somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভয়ানক পিশাচ

২৬ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উইকিপিডিয়া'তে লেখা আছে- ''পিশাচ একধরনের রূপকথার দানব যে মানুষের মৃতদেহ ভক্ষণ করে। এই প্রাণী কবরের মধ্যে বাস করে বলে মনে করা হয়।'' আমি একজন পিশাচ। কিন্তু কেউ দেখে বুঝতে পারবে না। সবাই মনে করে- আমি একজন আধুনিক সহজ সরল মানুষ। মানব সমাজে বাস করার এই এক মজা। তারা উপরের চাকচিক্য দেখেই- বাহবা দেয়। যাই হোক, আমি আগে পিশাচ ছিলাম না। খুব সাধারণ জীবন-যাপন করতাম। সেই জীবনে কোনো আনন্দ ছিল না। রোমাঞ্চ ছিল না। পিশাচ হওয়ার পর হঠাত জীবন হয়ে গেল দারুন আনন্দময়। এক আকাশ সমান সাহস বেড়ে গেল। আগে রাত্রিবেলা বাথরুমে যেতেও ভয় পেতাম। আর এখন মধ্যরাতে কবরস্থানে বসে থাকলেও ভয় লাগে না।

এখন আমি নিয়মিত জলজ্যান্ত মানুষের রক্ত খাই। যেদিন রক্ত ব্যবস্থা করতে পারি না- সেদিন হাসপাতাল থেকে দুই ব্যাগ রক্ত কিনে নিয়ে আসি। মাসে একবার রক্ত দিয়ে গোছল করি। মানুষের রক্ত অনেক গরম থাকে- তাই রক্ত ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিতে হয়। আমার ক্ষুধা লাগলে- ভাত মাছ যেমন খাই, মানুষের কলিজাও খাই। একটা জীবন্ত মানুষকে খুন করে তার রক্ত এবং কলিজা খুবলে খুবলে খেতে কি যে ভালো লাগে! তবে মেয়েদের কলিজা খেয়ে আরাম বেশী পাই। একেবারে মোমের মতন নরম- মুখে দিলেই গলে-গলে যায়। ধারালো ছুড়ি দিয়ে যখন বুকটা দু'ভাগ করি- কলিজাটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষন তাকিয়ে থাকি- থরথর করে কলিজাটা কাঁপে। আসলে কলিজা তো জমাট বাধা রক্ত'ই।

প্রথম যে মেয়েটার কলিজা খাই, সেই গল্পটা শুনুন- মেয়েটার নাম মায়া। বয়স উনিশ। ইডেন কলেজে পড়তো। দেখতে সহজ সরল সুন্দর। মায়া সব সময় চোখে কাজল দিত। একদিন মেয়েটাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে- আমার ঘরে নিয়ে আসি। চায়ের সাথে চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশিয়ে খাইয়ে দেই। কিছুক্ষনের মধ্যেই মায়ার তন্দ্রাভাব এসে যায়। তখন হাত পা ভালো করে খাটের সাথে বেঁধে ফেলি। চিৎকার যেন না করতে পারে তার জন্য মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেই। আধা ঘন্টা পর মায়ার তন্দ্রা ভাব কেটে যায়। সে চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি ধারালো ছুরি দিয়ে একটু একটু করে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারি। মেয়েটা ব্যাথায় যত ছটফট করে- আমি তত আনন্দ পাই। বেশ কিছু ছবি আমি তুলে রেখেছি- সময় পেলে একদিন আপনাদের দেখাব।

যশোরের নিমতলা শশ্মানের অনেক নাম শুনেছি। আমি পিশাচ হলেও সব কিছুতেই আমার কৌতূহল বেশী। একদিন মধ্যরাত্রে নিমতলা শশ্মানে গিয়ে হাজির হই। আমার ভাগ্য ভালো, গিয়েই একটি দশ বছরের বাচ্চার লাশ পাই। টাকার অভাবে লাকড়ি কিনতে না পেরে- ছোট বাচ্চার লাশটি ফেলে চলে যায়। আহ সে রাতে কত আরাম করে খেয়েছিলাম। সেই স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে। যদিও আমি ছোট বাচ্চা কম খাই। আমি পিশাচ তবু কেন জানি মায়া লাগে। দয়া করে আমাকে রাক্ষস ভাববেন না। আমি শুধু রক্ত আর কলিজা খাই। ইদানিং বাসি রক্ত এবং কলিজা একেবারেই খেতে ইচ্ছা করে না। নিজের হাতে শিকার ধরে কেটে-কুটে খাওয়ার মজাই আলাদা।

আমার আর একটা বাজে অভ্যাস আছে। মৃত মেয়েদের সাথে সেক্স করা। জীবিত মেয়েদের সাথে সেক্স করার চেয়ে মৃত মেয়েদের সাথে সেক্স করে আনন্দ বেশী। ঢাকা মেডিকেলের মর্গে কত মৃত মেয়ের সাথে সেক্স করলাম। তবে আমার ভালো লাগে কোনো মেয়েকে কবর দেওয়ার এক ঘন্টা পর কবর থেকে তুলে সেক্স করতে। জীবিত থেকে মৃত নারীর মুখ অনেক বেশী মায়াময়। সেক্স করা শেষ হলে কলিজা খাই। একেবারে চেটে-পুটে খাই। তারপর যেভাবে কবর থেকে তুলি, সেভাবে আবার কবর দিয়ে দেই। আমার একটি লাল রঙের ডায়েরী আছে। সেই ডায়েরীতে আমার সমস্ত পিশাচ এর কাহিনী লিখে রেখেছি। সেই ডায়েরী যে পড়বে অবশ্যই সে বমি করে ঘর ভাসিয়ে দিবে। হা হা হা...

আমি পিশাচ কিন্তু কেউ জানে না। একটা বড় কোম্পানীতে চাকরী করি। ভালো টাকা বেতন পাই। আমার পিশাচ এর সমস্ত কর্মকান্ড শুরু হয় গভীর রাতে। আমি এতটাই চালাক চতুর যে আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে ধরতে পারেনি। কখনও পারবেও না। আমার চিন্তা- পরিকল্পনা খুবই নিখুত। আপনারা মাঝে মাঝে খবরের কাগজে এবং টিভিতে দেখেন- অমুক জায়গায় এক যুবতীত লাশ উদ্ধার, অমুক জায়গায় গলা কাঁটা লাশ উদ্ধার- সবই আমার কর্ম। মাঝে মাঝে শুধু গলা কেটে ছেড়ে দেই- কলিজা খেতে ইচ্ছা করে না।
যারা পিশাচ হতে চান- তাদেরকে একটা বুদ্ধি দিয়ে দেই- সবার প্রথমে কোনো মৃত নারীর ঠোটে চুমু খাবেন অনেকক্ষন ধরে। তারপর মাঠে ঘাটে ছড়িয়ে পড়ুন শিকারের সন্ধানে। কখন বুঝবেন আপনি পিশাচ হয়েছেন? পিশাচ হওয়ার পর মাটিতে আপনার ছায়া পড়বে না।

( আমার ''টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা' গল্পগ্রন্থে প্রকাশিত একটি গল্প।)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:১৯
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্লগাররা যা ভাবছেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা জুন, ২০২০ রাত ৮:৩৮



আমেরিকানদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হলো- তাদের পুলিশ।
ট্রাম্প আমেরিকাকে পেছনে নিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা পেছনে পড়লে, বিশ্বের ক্ষতি হবে। ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে- ট্রাম্প হয়তো আবারো ক্ষমতায় আসবে। ট্রাম্পের সৌভাগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ

লিখেছেন অনল চৌধুরী, ০১ লা জুন, ২০২০ রাত ১০:৪০



ইউরোপ-এ্যামেরিকায় প্রতিদিন মুসলমান-এশিয় ও আফ্রিকানদের উপর জঘন্য বর্ণবাদী আক্রমণ হয়।
এ্যমেরিকাতে এখনো কালোদের প্রায় ক্রীতদাসই ভাবা হয়।

তাদের প্রতি পুলিশের আচরণই তার প্রমাণ।পুলিশ তাদের যেকোনো সময়ে বিনা অপরাধে গ্রেফতার এমনকি হত্যাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে না এলে যে জিনিষগুলো হয়তো জানাই হত না.........

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা জুন, ২০২০ সকাল ৯:৫০

ছবি: অন্তর্জাল।

ব্লগে না এলে যে জিনিষগুলো হয়তো জানাই হত না.........
আমার ব্লগ জীবনে প্রবেশের চিত্রটা আর দশজনের থেকে একটু ভিন্নরকম ছিল। ২০১০ কি ২০১১ সালের দিককার কথা। কোনো একটা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিড়াল নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিড়ম্বনায় আমি

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০২ রা জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪৬



পরিচিত পরিবারে দাওয়াত ছিলো; উনাদের ছোটভাই দেশ থেকে বেড়াতে এসেছেন; দেশে রাজনীতি করেন; পরিচিত বেশ কয়েকজন এসেছিলেন, অনেক গল্প হলো: রাজনী্তি, মাদক, বাজেট, ভোট! রাত ১২টর দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আফ্রিকান আমেরিকানদের কারণে সাধারণ আমেরিকানরা পরাজিত হবে।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৫:২৬



এবারের বিক্ষোভে আমেরিকান রেসিষ্টরা কোণঠাসা হওয়ার উপক্রম হয়েছিলো; এবারের মতো এত মানুষ আমেরিকায় কোনকালে রাস্তায় নামেনি; ট্রাম্পের ও তার সরকারের লোকদের একগুয়েমীর কারণে করোনা আমেরিকাকে লন্ডবন্ড করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×