
বড় ভাই, ভাবী অস্ট্রেলিয়া যাবে।
সাথে আমার কলিজার টুকরা পরীও যাবে। প্রায় একমাস থাকবে। অথচ আমি অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে কিছুই জানি না। তাই গত কয়েকদিন অস্ট্রেলিয়া দেশটি নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করলাম। যে কোনো দেশ নিয়ে জানার আগ্রহ আমার সীমাহীন। একটি দেশ সম্পর্কে জানি আর বিপুল আনন্দ পাই। হয়তো এসব দেশে আমার কোনো দিনও যাওয়া হবে না, দেখা হবে না। যেহেতু আমার এসব দেশ সম্পর্কে জানার সুযোগ আছে, তাই সুযোগটা কাজে লাগাই। এবং আমি চাই আমার সাথে সাথে আপনারাও জানুন।
অস্ট্রেলিয়া হল একটি মহাদেশ।
আয়তন মোট ৮৫,৬০,০০০ বর্গকিলোমিটার। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ২৪.৯ মিলিয়ন। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা আর সিডনী বৃহত্তম শহর। সামুদ্রিক মাছের বাজারের জন্যও সিডনি বিখ্যাত। এই দেশটির পাসপোর্টে ১০৯টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী দেশ হচ্ছে নিউজিল্যান্ড নিউগিনি ও ইন্দোনেশিয়া। বিশাল এই অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে অনেক গোত্র আর ভাষার সমাহার রয়েছে। পুরো অস্ট্রেলিয়া যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। দেশটির চারিপাশে যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই মুগ্ধ হবেন। ভ্রমণের জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি চমৎকার জায়গা। এক শ’ এর বেশি সমুদ্র সৈকত রয়েছে সিডনিতে। সব গুলোই এত সুন্দর আপনি দ্বিধায় পড়ে যাবেন কোনটা রেখে কোনটায় যাবেন।
প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বছর আগে অস্ট্রেলিয়াতে প্রথম মানুষ বসতি স্থাপন করে। ব্রিটিশরা যেসব দেশে উপনিবেশ গড়েছে, সেসব দেশের মানুষ অত্যাচারিত হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, অ্যাবরিজিন বা অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসীদের ক্ষেত্রেও একই ভাগ্য বরন করতে হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে অস্ট্রেলিয়ায় যত মানুষ মারা গেছে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও ভয়াবহতার শিকার হয়েছে কুইন্সল্যান্ডে।

আমাদের দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন। খুব কঠিন নিয়ম কানুন। তবে অসম্ভব নয়। সমস্ত কাগজ পত্র ঠিক থাকলে কোনো বেগ পেতে হবে না। এই দেশে প্রতিদিন খাওয়া, থাকা এবং বেড়ানো বাবদ ব্যয় হবে আনুমানিক ১০০ ডলারের উপরে। অস্ট্রেলিয়ায় রোদ খুবই কড়া। টানা পনের বিশ দিন আপনি ঘোরাঘুরি করলে কালো হয়ে যাবেন। ত্বক পুড়ে যাবে আর সেটা স্বাভাবিক হতে লেগে যাবে অনেক দিন। স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য অস্ট্রেলিয়ার বেশ ভালো দেশ।
১৮ বছরের উপরে ছেলে মেয়ে সকলে জব করে। সবকিছুর মূল্য অন্য দেশের চেয়ে অনেক বেশী এই দেশে। কর্মে তাদের কোন ছোটবড় ভেদাভেদ নেই বরং সাপ্তাহিক বেতনের যেকোন জব করতে পারলেই তারা খুশি। অস্ট্রেলিয়ার মানুষ টাকা জমানোর মানসিকতা নেই। তারা যেরকম ইনকাম করে ঠিক সেরকম খরচ করে। এই দেশে নারী ও শিশুর খুব প্রাধন্য। তাদেরকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিশু। এই দেশে যে জন্মালো সে যেন সোনার চামুচ মুখে নিয়ে পৃথিবীতে এলো। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এ শহর। কোথাও কোন ময়লা ধুলো নেই। যানজট নেই। হাসপাতালে দালাল নেই। প্রতিটা নাগরিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অস্ট্রেলিয়ার লোকজন কফি সংস্কৃতিতে আবদ্ধ। মিটিং করবেন তো কফি, বেড়াতে গেলেন তো কফি, আড্ডা দেবেন তো কফি। কফি পাগল অস্ট্রেলিয়ানরা।
প্রতিটা বাড়ীর সামনে ডাস্টবিন থাকে। কেউ রাস্তার মোড়ে ময়লা ফেলে না। রাস্তায় একজন অপরিচিত লোকের সাথে দেখা হলে তারা হ্যালো বলে। অস্ট্রেলিয়া গেলে যে জায়গা গুলো ঘুরে দেখতে হবে। লর্ড হাও দ্বীপ, সিডনি, ওলগাস, টুয়েলভ অ্যাপসটেলস, কাকাডু, গ্রেট বেরিয়ার রিফ ইত্যাদি। অস্ট্রেলিয়ার লোকজন খুব পড়াশোনা করে। জ্ঞানের শহর সিডনি। মানুষ যখনই ভ্রমণ করে বাসে কিংবা ট্রেনে, তখনই অনেকেই বই পড়তে থাকে। তারা অযথা সময় অপচয় করে না। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যদি কখনও মনে হয় বই পড়বেন, দেখবেন রাস্তাতেও ফ্রি গ্রন্থাগার রয়েছে। সিডনিতে খাবারেরও বৈচিত্রের শেষ নেই। কোন দেশের খাবার খেতে চান? চীনা, ভিয়েতনামিজ, ইতালিয়ান, জার্মানি, আরব দেশের খাবার নাকি বাংলাদেশের? সিডনি আসলে মনে হবে সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এক জায়গায় এত দেশের খাবারের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ খুব কম শহরেই পাওয়া যায়।
প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য সে দেশে পা রাখেন। বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটির অবস্থান অস্ট্রেলিয়ায়। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার প্রতিবছর ২৫ কোটি ডলার পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় গুলো সব দেশেই জনপ্রিয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১৯ সকাল ৭:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




