্কে আসে। চারিদিকে সুন্দর পরিবেশ। এরকম পরিবেশে এক কাপ চা হলে বেশ লাগে। শাহেদ এক চা-ওয়ালার কাছ থেকে এক কাপ চা নিল। খুবই ফালতু চা। চায়ে চুমুক দিয়ে শাহেদের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। তবুও সে হাসিমুখে চা শেষ করলো। চা-ওয়ালাকে কিছুই বলল না। শাহেদ মনে করে চা অনেক বড় ব্যাপার। চা-কে তুচ্ছ তাচ্ছিল করা ঠিক না। চা ভালো বানায় তার বউ নীলা। যেদিন নীলার সাথে প্রথম দেখা হয়। শাহেদ বলেছিল- এই মেয়ে তুমি সুন্দর চা বানাতে পারো তো? নীলা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছিল, শুধু চা না আমি সব খাবার'ই ভালো বানাতে পারি। আসলেই নীলার হাতের রান্না বেশ ভালো। প্রতিটা খাবার খুব স্বাদ হয়। নতুন নতুন খাবার বুদ্ধি করে তৈরি করে। সেদিন রান্না করলো কলমি শাক দিয়ে ইলিশ মাছ। দুর্দান্ত হয়েছে।
নীলা গিয়েছে তার বাপের বাড়ি। দশদিন পর ফিরবে।
শাহেদ পুরোপুরি স্বাধীন। স্বাধীনতা সে খুব উপভোগ করছে। সারাদিন সে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। রাতে বাসায় ফিরে। তার বউ ফোনে খোজ খবর নেয়, সে সত্য মিথ্যা কিছু একটা বলে দেয়। নীলা খুব সহজ সরল। শাহেদ যা বলে তাই'ই বিশ্বাস করে। নীলার সরলতা তার খুব ভালো লাগে। কোনো প্যাচগ্যাচ নেই। সরলতা তো দুনিয়া থেকে উঠেই গেছে। সব মানুষের মধ্যে নানান রকম প্যাঁচগ্যাচ। রাতে ঘুমানোর আগে নীলা শাহেদকে ফোন দেয়। শাহেদ নীলাকে কবিতা আবৃত্তি করে শোনায়- ''নিখুঁত সুন্দর তোমায় বানিয়েছে ভগবান। মনে হয় জীবন ভরে দেখি সারাক্ষণ। হৃদয়ের মধুর নীরব বচন করেছে রঙিন। তাই বুঝি নিজেকে লাগছে স্বাধীন। অম্বর থেকে আগত তুমি এক পরী। মন চায় একবার হৃদয় করতে চুরি। এত সুন্দর বদন, ঠিক পুষ্পের মতোন। কোনো জাগতিক সুন্দর হতে পারে না এমন। কোকিলের ন্যায় কন্ঠ দিয়ে তুমি কহ কথা। শুনে মম হৃদয়ের মুছে যায় ...''
কবিতা শুনতে শুনতে নীলা ঘুমিয়ে পড়ে। শাহেদের ঘুম আসে না। শাহেদ জেগে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




